kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভিসিবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে অন্যথায় শাস্তি

নাঈমুল আবরারের এভাবে মৃত্যু বরদাশত করা যায় না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে অন্যথায় শাস্তি

কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদের (ভিসি) বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ এনে আন্দোলন চলছে, সেই অভিযোগগুলো প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘যারা প্রায়শই দুর্নীতির অভিযোগে ভাইস চ্যান্সেলরদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, তাদের অবশ্যই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। যদি তারা তা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে; অন্যথায় অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হতাহত সাংবাদিকদের পরিবারকে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো রকম আইনগত ভিত্তি ছাড়া আন্দোলনের নামে ক্লাস বন্ধ, ভিসিদের বাসভবন ও কার্যালয়ে হামলা বরদাশত করা হবে না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের (আন্দোলনকারীদের) প্রমাণ করতে হবে। যদি কেউ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, প্রত্যেকে যারা অভিযোগ নিয়ে আসছে, যারা বত্তৃদ্ধতা দিচ্ছে, আমি বলেছি সমস্ত ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। যদি দুর্নীতি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুর্নীতি করলে যে শাস্তি, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তার যে শাস্তি হতো, যে অভিযোগকারী সে যদি ব্যর্থ হয় প্রমাণ করতে, তাকে কিন্তু সেই সাজা পেতে হবে। এটা কিন্তু আইনে আছে। মিথ্যা অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে কিন্তু আইন ব্যবস্থা নেবে। সেই ব্যবস্থা কিন্তু আমরা নেব। আপনাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম।’

ছাত্র-শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেন ঘটাবে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা ক্লাস কেন বন্ধ করবে? প্রত্যেকটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে কয় টাকা তারা খরচ করে তাদের পড়ার জন্য? খরচ তো সরকারের পক্ষ থেকে করি। স্বায়ত্তশাসন তাদের আছে। স্বায়ত্তশাসিত হলে তো তাদের নিজেদের অর্থের জোগান দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা। কিন্তু প্রতিবছর বাজেটে আমরা টাকা দিই। বাজেটে আমরা টাকা দেব আর সরকার সেখানে কিছুই করতে পারবে না, আর এভাবে দিনের পর দিন তারা ক্লাস বন্ধ করে থাকবে, এটা হয় না।’

বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পরও বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বুয়েটের সমস্যাটা কী সেটা তো বুঝতে পারছি না। আমরা তো সবই করলাম। তার পরও এই আন্দোলন কিসের জন্য? বুয়েটে যে আবরার হত্যা ঘটল, আমরা সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যবস্থা নিয়েছি। সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছাত্ররা আন্দোলনের আগেই যখনই খবর এসেছে তখনই কিন্তু আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। এখন তাহলে আন্দোলন কিসের জন্য, আমার সেটাই প্রশ্ন।’ তিনি বলেন, ‘দিনের পর দিন ক্লাস করতে দেবে না, নিজেরা ক্লাস করবে না। তাহলে তারা ইউনিভার্সিটিতে থাকবে কেন? এই ধরনের কাজ যারা করবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের এক্সপেল করে দেওয়া উচিত। তারা কিসের জন্য এভাবে করবে?’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল তাঁর কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল এবং দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন।     ছবি : বাসস

নাঈমুল আবরারের এভাবে মৃত্যু বরদাশত করা যায় না :  প্রথম আলোর কিশোর আলো আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুলছাত্র নাঈমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় আয়োজকদের অবহেলাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো এই ধরনের একটা ঘটনা কিভাবে ঘটায়, আর এত অবহেলা তারা কিভাবে করতে পারে? তাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? তারা কি দেখবে না যে কাদের দিয়ে তারা কাজ কারাচ্ছে। এগুলো ঠিকমতো হচ্ছে কি না? তারা এতটা নেগলেক্ট করেছে যে এই বাচ্চাটা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে।’

প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বোঝা উচিত ছিল যে ছোট ছোট বাচ্চাও এখানে পড়াশোনা করছে। সেই দিকে তো কোনো খেয়ালই নেই। এটাও তো একটা গর্হিত অপরাধ। এভাবে একটা বাচ্চা মারা যাবে, এটা তো কখনো বরদাশত করা যায় না।’

গত শুক্রবার ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে প্রথম আলোর কিশোর সাময়িকী কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে আবরার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। তার মৃত্যুর জন্য আয়োজক কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে নানা কর্মসূচি চলছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর তাকে কাছের হাসপাতাল বাদ দিয়ে  দূরের হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধানমণ্ডি এলাকায় এত হাসপাতাল। রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল পার হয়ে এগিয়ে গেলেই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল। তার পাশে নিউরো হাসপাতাল, তার পাশে ট্রমা সেন্টার। এত হাসপাতাল থাকার পরও সেখানে না নিয়ে কোথায় মহাখালীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে বাচ্চাটাকে নিয়ে গেছে এবং তার নাম-ঠিকানাও নেই। ডাক্তার যখন কাপড়ে মনোগ্রামটা দেখেছে, তখন প্রিন্সিপালকে ফোন করেছে। বারবার রিপোর্ট করা সত্ত্বেও কেউ ওদিকে দৃষ্টিই দেয়নি।’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল এবং সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবু জাফর সূর্য এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, বিটিভির মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশিদ, পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা