kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগে প্রধানমন্ত্রী

আশ্রিত রোহিঙ্গারা হুমকি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য

প্রত্যাবাসনে বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশ্রিত রোহিঙ্গারা হুমকি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য

উন্নয়নের জন্য শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার ঢাকায় একটি হোটেলে ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ওই আহ্বান জানান।

‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস)’ এবং ভারতের ‘অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)’ যৌথভাবে আয়োজন করেছে তিন দিনব্যাপী ওই অনুষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই, নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। বিশ্বসম্প্রদায়কে বিষয়টি অনুধাবন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরসংলগ্ন দেশগুলোর অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ মনে করে যে পরস্পরের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা বা ‘জিরো-সাম গেম’ বঙ্গোপসাগর বা ভারত মহাসাগরের ‘নীল অর্থনীতি’ বিকাশের জন্য সহায়ক নয়। বরং তা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আরো মনে করি, সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহার ও এর মাধ্যমে ‘নীল অর্থনীতির’ টেকসই উন্নয়নের জন্য সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সহায়তাপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমতাপূর্ণ সম্পর্ক আবশ্যক।

এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক  জোরদারে সচেষ্ট। বাংলাদেশ তার দুই প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সম্পর্কিত বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করেছে। সমস্যা সমাধানে আমাদের এরূপ সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা অন্য অঞ্চলের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তাঁর পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ—‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ মেনে চলছে। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার প্রদর্শিত এই পথে আমরা আন্তর্জাতিক ও আন্তর্রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, সশস্ত্র ডাকাতি, উপকূলবর্তী ও সামুদ্রিক এলাকায় সন্ত্রাসী আক্রমণ, মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো অপ্রথাগত নিরাপত্তাঝুঁকি নিরসনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রসঙ্গ টেনে দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা অর্জনেরও উদাহরণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন বিরাট এক ঘূর্ণিঝড় আমাদের আক্রমণ করতে এসেছিল। এ রকম প্রতিনিয়তই আমাদের মোকাবেলা করতে হয়। তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা এখন যথেষ্ট সচেতন এবং দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়েও আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। আর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচিও আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ‘ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠনসহ বেশ কিছু অভিযোজন ও প্রশমনমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শতবর্ষব্যাপী ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ গ্রহণ করা হয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯’ পরিবেশবান্ধব শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের পথে এই অঞ্চলের দেশগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. সমির শরণ এবং বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আব্দুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা