kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

আবার সেই ব্যাটিং দুঃস্বপ্ন

সামীউর রহমান , ইন্দোর থেকে

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবার সেই ব্যাটিং দুঃস্বপ্ন

মারাঠা সাম্রাজ্যের অশ্বারোহী বাহিনীই বাংলায় পরিচিত বর্গী নামে। ঘোড়ায় চড়া বল্লম হাতের এই দ্রুতগামী বাহিনীর আক্রমণে তছনছ হয়েছে বাংলার অনেক গ্রাম। বর্গীদের অত্যাচারের গল্প ঢুকে গেছে বাংলার লোক-সংস্কৃতিতেও। সেই মারাঠা সাম্রাজ্যের সাবেক রাজধানী ইন্দোরে, মারাঠা সম্রাট হোলকারের নামের স্টেডিয়ামে ভারতীয় বোলাররা বর্গীর মতোই আক্রমণ করে তছনছ করে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে,

বাংলাদেশের প্রথম পদক্ষেপটাই হয়েছে বিবর্ণ। টসে জিতে বোলিং সহায়ক উইকেটে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত মমিনুল হকের, এরপর ভারতের শক্তিশালী পেস বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ। মাঝে মুশফিকুর রহিম ও মমিনুলের মৃদু প্রতিরোধ।

প্রথম দিনের চা বিরতির একটু পরই ১৫০ রানে অল আউট বাংলাদেশ। জবাবে প্রথম দিনের খেলা শেষে ২৬ ওভারে ১ উইকেটে ৮৬ রান ভারতের। উইকেটের ঘরে সংখ্যাটা হতে পারত ২, যদি না মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ক্যাচটা না ছাড়তেন ইমরুল কায়েস।

ম্যাচের প্রথম ১৮টি বলের একটিও ব্যাটে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের একজনও। শাঁই শাঁই করে কানের পাশ দিয়ে ছুটেছে বল। উমেশ যাদবের করা স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে থার্ড স্লিপে আজিঙ্কা রাহানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরার রাস্তাটা দেখিয়ে দিয়েছেন ইমরুল কায়েস। এরপর বাকিরাও তাঁর পথে। বিরাট কোহলি ও রাহানে যদি ক্যাচগুলো না ফেলতেন, তাহলে হয়তো দেড় শও পার হতো না বাংলাদেশের। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জোড়ায় জোড়ায় উইকেট পতনের যে রোগ দেখা গিয়েছিল, খেলোয়াড় বদলের সঙ্গে সঙ্গে বল ও জার্সির রং বদলালেও রোগ সারেনি। দলীয় ১২ রানে, ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে ও সপ্তম ওভারের শেষ বলে আউট হয়েছেন ইমরুল ও সাদমান। টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে চারে এলেন মোহাম্মদ মিথুন, অথচ চারে ব্যাটিংয়ের জন্যই নাকি উইকেটের পেছনে না দাঁড়াবার সিদ্ধান্ত মুশফিকুর রহিমের। মিথুন তাঁর সাধ্য অনুযায়ী খেলে সামির লেট সুইং বুঝতে না পেরে লেগ বিফোর উইকেট। এরপর মুশফিক-মমিনুল, বিকেএসপির দুই সাবেকের ৬৮ রানের জুটিতে যখন মনে হচ্ছিল শুরুর ধাক্কাটা সামলে উঠেছে বাংলাদেশ, তখনই রবিচন্দ্রন অশ্বিনের আপাত নিরীহ বলে বোল্ড মমিনুল। বলটা বাঁক খেয়ে বেরিয়ে যাবে ভেবে খেলেছিলেন, বলটা সোজা গিয়ে ভেঙে দেয় স্টাম্প। অশ্বিনের বলেই অপরাধীর মতো আউট হয়েছেন মাহমুদ উল্লাহ, যখন তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের। অফসাইডে সরে গিয়ে সুইপ করার চেষ্টা করেছিলেন, হয়েছেন বোল্ড।

শেষ টি-টোয়েন্টিতে দীপক চাহার করেছিলেন হ্যাটট্রিক। ইন্দোরে ভারতীয় দল মিলে করল হ্যাটট্রিক! সামির ইনসুইংয়ে পরাস্ত মুশফিক, পরের বলে মেহেদী হাসান মিরাজও লেগ বিফোর উইকেটের শিকার। এরপর চা বিরতি, ফের খেলা শুরু হতেই প্রথম বলে স্লিপে ক্যাচ লিটন দাসের। স্কোরবোর্ডে দলীয় রানের ঘরে ১৪০ রেখেই আউট হয়েছেন তিনজন। এরপর আর বেশি দূর এগোয়নি বাংলাদেশের ইনিংস। তাইজুলের রান আউটের পর এবাদত হোসেনের বোল্ড আউটে ৫৮.৩ ওভারেই ১৫০ রানে অল আউট বাংলাদেশ। ৩ উইকেট সামির আর জোড়া শিকার উমেশ, ঈশান্ত ও অশ্বিনের।

প্রথম ইনিংসে কোনো দল যদি অর্ধেক দিনের কিছু বেশি সময়ে ১৫০ রানে অল আউট হয়ে যায়, তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই টেস্টের লাগাম ফসকে যায় তাদের হাত থেকে। রোহিত শর্মাকে মাত্র ৬ রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আশার শুরু এনে দিয়েছিলেন আবু জায়েদ। কিন্তু অন্য পাশ থেকে এবাদতের নির্বিষ বোলিং কোনো চাপেই ফেলতে পারেনি মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও চেতেশ্বর পূজারার ওপর। এর মাঝেও স্লিপে একটি ক্যাচ দিয়েছিলেন আগারওয়াল, কিন্তু ইমরুল কায়েস সেটাও ফেলে দেন হাত থেকে।

ইন্দোর টেস্টের প্রথম দিনেই বর্গী হামলায় তছনছ বাংলাদেশ। রসুন বোনার গল্প, অর্থাৎ দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়াবার গল্পও মনে হচ্ছে এখানে ধোপে টিকবে না। কারণ অশ্বিন ও জাদেজাও যে আছেন!

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা