kalerkantho

শনিবার । ২৩ নভেম্বর ২০১৯। ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উপকূলে বুলবুলের আঘাত

ঝড়ে আবারও রক্ষাকবচ সুন্দরবন
কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



উপকূলে বুলবুলের আঘাত

উপকূল এলাকায় মহাবিপদ। বাড়িঘর ফেলে আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্দেশে যাত্রা। মোংলা এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ পাওয়া বুলবুল গতকাল শনিবার মধ্যরাতে আছড়ে পড়ে বাংলাদেশের উপকূলের ওপর। তবে এবারও বুক চিতিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম আঘাত সহ্য করে এর প্রচণ্ডতা থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষা করেছে সুন্দরবন। ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান ২০০৭ সালেও সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলার সময় রক্ষা করেছে উপকূলের বাসিন্দাদের। ১০ বছর পর আবার সেই সুন্দরবন উপকূলীয় জেলাগুলোয় বসবাসরত বাসিন্দাদের জন্য রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়ায়।

‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ থেকে শক্তি কিছুটা কমে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হয়ে বুলবুল যখন বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে, তখন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। মোংলা ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহা বিপত্সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। চট্টগ্রাম বন্দরকে ৯ নম্বর মহা বিপত্সংকেত দেখানো হয়েছে। বুলবুল যখন বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করে, তখন দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পাঁচ থেকে সাত ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়।

শনিবার রাত ১১টায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে (২৭ নম্বর) জানানো হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ‘বুলবুল’ আরো উত্তর দিকে ঘণ্টায় আট কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছে। শনিবার রাত ৯টায় এটি পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা (সুন্দরবন) অতিক্রম করতে শুরু করেছে। উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়বে বুলবুল। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিসের উপপরিচালক আয়েশা খাতুন বলেন, ‘এবারের ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগও কমিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন।’

বুলবুলের শক্তির ভয়াবহতা আঁচ করে উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলাকে ১০ নম্বর মহা বিপত্সংকেত দেখানো হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুরকে ৯ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে।

বুলবুল মোকাবেলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়। আগে থেকেই চলছিল উপকূলীয় সব জেলা-উপজেলায় সতর্কতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম। চালু করা হয় চার হাজার ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব, পুলিশ, আনসারের বিশেষ টিম জরুরি দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। এক হাজার ৫৭৭টি মেডিক্যাল টিম মাঠে রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এসংক্রান্ত পৃথক দুটি অফিস আদেশ জারি করে।

আবহাওয়া কর্মকর্তা আবুল কালাম মল্লিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক আভাস ছিল, শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানবে। কিন্তু সময় বাড়িয়ে মধ্যরাতে আঘাত হানে। বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রমের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার।’

আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পুরো দেশে এর প্রভাব থাকবে। সারা দেশে বৃষ্টিপাত হবে। বাংলাদেশে ঢোকার সময় ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাসার্ধ কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার আর ব্যাস ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস।

অক্টোবর-নভেম্বর এই দুই মাস ঘূর্ণিঝড়ের সময় হলেও নভেম্বর (কার্তিক) মাসটিতে এমন একটি দিন খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর, যে দিনটিতে অতীতে ঘূর্ণিঝড় হয়নি। ১৯৭০ সালের ১২-১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়; ৭৪, ৭৬, ৮৬, ৮৮ এরপর ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরের দুঃসহ স্মৃতি এখনো জ্বলজ্বল করছে উপকূলবাসীর সামনে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে গতকাল সকাল থেকেই সারা দেশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। ঢাকার বাইরে থেকে বিস্তারিত জানিয়েছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা—

সারা দেশের জন্য নৌবাহিনীর প্রস্তুতি ও চট্টগ্রাম : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-পরবর্তী জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় চট্টগ্রাম ও সেন্ট মার্টিনসসহ দেশে ১০টি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত রেখেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ ছাড়া প্রস্তুত করা হয়েছে নৌ কন্টিনজেন্ট ও মেডিক্যাল টিম। চট্টগ্রামে তিনটি ও সেন্ট মার্টিনসে দুটি ছাড়াও আরো পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা ও সাতক্ষীরা জেলায় নিয়োজিত থাকবে।

তিন স্তরের এই কর্মপরিকল্পনাগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচালনা করছে নৌবাহিনী। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে তিনটি জাহাজ বানৌজা শাহজালাল, শাহ পরান ও অতন্দ  দ্রুততম সময়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকায় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাবে। এরই মধ্যে বানৌজা সমুদ্র জয় ও সমুদ্র অভিযান ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সেন্ট মার্টিনসে অবস্থান করছে। জাহাজগুলোতে দুই টন চিঁড়া, এক টন মুড়ি, দুই টন চাল, দেড় টন গুড়, ৫০০ কেজি ডাল, ৭০০ কেজি চিনি, ৫০০ প্যাকেট মোমবাতি, ২৫০ ডজন দিয়াশলাই মজুদ রয়েছে। এদিকে নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সেন্ট মার্টিনসে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

কক্সবাজার : টানা তিন দিনের ছুটি পেয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা প্রচুরসংখ্যক পর্যটকের শখ মিটতে দেয়নি বুলবুল। অনেকেই চেয়েছিলেন সেন্ট মার্টিনস ঘুরে আসতে। সেটা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার আগেই পর্যটকদের একটি বড় অংশ ঘরে ফিরতে বাধ্য হয়েছে। তার পরও গতকাল পর্যন্ত অনেক পর্যটক হোটেলে অবস্থান নিয়ে রয়েছে।

বাগেরহাট : সিডরবিধ্বস্ত বাগেরহাটের শরণখোলার বলেশ্বর নদী পারের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক অনেক বেশি। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার খবরে গতকাল সকাল থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রের সন্ধানে ছোটে উপকূলের মানুষ। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাগেরহাটের শরণখোলা, মোংলা, রামপাল এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ হাজার ৬৩০ জন নারী-পুরুষ আশ্রয় নেয় বলে জেলা প্রশাসকের কন্ট্রোল রুম থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুল ইসলাম জানান। এদিকে সুন্দরবন ভ্রমণে যাওয়া তিন হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটককে ফিরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে বলে বন বিভাগ জানায়।

সুন্দরবনের পাঁচটি টহল ফাঁড়ি থেকে শনিবার বন বিভাগের স্টাফদের সরিয়ে নেওয়া হয়। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান রাত সাড়ে ১০টায় জানান, সুন্দরবনের দুবলার চর, কটকা, কচিখালী, শুয়োরমারা এবং আলোরকোল টহল ফাঁড়ি ভবন কিছুদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ সঙ্গে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থেকে স্টাফরা দায়িত্ব পালন করেন। মোংলা সমুদ্রবন্দরকে আবহাওয়া অধিদপ্তর ১০ নম্বর মহা বিপত্সংকেত দেখিয়ে যেতে বলায় ওই পাঁচটি টহল ফাঁড়ি থেকে ৪০ জন স্টাফকে তাঁদের অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

খুলনা : খুলনা জেলার দাকোপ ও কয়রা উপজেলার একাধিক জায়গায় বাঁধের গায়ে নদীর স্রোত আছড়ে পড়ছিল গতকাল থেকেই। বিকেল থেকে সুন্দরবন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে থাকে। সরকারি-বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়। মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করা হয়। তবে দাকোপ, কয়রা, শ্যামনগর, মোংলা, শরণখোলার দুর্বল বেড়িবাঁধ শঙ্কা জাগিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জিও স্বীকার করেন, খুলনার দাকোপ উপজেলার কালাবগী ও সুতারখালী এবং কয়রা উপজেলার বেশ কিছু জায়গায় বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

গলাচিপা (পটুয়াখালী) : বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে উপকূলীয় গলাচিপা উপজেলায় থেমে থেমে ভারি থেকে মাঝারি ঝোড়ো বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। আকাশ কালো মেঘে আচ্ছন্ন থাকায় থমথমে, গুমোট ভাব বিরাজ করছিল গতকাল বিকেল থেকে। উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সবচেয়ে শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। এ সময় গাছ থেকে ধানের শীষ বের হয়। সব ধান চিটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষকরা। পৌর এলাকার সাগরদী রোডের দুলাল চন্দ্র আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘর-বাড়ি থুইয়া সাইক্লোন শেল্টারে গেলে রাইতে চুরি অইলে দেখবে কেডা? যদি বাঁচি ঘরেই বাচমু, মরলে ঘরেই মরমু।’

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিসহ ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার দুটি বিভাগের আওতায় ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

কাঁঠালিয়া : বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় বুলবুলের ভয়াল ছোবলের আশঙ্কায় ঝালকাঠি জেলার উপকূলীয় উপজেলা কাঁঠালিয়ার ১০ গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার খবর শুনলেই নদীর পারের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়ে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলেও বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার মানুষের ক্ষোভেরও অন্ত নেই। ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা কাঁঠালিয়া। বাঁধ না থাকায় প্রতিবছর জলোচ্ছ্বাসে ফসল ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সিডরে এ উপজেলায় ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

ইন্দুরকানী : শুক্রবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিসহ রাতে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বর্ষণ শুরু হয় পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে। শনিবার সকাল থেকে একটানা বৃষ্টি ও হালকা বাতাস বইছিল। নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।

বরগুনা : বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বর নদীর বিভিন্ন স্থানে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার নারী, শিশুসহ কয়েক হাজার মানুষ।

কলাপাড়া : পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ১৫৩টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত করা হয় আগেই। বন্ধ রাখা হয়েছে পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম। উপকূলীয় এলাকার নদ-নদী এবং সাগর উত্তাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দমকা হাওয়া বইছে। মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহা বিপত্সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। শেষ বিকেলের দিকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জেলে পল্লীসহ অন্য এলাকার বাসিন্দারা।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার পাটুরিয়া নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। পদ্মার পানি উত্তাল হয়ে ওঠায় গতকাল বিকেল ৩টা থেকে ওই নৌপথে সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শিবচর (মাদারীপুর) : কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোটের পর শনিবার বিকেলে বন্ধ করে দেওয়া হয় সব ফেরি সার্ভিস। ভোর থেকেই সব লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বিআইডাব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. জসিমউদ্দিন বলেন, পদ্মা উত্তাল হয়ে ওঠায় দুপুরের পর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভোলা : ভোলায় সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি এবং মাঝে মাঝে ভারি বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইছিল সকাল থেকেই। দুপুরের পর থেকে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় আসতে শুরু করে। তবে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাজি হননি।

কেশবপুর (যশোর) : যশোরের কেশবপুরে গত দুই দিনে ভারি বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় কৃষকের শত শত হেক্টর পাকা আমন ধান পড়ে নষ্ট হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, পড়ে যাওয়া ধানের ২৫ শতাংশ ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লাগাতার বৃষ্টিতে শত শত হেক্টর জমির শাক-সবজি, সদ্য রোপণকৃত ফুলকপি, বাঁধাকপি, সরিষা, মুশুরির ক্ষেত নষ্ট হবে।

আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলী-তালতলী উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তুত করা হয় ১২২টি সাইক্লোন শেল্টার। সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার জন্য খোলা হয়েছে দুটি কন্ট্রোল রুম।

শরণখোলা (বাগেরহাট) : আতঙ্কে আছে বাগেরহাটের শরণখোলার ১০ হাজার আমন চাষি। মাঠের বেশির ভাগ ধানের চারায় শীষ বেরিয়েছে। অনেক এলাকায় উফশি আগাম জাতের ধান পেকে গেছে। এ মুহূর্তে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে চাষি ও কৃষি বিভাগ।

চাঁদপুর : দুর্গম চরাঞ্চল এবং নদীপারের মানুষের নিরাপদে রাখার জন্য সাড়ে পাঁচ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে লঞ্চ-স্পিডবোট এবং অ্যাম্বুল্যান্স। লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে বেশ কিছু যাত্রী আটকা পড়েছে। এদের অনেকেই চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে চাঁদপুর হয়ে নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রী।

মুন্সীগঞ্জ : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশ পথ বলে পরিচিত শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও মাঝিকান্দি নৌ রুটের পদ্মায় লঞ্চ ও সি-বোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে শিমুলিয়া ও কাঁঠালবাড়ী ঘাটে পারাপারে অপেক্ষায় রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ হাজারো যানবাহন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা