kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা

‘মৃত্যু অনেক কাছ থেকে দেখলাম’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মৃত্যু অনেক কাছ থেকে দেখলাম’

‘মৃত্যু আজ অনেক কাছ থেকে দেখলাম। আমি আর আমার সদ্য বিবাহিত বউ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা এক্সপ্রেসে ছিলাম। রাত ৩টার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের সাথে সংঘর্ষ হয়। ফলে উদয়ন এক্সপ্রেসের পিছনের দিকের ৩টা বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়।’ গত সোমবার দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগ স্টেশনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষের এমন মর্মস্পর্শী বর্ণনা দিয়েছেন আবদুর রহিম।

রহিম তাঁর ফেসবুক পেজে আরো লিখেছেন, ‘উদয়ন এক্সপ্রেসের পিছনের দিকের ৩টা বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়। হতাহতের (নিহত) সংখ্যা আনুমানিক ২০ জন। আহত শতাধিক। হতাহতের সংখ্যা আরও হয়তো বাড়তে পারে। যারা আহত, তাদের অবস্থা বর্ণনা করার মতো না। একটা ব্যাপার খুব খারাপ লাগলো আমরা ট্রেনের কিছু যাত্রী ও স্থানীয় কিছু লোক ছাড়া সবাই ছবি তুলতে, ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিল। ট্রেনের কোনো পুলিশ ও স্থানীয় বিডিআর উপস্থিত থাকলেও তারা ছিল নিস্ক্রিয়। আমি একটা রেলওয়ে পুলিশকে বললাম হেল্প করতে সেই বললো তার নাকি ভয় করে। ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উপস্থিত হয়। এ-ই হলো আমার বাংলাদেশ।’

রহিম ও তাঁর স্ত্রী তূর্ণা নিশীথার ‘ট’ বগির যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ট্রেনে বিকট শব্দ হয়। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো ভবন কিংবা শক্ত কোনো খুঁটিতে ধাক্কা দিলে যেমনটা হয়, তেমনি হয়েছে। ধাক্কায় কেউ কেউ আসন থেকে পড়েও যায়। তাত্ক্ষণিক এই ঘটনায় কিছু বুঝে উঠার আগেই বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনি। নিচে নেমে দেখি, অন্য একটি ট্রেনের পেছনের অংশে সজোরে ধাক্কা মেরেছে আমাদের ট্রেনটি।’

রহিম বলেন, তাঁরা ট্রেন থেকে নেমে দেখেন উদয় এক্সপ্রেসের তিনটি বগি চুরমার হয়ে গেছে। আশপাশে মানুষ ছিটকে পড়েছে। কেউ বা ট্রেনের চাকার সঙ্গে লেপ্টে গেছে। কেউ চাপা পড়ে চিৎকার করছে।’

সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্ত নগর ট্রেন উদয়নের যাত্রী ছিলেন মো. ফয়েজুল হক শিপু। পেশায় তিনি কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা। তাঁর সঙ্গে ছিল স্ত্রী ও মেয়ে। দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বারবার শিউরে উঠছিলেন। শিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, “আমরা ‘গ’ বগির কেবিনে ছিলাম। এর তিন বগি পর থেকে যে বগিগুলো ছিল, সেগুলোই দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনার সময় মনে হচ্ছিল আমরা বোধ হয় আর প্রাণে বাঁচব না। প্রচণ্ড জোরে ট্রেনটি কিছু একটার সঙ্গে ধাক্কা খেলে আমরা সবাই পড়ে যাই। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার পরিবারের কেউ-ই আঘাত পাইনি। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে দেখি বিভীষিকাময় অবস্থা। কারো হাত নেই, কারো পা নেই। চারদিকে আর্তনাদ। এ ঘটনা বর্ণনা করার মতো নয়। এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে বেঁচে আছি। আল্লাহ আমাদের দ্বিতীয় জীবন দিয়েছেন।”

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা