kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

রাজকোটে রোহিতরাজ ফায়সালা নাগপুরেই

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজকোটে রোহিতরাজ ফায়সালা নাগপুরেই

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৫৩/৬

ভারত : ১৫.৪ ওভারে ১৫৪/২

ফল : ভারত ৮ উইকেটে জয়ী

দিন চারেকের গুজরাটবাসের অভিজ্ঞতায় যেটা বুঝতে পারলাম, উইকেটে রোহিত শর্মা বেশিক্ষণ না থাকাটা অনেকটাই প্রেসবক্সের ডিনারে পরিবেশন করা ভেজিটেবল বিরিয়ানির মতো, যা আদতে কোনো বিরিয়ানিই নয়! রোহিত বড় ইনিংস খেলা মানে বিরিয়ানির মতো পেট ও মন দুই-ই ভরানো একটা ব্যাপার। রোহিত নিজের খেলাটা খেললে আশপাশের ব্যাটসম্যানদের অবদানগুলোকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। রোহিত না থাকলে তাঁরা বিরিয়ানির পাতে এলাচের মতো, দাঁতের নিচে পড়ার আগে যাঁদের উপস্থিতি নিয়ে কোনো প্রশ্নও ওঠে না। রাজকোটে, নিজের ক্যারিয়ারের শততম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাত্র ১৫ রানের জন্য শতরান হলো না রোহিত গুরুনাথ শর্মার। তবে ইনিংসটা খেলার সময় গ্যালারি থেকে তাঁর নামে যেভাবে জয়ধ্বনি ভেসে এলো, তাতে মনে হচ্ছে ভারতীয় তরুণদের স্বপ্নপুরুষ এখন আর কোনো ‘রাহুল’ নয়, ‘রোহিত’।

টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন, ৬ ওভার শেষে সফরকারীদের রান বিনা উইকেটে ৫৪।

রোহিত নিজে ছেড়েছেন লিটন দাসের ক্যাচ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি ভারত যদি হেরেই যায়, তাহলে নির্ঘাত হিন্দি খবরের চ্যানেলগুলো ‘ম্যাচ কা মুজরিম’ হিসেবে দেখাবে রোহিত শর্মার ছবি। এ রকম একটা জায়গা থেকে ৪৩ বলে ৮৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় রেখে ১০০তম টি-টোয়েন্টিতে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই বিদায় নিলেন রোহিত। ৮ উইকেটে জেতার পর ম্যাচসেরার পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে তাঁর ত্রিসীমানাতেও কেউ নেই।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল দারুণ আর শেষটা হয়েছে করুণ। ত্রিশের কাছাকাছি রান ৪  ব্যাটসম্যানের, তাঁরা সবাই শুরুটা পেয়েও ইনিংসটা বড় করতে না পারার দোষে সমান দোষী। যুযবেন্দ  চাহালই যা একটু ভুগিয়েছেন ব্যাটসম্যানদের, বাকি বোলিংটা প্রায় ঢোঁড়া সাপের মতোই নির্বিষ। স্থানীয় সাংবাদিকরাও বলাবলি করছিলেন, এই বোলিং আক্রমণটা ভারতের দ্বিতীয় সারির, যাদের ভেতর থেকে একমাত্র চাহাল ছাড়া কাউকেই বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির দলে তাঁরা দেখছেন না। তাদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ১৫৩ রান যতটা না বোলারদের কৃতিত্বে, তার চেয়ে বেশি শট বাছাইতে গলদ আর ভুল সময়ে উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসার খেসারত।

তবু ম্যাচটি টি-টোয়েন্টি বলেই হয়তো মেকি একটা সম্ভাবনাও ছিল বাংলাদেশের, অনেকগুলো যদি কিন্তুর ওপর দাঁড়িয়ে। সেটা একা হাতে শেষ করে দিয়েছেন রোহিত। সমান ৬টি করে ছয় ও চারের মার মেরেছেন ‘হিটম্যান’, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফিল্ডারকে নড়তে হয়নি। মোসাদ্দেক হোসেনের টানা তিন বলে মেরেছেন তিন ছয়, তাতে প্রেসবক্সের কাচের দেয়ালকে মনে হয়েছে অনিরাপদ। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব যখন শিখর ধাওয়ানকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দিলেন, ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে ১১ ওভারে ১১৮ রান উঠে গেছে। ম্যাচের ভাগ্য নিয়ে কোনো সংশয় নেই, রোহিত শতরান করতে পারেন কি না সেটাই তখন একমাত্র কৌতূহল। সেই আমিনুলের বলে ক্যাচ দিয়ে রোহিত আউট হলেন ৮৫ রানে, ১৩তম ওভারে। পর্যাপ্ত বল ছিল হাতে, সেঞ্চুরির জন্য চাইলে একটু রয়েসয়ে খেললেও পারতেন রোহিত। করেননি কোনোটাই, যে ছন্দে খেলছিলেন সেটাই ধরে রেখেছেন এবং আউট হওয়াতে খুব সম্ভবত কোনো অতৃপ্তিও তাঁর নেই। কারণ আগের দিনই বলে গিয়েছিলেন, ‘১৮০ কোটি মানুষের দেশের সেরা ১১ জনের একজন হতে পারাটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। এটাই আমাকে খেলে যেতে অনুপ্রাণিত করে।’ মুম্বাইয়ের যে এলাকায় ছোটবেলায় থাকতেন রোহিত, সেটা আসলে নিম্নবিত্তের আবাসন। বোরিভালির ঘিঞ্জি রাস্তায় ছোটবেলায় খেলতে গিয়ে নাকি অনেক বাড়িঘরের কাচ ভেঙেছেন রোহিত, শুনেছেন গালমন্দও। আজ সেই পাড়ায় কোনো অশীতিপর বৃদ্ধ নিশ্চয়ই ফোকলা দাঁতে হেসে উঠেছেন রোহিতের ইনিংসটা দেখে।

বাংলাদেশকে ২৬ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়ে আনলেন রোহিত। এখন ফয়সালা হবে নাগপুরেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা