kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

সংসদে তীব্র ক্ষোভ

কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান দাবি

বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকার ও বিরোধী দলের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা। তাঁরা বলেছেন, বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি না থাকলেও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে কারসাজির মাধ্যমে মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। তাই কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মাদক কারবারিদের মতো দু-একজনের বন্দুকযুদ্ধে যাওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা এমন মন্তব্য করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সম্পর্কিত আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও সাবেক প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু ও বিএনপির হারুনুর রশিদ।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আলোচনার সূত্রপাত করে পেঁয়াজের ঝাঁজ কমাতে বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘এত সুদক্ষ একটি মন্ত্রিসভা, এর দুজন মন্ত্রী এখানে আছেন। তাঁদের অনুরোধ করতে চাই, পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশি হয়ে গেছে। জনগণের মধ্যে একটা রি-অ্যাকশন হচ্ছে। আজকে পর্যন্ত যে খবর আছে, তাতে পেঁয়াজের কেজি প্রায় ২০০ টাকা হয়ে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এত জনপ্রিয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছি। কী কারণে প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাচ্ছে? বাণিজ্যমন্ত্রী যখন সংসদে বলেন, ১০০ টাকার নিচে নামবে না, তখন তো ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেয়ে যায়। মন্ত্রী প্রয়োজনে বিদেশ থেকে আমদানি করছেন বলেছেন। এর পরও কেন দাম বাড়ছে? ব্যাপারটা বোধগম্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘এতে আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে বলেছিলেন পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করেছিলেন পেঁয়াজের রপ্তানি বন্ধ করবেন না। এখন পেঁয়াজের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, আরো তৎপর হওয়া উচিত।’

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল হয়েছে। এই প্রাকৃতিক ?দুর্যোগের কারণে দাম একটু বেড়েছে। একটু না, আজকে পত্রিকায় দেখলাম ২০০ টাকা কেজি। এটা কোনো দিন আমরা ভাবি নাই। বর্ষার কারণে ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন হয়নি। সাধারণত এগুলো আমরা আগেই ?মূল্যায়ন করি। আমাদের বার্ষিক চাহিদা কত আছে। আর যেটা ঘাটতি, সেটা তুরস্ক বা মিসরসহ মিয়ানমার থেকে আগেই আমদানি করার ব্যবস্থা করি। টিসিবি সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীকে বলব যারা পেঁয়াজ আমদানি করে তাদের সুযোগ-সুবিধা দেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের যখন কোনো একটা পণ্যের দাম বাড়ে, আমরা তার ওপর ডিউটি কমিয়ে দিই। আমি মনে করি এ মুহূর্তে পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য অন্তত কিছুদিনের জন্য পেঁয়াজের ডিউটি শূন্য করে দেন।’

অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি যখন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম তখন লবণের দাম বেড়েছিল। তখন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে অনুরোধ করার পর লবণ আমদানি ডিউটি ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এ খবর পরিবেশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লবণের মূল্য স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ রকম একটা ঘোষণা দেন ‘পেঁয়াজ আমদানি করতে কোনো শুল্ক বা ডিউটি লাগবে না,’ তাহলে দেখবেন এর একটা প্রভাব পড়বে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে।’ সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এ প্রসঙ্গে বলেন, আসলেই বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ আছে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। এ জন্য দুর্নীতিবাজরা এটা করতে পারে। এটা মানা যায় না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।  প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আমি আহ্বান জানাই। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন, যাতে পেঁয়াজের দাম কমে। মানুষের দুর্ভোগ দূর হয়। সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বিএনপির হারুনুর রশিদ বলেন, পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘দুই দিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী বললেন পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আছে। এ কথা বলার পরদিনই পেঁয়াজের কেজি ১৫০ টাকা হয়ে গেল। এখন ২০০ টাকা কেজি। নিউজে দেখলাম পেঁয়াজের দাম না পাওয়ায় ভারতের কৃষকরা কাঁদছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের এত ভালো সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী যদি নিজে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিতেন, তাহলে হয়তো এ সমস্যাটা থাকত না।’ তিনি আরো বলেন, বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ আছে। এর পরও দাম বাড়ছে। এখন একটি অভিযান চালানো দরকার। তাহলে এই সমস্যাটা আর থাকবে না। জাপাদলীয় এ সদস্য বলেন, ‘মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীরা ধরা পড়ে। পরে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। যারা পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে, তাদের একজন মারা যাক না এমনই বন্দুকযুদ্ধে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা