kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

ঘূর্ণিঝড় সামাল দেওয়ার সব প্রস্তুতি আছে

♦ স্বাধীনতা বালকের জন্য নয়
♦ বাকশাল ছিল ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘূর্ণিঝড় সামাল দেওয়ার সব প্রস্তুতি আছে

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের ১৩তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এমনটি জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উসকানি ও মুখরোচক কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিপথে নেওয়া মেনে নেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যের শুরুতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা দুঃসংবাদ আছে, আমাদের বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় দেখা দিয়েছে। দোয়া করবেন ঝড়ে যেন ক্ষয়ক্ষতি না হয়। ঝড় মোকাবেলা এবং মানুষকে রক্ষা করার জন্য সব রকম প্রস্তুতি আমাদের নেওয়া আছে। এমনকি ঝড়-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রম যাতে চালানো যায় সে ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা এরই মধ্যে যথেষ্ট পারদর্শিতা অর্জন করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের জানমাল বাঁচাবার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য এরই মধ্যে আমরা একটা ট্রাস্ট ফান্ড করে এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং প্লোবাল ওয়ার্মিং থেকে বাংলাদেশ যাতে রক্ষা পায় সেই কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমি মনে করি, পৃথিবীতে বোধহয় বাংলাদেশই একমাত্র দেশ প্রথম এ ব্যবস্থা নিয়েছে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উসকানি দিয়ে ও মুখরোচক কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিপথে নেওয়া মেনে নেওয়া হবে না। আর তাদের যদি এসব করতে হয় তাহলে অর্থ নিজেদেরকেই জোগান দিতে হবে। নইলে সরকার সব টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেবে। কথায় বলে, স্বাধীনতা ভালো তবে তা বালকের জন্য নয়, এটাও মাথায় রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থ সরকার দেবে। সব রকম উন্নয়ন প্রকল্প সরকার করবে। সেটা নিতে খুব ভালো লাগবে। আর সরকার সেখানে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না, এটা কখনো হতে পারে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে আমাদের ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষা পায়, পৃথিবীর আর কোনো দেশে এত অল্প খরচে তা দেওয়া হয় না। সেখানে স্বায়ত্তশাসন আছে এ কথা সত্যি। কিন্তু টাকা দিচ্ছে কারা? টাকা তো সরকার দিচ্ছে। সরকারের দেওয়া টাকা ইউজিসিতে যায়, সেখান থেকে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয়। সেখানে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা যা কিছু তাঁরা পাচ্ছেন। একজন শিক্ষার্থী ইউনিভার্সিটিতে কয় টাকা খরচ করে? মাসে বড়জোর দেড় শ টাকা খরচ করে। কিন্তু এই টাকায় কি উচ্চশিক্ষা হয়! যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যান, কত লাখ টাকা লাগে প্রতি সেমিস্টারে? আর আমাদের পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে কত লাগে? সে টাকা কে জোগান দেয়? জোগান দেয় সরকার।’ তিনি বলেন, ‘দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয় একেকজন ছাত্রের পেছনে। আর ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিক্যাল কিংবা কারিগরিতে আরো বেশি টাকা খরচ হয়। সব টাকা তো সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ডিসিপ্লিন থাকবে, উপযুক্ত শিক্ষা পাবে এবং নিজেদের জীবনকে গড়ে তুলবে—সেটাই আমরা চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নাকি আমরা বুঝি না। যাঁরা কথা বলছেন তাঁরাই কেবল বোঝেন আর বোঝেন যাঁরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন তাঁরা। আর পড়াশোনা নষ্ট করে সেখানে স্ট্রাইক করে দিনের পর দিন কর্মঘণ্টা নষ্ট করবেন, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ব্যাহত করবেন, তাঁরা বোঝেন আর বুঝব না আমরা। এটা তো হয় না।’ তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বালকসুলভ কথাবার্তা না বলাই ভালো। বরং ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করবে, তাদের লেখাপড়ার সময় যেন নষ্ট না হয়। উপযুক্ত সময়ে তারা ভালো রেজাল্ট করবে এবং তারা জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে—সেটাই আমরা চাই। কাজেই উসকানি দিয়ে ছাত্রদের বিপথে নেওয়া আর এখানে মুখরোচক কথা বলা, এটা কখনো কেউ মেনে নিতে পারে না। আর তা যদি করতে হয় তাহলে নিজেদের অর্থ নিজেরা জোগান দিতে হবে। নিজেদের বেতন নিজেরা নিতে হবে। নিজেদের খরচ নিজেরা চালাবে, সরকার সব টাকা বন্ধ করে দেবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এজন্য বললাম, ইদানীং দেখছি, কোনো কথা নাই বার্তা নাই, ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কয়েকজন মিলে অহেতুক অভিযোগ তুলছে। আমাদের আইন আছে। কেউ যদি কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনে, আর সেটা যদি প্রমাণিত না হয় তাহলে যে অভিযোগকারী ওই আইনে তার বিচার হয়, সাজা হয়। এটা কিন্তু আইনে আছে। কাজেই যাঁরা কথা বলছেন, তাঁরা আইনগুলো ভালোভাবে দেখে নেবেন, সেটাই আমরা বলব। কারণ আমরাও তো ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ছিলাম, পড়াশোনা করেই আসছি। এটাও তাদের ভুলে গেলে চলবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা