kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিপদ বেশি, সহায় কম

কথায় বলে, ‘বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু।’ আমাদের জীবনে বিপদ আছে পদে পদে; কিন্তু বিপদের বন্ধু কি আছে? দেশের কোনো নাগরিক বিপদে পড়লে সাহায্য চাইবে রাষ্ট্রের কাছে; রাষ্ট্রই ব্যবস্থা রাখবে উদ্ধারের—এটাই তো স্বাভাবিক। সে ব্যবস্থা আছেও। কিন্তু কতটা কার্যকর? দেশের মানুষ কি বিপদে পড়লে রাষ্ট্রযন্ত্রের শরণাপন্ন হয়? সাহায্য পায়? পেলেও কতটা? কোনো পরিসংখ্যান আছে কি না জানা নেই। কালের কণ্ঠ চেষ্টা করেছে নিজস্ব আয়োজনে দেশব্যাপী জরিপ অনুসন্ধান চালিয়ে এবিষয়ক তথ্য-উপাত্ত বের করার। এর ভিত্তিতে যে ধারণাচিত্র পাওয়া গেছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো

আজিজুল পারভেজ   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



বিপদ বেশি, সহায় কম

ঘটনাটা বগুড়ায়। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মারা যান, আহত মা হন চিরতরে পঙ্গু। অসহায় দুই বোন তখন হাই স্কুলে পড়ে। মায়ের চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয় অনেক টাকা। যৌথ পরিবারে চাচারা দুই বোনের পড়ালেখা আর চালাতে চান না। জানান, যৌথ সম্পত্তিতে তাদের বাবার যে অংশ ছিল, তা এরই মধ্যে তাদের মায়ের চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে গেছে। তাদের আর কিছু নেই। কিন্তু যেকোনো মূল্যে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প নিয়ে অসুস্থ মাকে নানার আশ্রয়ে রেখে একপর্যায়ে বগুড়ার জলেশ্বরীতলার বাড়ি ছাড়ে দুই বোন। ঢাকায় এসে দূরসম্পর্কের এক চাচার বাসায় ওঠে, যিনি ঢাকায় এলে চাকরি দেওয়ার নিশ্চয়তা দেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই এক রাতে সেই বাসায় ধর্ষণের শিকার হয় বড় বোন। পরদিনই সেই বাসা ছেড়ে গার্মেন্টকর্মীদের একটা মেসে ওঠে দুই বোন। বড় বোন খিলগাঁওয়ের একটি গার্মেন্টে চাকরি নেন, ছোট বোন কলেজে ভর্তি হন। ধর্ষিত হওয়ার মতো বিপদে পড়েও আইনের আশ্রয় নেননি মেয়েটি।

২. রাজধানীর বাড্ডা এলাকার মাদানী সড়কে ফুটপাতে পিঠা বিক্রি করতেন ৬০ বছর বয়সী এক নারী। গত বছর একদিন জায়গাটির ওপর কুনজর পড়ে এলাকার এক উঠতি মাস্তানের, যে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত। প্রথমে চাঁদা দাবি, তারপর উচ্ছেদের জন্য নানা অত্যাচার। তার পরও বৃদ্ধা জায়গাটি না ছাড়লে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ইয়াবা বিক্রির ধুয়া তুলে দলবল নিয়ে হামলা চালায়, বৃদ্ধাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে সব কিছু ভেঙে দিয়ে চলে যায়।

বিপদগ্রস্ত এই নারীও কারো কাছে উদ্ধার পেতে যাননি।

৩. একটি ওষুধ কম্পানির একজন বিক্রয় প্রতিনিধি সারা দিন কাজ শেষে বাসায় ফিরতে রাত ১২টা বেজে যায়। গত জানুয়ারিতে এক রাতে খিলগাঁওয়ে তাঁর মহল্লার নিরাপত্তা গেট বন্ধ হয়ে গেছে। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ডাকার জন্য মোটরসাইকেলের হর্ন বাজাতে থাকলে এক অপরিচিত যুবক এসে ধমক লাগায়, ‘দেখছেন না, আমরা লিডারের সঙ্গে কথা বলছি। আপনি বাইক স্টার্ট রেখে আবার হর্ন বাজাচ্ছেন!’ কথা বলতে বলতেই যুবকটি বাইক বন্ধ করে চাবি নিয়ে চলে যায়। তারপর অনেক ঘটনা। সেই লিডার, যিনি একটি রাজনৈতিক দলের ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক, তাঁর কাছে মাফ চেয়ে, ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে দুই দিন পর বাইকটি ফেরত পাওয়া যায়। এই অপমান, হয়রানি ও অর্থদণ্ডের পরও ওই বিক্রয় প্রতিনিধি কারো কাছে বিচার চাওয়ার চিন্তাও করেননি।

এই ঘটনাগুলো কালের কণ্ঠ থেকে একটি জরিপ অনুসন্ধান পরিচালনাকালে পাওয়া অনেক ঘটনার কয়েকটি মাত্র। ‘আকস্মিক সমস্যায়/বিপদে পড়ে মানুষ প্রথম কার কাছে সাহায্য চায় : বিচারের জন্য কার কাছে যায়’—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই জরিপ অনুসন্ধানটি চালানো হয়। এতে যে তথ্যগুলো প্রকট হয়ে উঠে এসেছে, তা হলো—আকস্মিক সমস্যা/বিপদে পড়ার আশঙ্কায় থাকেন দেশের ৮০.২ শতাংশ মানুষ; আর নিজেরা বিপদে পড়েছেন বলে তথ্য দিয়েছেন ৬০.৭ শতাংশ মানুষ। বিপদে পড়ে সাহায্য পেতে প্রথম কার কাছে যান, সে প্রশ্নে পাওয়া গেছে—২২.৭ শতাংশ মানুষ সাহায্যের জন্য প্রথম যান জনপ্রতিনিধির কাছে; ১৭.৮ শতাংশ যান সমাজের মুরব্বিদের কাছে; ১৩.৬ শতাংশ যান পুলিশের কাছে। বাকি ৪৫.৯ শতাংশ মানুষ অন্যান্য সহায়কের কাছে যাওয়ার কথা বলেছেন (ছক দেখুন)। জরিপে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা হলো—বিপদে পড়েও সহজে উদ্ধার বা সাহায্য পাননি ৬১.৮ শতাংশ মানুষ।

জরিপে যে চিত্রটি আরো আশঙ্কাজনক বলে উঠে এসেছে, সেটি হলো—দেশের নাগরিকদের বিপদ-আপদে ভরসাস্থল হিসেবে রাষ্ট্র যে প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে, সেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রথম সাহায্যের জন্য যান না ৮৬.৪ শতাংশ মানুষ, কারণ পুলিশের প্রতি আস্থা নেই তাঁদের অথচ এখনো ৪০.১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কাঙ্ক্ষিত সাহায্যটি পুলিশের কাছ থেকেই পাওয়া উচিত। অবশ্য তথ্য প্রদানকারীদের একটি অংশ তাঁদের ঘটনা পুলিশ-সংশ্লিষ্ট না হওয়ায় পুলিশের কাছে যাননি বলে জানিয়েছেন। 

জনপ্রতিনিধি, মুরব্বি বা অন্যদের কাছে সাহায্য চাওয়ার পরও যাঁরা সমাধান পাননি, তাঁরা দ্বিতীয় চেষ্টা হিসেবেও পুলিশের সহযোগিতা চান না। দ্বিতীয় পদক্ষেপে পুলিশের সহায়তা চান মাত্র ১১.৯ শতাংশ। আবার যাঁরা পুলিশের সাহায্য চেয়েছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাহায্য না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি টিআইবি পরিচালিত এক জরিপে পুলিশের কাছে মানুষের সাহায্য চাওয়ার হার আরো কম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন— বিশিষ্ট গবেষক আফসান চৌধুরী।

অন্যদিকে কোনো অন্যায়-অবিচারের শিকার হলে ন্যায়বিচার পেতে মানুষ সবচেয়ে বেশি যান গ্রাম/গোষ্ঠীর মুরব্বিদের কাছে—৪৬.১ শতাংশ। এর পরই থানা পুলিশের কাছে যান ২১.১ শতাংশ; সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার চান ১৪.৭ শতাংশ আর গ্রাম আদালতে যান ৮.৭ শতাংশ। আদালত তথা জজকোর্ট-হাইকোর্টে ন্যায়বিচারের জন্য যান মাত্র ৬.৮ শতাংশ মানুষ।

জরিপ অনুসন্ধানে ন্যায়বিচার পেতে কী করা উচিত—এই প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি—৪৮.৬ শতাংশ মানুষ চেয়েছেন দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। এরপরই ২২ শতাংশ মানুষ ভরসা চেয়েছেন স্বাধীন ও উপযুক্ত বিচারব্যবস্থায়।

দেশের ৯৬৮ জন মানুষের সরাসরি সাক্ষাৎকারে দেওয়া তথ্য ও মতামতের ভিত্তিতে এই ধারণা পাওয়া গেছে। গত প্রায় দুই মাস ধরে কালের কণ্ঠ’র সারা দেশের ৫৯ জন প্রতিবেদক ও প্রতিনিধি এই জরিপকাজে অংশ নেন। ব্যক্তিপর্যায়ের তথ্য কখনো প্রকাশ করা হবে না—প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ কারণে ঘটনা-সংশ্লিষ্টদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হলো না।

বিপদে পড়ে এবং ন্যায়বিচার পেতে কেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুলিশ প্রশাসন কিংবা আইন-আদালতের আশ্রয় নেন না মানুষ, তার কারণ অনুসন্ধানও ছিল আমাদের জরিপের বিষয়। বগুড়ার যে ঘটনাটি শুরুতেই বলা হয়েছে, সেই নারী গার্মেন্টকর্মী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বেঁচে থাকাটাই আমাদের সংগ্রাম। পুলিশের কাছে গেলে যে টাকা লাগবে, তা তো ছিল না। আর পুলিশ যে ব্যবস্থা নেবে তারই বা নিশ্চয়তা কী? তার চেয়ে নিজের দুঃখ নিজের মধ্যেই থাক।’

পিঠা বিক্রেতা নারীর বক্তব্য—‘যারা মাস্তানি করল, তারাই তো থানা পুলিশের লোক। আমরা গেলে কি পুলিশ আমাদের কথা শুনত?’

আর ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির বক্তব্য—‘পুলিশই তো ওদের পোষে। না হলে তারা এত সাহস পায় কোথায়? পুলিশের কাছে গেলে আরো বেশি ঝামেলা হতে পারে, তাই যাইনি।’

এ বিষয়ে জরিপের তথ্য কী বলছে? বিপদে পড়েও পুলিশের সহায়তা না চাওয়ার কারণ হিসেবে ২৬ শতাংশ বলেছেন আস্থা নেই। হয়রানির ভয়ের কথা বলেছেন ২৫.২ শতাংশ। প্রয়োজন পড়েনি বলেছেন ২৪.১ শতাংশ। ঘুষের ভয়ের কথা বলেছেন ১৪.৬ শতাংশ। মাধ্যম বা দালাল না থাকার কথা বলেছেন ১০ শতাংশ। আর ন্যায়বিচার পেতে আইনের আশ্রয় কেন নিতে চান না মানুষ, সে বিষয়ে অনেকে খোলাসা করে কিছু বলতে না চাওয়ায় জরিপে সংখ্যাগত উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য উঠে আসেনি। তবে এ বিষয়ে বিশিষ্ট গবেষক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘সার্বিকভাবে আমাদের বিচারব্যবস্থার সামাজিক বিশ্লেষণ করলে তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। একটা হলো দীর্ঘসূত্রতা; আরেকটি ব্যয়বহুলতা; অন্যটা ফলাফলের অনিশ্চয়তা। এসব কারণে মানুষ আইন-আদালতে না গিয়ে সামাজিক ব্যবস্থা তথা সালিসি ব্যবস্থাকেই প্রাধান্য দেয়। সালিসি ব্যবস্থায় ব্যয় কম, ফলাফলটাও নিশ্চিত।

ওদিকে বিপদে পড়েও পুলিশের কাছে না যাওয়ার বিষয়টিকে পুলিশের প্রতি আস্থাহীনতার প্রকাশ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের প্রশ্ন, নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব যাদের, তাদের ওপরই যদি আস্থা না থাকে তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?

নাগরিক আন্দোলনের নেতা, বিশিষ্ট গবেষক-বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদের মতে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার কারণেই পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ রাষ্ট্রের হয়ে, জনগণের হয়ে কাজ করার বদলে সরকারি দলের সহযোগী হয়ে কাজ করছে। এ কারণে মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। বিষয়টি খুবই গুরুতর। আরো দুটি কারণ আছে। প্রথমত—আইনি জটিলতা। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ পুলিশের জেরার মুখে নিজের ক্ষতির প্রমাণ কিভাবে দেবে, তা নিয়ে ভীতির মধ্যে থাকে। আরো যদি বিপদগ্রস্ত হতে হয়, তাঁকেই যদি ফাঁসিয়ে দেয় পুলিশ—এই ভয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত—পুলিশেরই একটা শ্রেণি বিপদগ্রস্তকে সাহায্য না করে তার কাছ থেকে উল্টো সুবিধা আদায় করতে চায়; নিজেরাও অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। ফলে উপকার পাওয়ার চেয়ে আরো বেশি ঝামেলায় জড়িয়ে যাওয়ার ভয়ের মধ্যে থাকে বিপদগ্রস্তরা।’

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, ‘সার্বিকভাবে বিষয়টি খুবই অস্বস্তিকর। বিপদে সহায়তা পাওয়া, নিরাপত্তা পাওয়া মানুষের নাগরিক অধিকার। কিছু বিপদ হয়তো আকস্মিক ঘটে যাচ্ছে, আবার কিছু বিপদ আছে পরিবেশগত—মাস্তানতন্ত্র, ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়, যা বিপদ তৈরি করে। যে পরিবেশ বিপদ তৈরি করে সেখানে মানুষ পুলিশকে বিপদ তৈরির সহায়ক মনে করছে অথবা পুলিশকে অসহায় মনে করছে। ভাবছে, এরা হয়তো জিম্মি, কিছুই করতে পারবে না। সে কারণে পুলিশের কাছে যেতে আস্থা পাচ্ছেন না। এমন না যে, পুলিশের কারিগরি দক্ষতার ঘাটতি আছে। আবার পুলিশের কাছে যাওয়ার প্রক্রিয়াগুলোও জনবান্ধব নয়। একজন নারী বিপদে পড়লে যে পুলিশের আশ্রয় নেবেন, থানাগুলো তো অতটা নারীবান্ধব নয়। প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণেও মানুষ উৎসাহবোধ করে না। আরেকটা হচ্ছে—সেবার মানসিকতার ঘাটতি। ওখানে গিয়ে ফলাফল পাওয়া সম্পর্কেও আস্থাহীনতা আছে। কিন্তু পুলিশের সেবার চাহিদাটা মানুষের কাছে প্রকট আকারে আছে।’

পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। এই আস্থা ফিরিয়ে আনার করণীয় সম্পর্কে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘আস্থা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব প্রথমত পুলিশ বিভাগকেই নিতে হবে। পুলিশের মনোভাবগত পরিবর্তন আনতে হবে। বিপদগ্রস্তকে আরো বিপদে ফেললে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত—রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার। হয়রানি যাতে না করতে পারে তার জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার দরকার। পুলিশ হয়রানি করলে, কোনো অপরাধে জড়ালে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আর রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।’

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাটা অত্যন্ত জরুরি। বিপদ সৃষ্টির পরিবেশগত কারণটা সার্বিক সুশাসনের বিষয়। আইনের শাসন কতটা জোরদার, তার প্রতিফলন থাকতে হয়। পুলিশ যে ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত নয়, সহায়ক নয়—এ বিষয়টি পুলিশেরই পরিষ্কার করা দরকার। পুলিশ যদি ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে থাকে; সহায়ক হয়ে যায়; ক্ষমতাবলয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যায়; অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তাহলে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়। সবাই হয়তো নয়, কিন্তু এই জায়গায় একটা সংস্কার দরকার। দুই নম্বর হচ্ছে—পুলিশি প্রক্রিয়াগত জটিলতা, ব্যয়বহুলতা দূর করে নিরাপত্তা সেবাটাকে জনবান্ধব, নারীবান্ধব করার ক্ষেত্রে অনেক সংস্কারের প্রয়োজন আছে। নাগরিকদের নিজেদের সচেতনতাও জরুরি। কখন কী করতে হবে, অনেকেই জানে না। নাগরিক সেবার ৯৯৯-কে আরো কার্যকর করাও জরুরি।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, পুলিশ চেষ্টা করছে মানুষের আস্থা অর্জনের। এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় নেই। শান্তিতে আছেন; নিরাপদে আছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা