kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

সামাজিক বিচারেই এখনো আস্থা

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সামাজিক বিচারেই এখনো আস্থা

জরিপ অনুসন্ধানে আমাদের একটি জিজ্ঞাসা ছিল—ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য মানুষ কার কাছে যায়? এই প্রশ্নের জবাবে সামাজিক সালিসি ব্যবস্থার প্রতিই আস্থা দেখিয়েছেন বেশির ভাগ মানুষ।

কোনো অন্যায়/অপরাধের শিকার হলে ন্যায়বিচারের জন্য কার কাছে যান—প্রশ্নের উত্তরে সালিসি বিচারের আশায় এলাকা/গ্রাম/গোষ্ঠীর মুরব্বিদের কাছে যাওয়ার কথা বলেছেন ৪৬.১ শতাংশ মানুষ। থানা পুলিশের কাছে যাওয়ার কথা বলেছেন ২১.১%; সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার প্রার্থনার কথা বলেছেন ১৪.৭%; গ্রাম আদালতে যাওয়ার কথা বলেছেন ৮.৭%। আর আইন-আদালতের কথা বলেছেন মাত্র ৬.৮%। অন্যান্য জায়গার কথা বলেছেন ২.৬ শতাংশ।

বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন বিশিষ্টজনরা?

খ্যাতিমান গবেষক আফসান চৌধুরীর মতে, জরিপে যে ধারণা উঠে এসেছে তাতে প্রতীয়মান হচ্ছে, আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। এটা অন্যান্য গবেষণায়ও উঠে এসেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপরই মানুষ বেশি নির্ভর করছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। তার মানে রাষ্ট্রব্যবস্থাটাই এখনো দুর্বল।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, সামাজিক বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা প্রদর্শনের দুটি প্রধান কারণ—আমাদের বিচারপ্রক্রিয়া জটিল এবং ব্যয়বহুলও। এ কারণে মানুষ সহজে সেখানে যেতে চায় না। সার্বিকভাবে বিচারব্যবস্থার সামাজিক বিশ্লেষণ করলে আমাদের বিচারব্যবস্থায় তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। একটা হলো দীর্ঘসূত্রতা; আরেকটি ব্যয়বহুলতা; অন্যটা ফলাফলের অনিশ্চয়তা। এসব কারণে মানুষ সামাজিক ব্যবস্থা বা সালিসি ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেয়। সালিসি ব্যবস্থায় ব্যয় কম, ফলাফলটাও নিশ্চিত। এখন বিশ্বব্যাপী সালিসি ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটাকে বলে Alternative dispute resolution (ADR)) বা সালিসি পন্থায় সমাধান। বড় অপরাধ ছাড়া ছোটখাটো ঝগড়া-বিবাদ, জমি নিয়ে বিরোধ—যেগুলো থেকে পরে বড় বিপদ হতে পারে তা সালিসি ব্যবস্থায় মিটিয়ে ফেলা সম্ভব। বিচারব্যবস্থায় এডিআর এখন একটি স্বীকৃত ব্যবস্থা হিসেবে এসেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা