kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

জীবন পাওয়া মায়াঙ্কের ব্যাটেই রানপাহাড়ে ভারত

সামীউর রহমান, ইন্দোর থেকে   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জীবন পাওয়া মায়াঙ্কের ব্যাটেই রানপাহাড়ে ভারত

২৪৩ রানের ইনিংসটা খেলে মায়াঙ্ক আগরওয়াল যখন ড্রেসিংরুমের দিকে ফেরত যাওয়ার পথটা ধরেছেন, তখন বাংলাদেশ দলের অনেকেই তাঁর পিঠটা চাপড়ে দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইমরুল কায়েসও, টেস্টের প্রথম দিনেই ৩২ রানে থাকা মায়াঙ্কের ক্যাচটা তিনিই ফেলেছেন। কাল তাই সংবাদ সম্মেলনে আসা মায়াঙ্কের কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘পিঠ চাপড়ে দিতে আসা ইমরুলকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন নিশ্চয়ই, ক্যাচটা ফেলে দেওয়ার জন্য!’ হেসে ওঠা মায়াঙ্কের উত্তর ছিল, ‘না, ধন্যবাদ জানাইনি আসলে। তবে তখন মনে মনে ভেবেছিলাম, সুযোগ একটা পেয়েছি যখন সেটাকে বড় স্কোর করেই কাজে লাগাব।’ এমনকি ২৪৩ রান করে আউট হওয়ার পরও মায়াঙ্কের মনে হয়েছে, ওই বলে ওরকম শট খেলা ঠিক হয়নি, ব্যাটিং চালিয়ে গেলে হয়তো ট্রিপল সেঞ্চুরিটাও হতে পারত। এখানেই তফাত মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে মায়াঙ্ক আগরওয়ালের। দুজনের টেস্ট ম্যাচের সংখ্যায় পার্থক্য ৬০। তবুও মুশফিক দুটো জীবন পেয়ে থেমে যান ৪৩ রানে আর মায়াঙ্ক করেন ২৪৩ রান!

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষেই ইনিংস পরাজয় চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাদেশকে। ১ উইকেটে ৮৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা ভারত কাল আরো ৫ উইকেট হারিয়ে তুলেছে আরো ৪০৭ রান! ৬ উইকেটে ৪৯৭ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ভারত, মায়াঙ্ক আগরওয়ালের ডাবল সেঞ্চুরির সঙ্গে চেতেশ্বর পূজারা, আজিঙ্কা রাহানে ও রবীন্দ্র জাদেজার হাফসেঞ্চুরিতে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে ভারত। অথচ দিনের শুরুর একটা ঘণ্টা দারুণভাবেই ম্যাচে ফিরেছিল বাংলাদেশ। ভয়ের সবচেয়ে বড় কারণ বিরাট কোহলিকেই রাহি আউট করে দেন শূন্য রানে। ইন্দোরের গ্যালারি নিস্তব্ধ। কিন্তু সেখান থেকেই মায়াঙ্ক এবং রাহানে আবারও ইনিংস মেরামতে মনোযোগ দেন, শেষ বেলায় নেমে রানের গতি বাড়িয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা ও উমেশ যাদব। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৪৩ রানের লিড ভারতের, কাল ম্যাচ শেষের পর নেটে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের গোলাপি বলে অনুশীলন করতে দেখে ধরে নেওয়া যেতে পারে দ্বিতীয় ইনিংসে লাল বলে তাঁরা আর ব্যাট করতে নামতে চাইছেন না! 

কোহলি ক্যাচ ছেড়েছেন স্লিপে। রান করেছেন শূন্য। তবুও ড্রেসিংরুমে তাক করা ক্যামেরায় তাঁকে দেখা গেছে হাসিমুখে। কেনই বা রামগরুড়ের ছানার মতো মুখ গোমড়া করবেন, রান তো আসছে বানের পানির মতো! রাহানের সঙ্গে জুটি বেঁধে একটু রয়েসয়ে খেলছিলেন মায়াঙ্ক, শতরান পূরণ করার পর গিয়ার বদলেছেন এবং দুই শর মাইলফলক স্পর্শ করার পর তো রীতিমতো টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। ১০০ করেছেন ১৮৩ বলে, ২০০ রানে পৌঁছেছেন ৩০৩ বল খেলার পর; পরের ৪৩ রান ২৭ বলে! মোট ২৮টি বাউন্ডারি, দুটি ছক্কা মায়াঙ্কের ২৪৩ রানের ইনিংসে। ২ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম পাওয়া শতরানটাকেই দ্বিশতকে রূপ দিয়েছিলেন মায়াঙ্ক, কাল দেখা পেলেন আরো একটি দুই শ ছাড়ানো রানের ইনিংসের। আট টেস্টের ক্যারিয়ারে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি ডন ব্র্যাডম্যানেরও ছিল না! দিনের শেষবেলায় রীতিমতো পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন মায়াঙ্ক ও জাদেজা। মায়াঙ্কের বিদায়ের পর উমেশ যাদবও ছেড়ে কথা বলেননি। ৩ ছক্কায় ১০ বলে ২৫ রান করে অপরাজিত উমেশের সঙ্গে আজ নামবেন ৭৬ বলে ৬০ রানে অপরাজিত জাদেজা।

অথচ দিনের শুরুটায় আশার আলোই দেখছিল বাংলাদেশ। সকালের শিশিরভেজা উইকেটে বেশ ভালো বোলিং করছিলেন আবু জায়েদ রাহি। হাফসেঞ্চুরি করার একটু পরই বদলি ফিল্ডার সাইফ হাসানের দারুণ ক্যাচের শিকার হয়ে বিদায় নেন পূজারা। রাহির পরের ওভারেই শূন্য রানে আউট বিরাট কোহলি। আম্পায়ার রড টাকার অবশ্য প্রথমে রাহির আবেদনে সাড়া দেননি, এরপর রিভিউ নিলে টিভি আম্পায়ার দেখেন অফস্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরের দিকে ঢোকা বলটা লাগছিল স্টাম্পেই। মাত্র ২ বলেই খতম কোহলিয়ানা! ইন্দোর স্তব্ধ। দশমবারের মতো শূন্য রানে আউট হলেন কোহলি, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবার। ১১৯ রানে ভারতের ৩ উইকেট তুলে নেওয়ার পর একটি অলীক সম্ভাবনা হলেও জেগেছিল বাংলাদেশের, হয়তো তাদের আটকে দেওয়া যেত তিন শর নিচেও, যেটা বলছিলেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। কিন্তু ঢোঁড়া সাপের মতো নির্বিষ বোলিং নিয়ে আর যা-ই হোক বিশ্বের এক নম্বর দলকে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব নয়। মায়াঙ্কই বলছিলেন, ‘একটা স্পেল খুব ভালো করছিল ও (রাহি)। কিন্তু আমরা অপেক্ষায় ছিলাম যে এই স্পেলটা যেতে দিই। এরপর বাজে বলগুলোতে বাউন্ডারি মেরেছি, রান এসেছে, চাপটা সরে গেছে।’ এক প্রান্তে রাহি ভালো বল করলেও অন্য প্রান্ত থেকে আলগা সব বল পেয়ে রান করে উইকেটে থিতু হয়ে গেছেন রাহানে ও মায়াঙ্ক। তাঁদের পর উমেশ ও জাদেজার বেপরোয়া ব্যাটিংয়েই পাঁচ শর খুব কাছে ভারত। কোহলির ভেতর ইনিংস ছাড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। খুব সম্ভবত কাল মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত ব্যাট করার ইচ্ছা ভারতের, তারপর বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে নামিয়ে ফের একবার গুঁড়িয়ে দেওয়াটাই লক্ষ্য।

ভারত সফরে আসার আগে বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হয়ে এসেছিল জুয়াড়ি দীপক আগরওয়ালের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের কথোপকথনের জের ধরে নিষিদ্ধ হওয়া। নাগপুরে এক দীপক (দীপক চাহার) বোলিং দিয়ে শেষ করেছেন, ইন্দোরে আরো এক আগরওয়াল ব্যাট দিয়েই শেষ করে দিলেন বাংলাদেশের সব প্রতিরোধ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা