kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, প্রতিবাদী কনসার্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি    

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, প্রতিবাদী কনসার্ট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গতকালও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গতকাল বৃহস্পতিবারও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও প্রতিবাদী কনসার্ট হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শেষে সমাবেশ করেন। সন্ধ্যায় আবার বিক্ষোভ মিছিল করে উপাচার্যের বাসভবনের পাশের রাস্তায় প্রতিবাদী কনসার্টের আয়োজন করেন।

রাত ৯টায় কনাসার্ট শেষ হওয়ার পর আন্দোলনকারীরা আজ সকাল ১১টায় আবার পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে একত্র হওয়ার ঘোষণা দেন। সেখানে প্রতিবাদী পটচিত্র তৈরি করে সেগুলো নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে বলে জানানো হয়। গতকালের কনসার্টে উপাচার্যের ‘দুর্নীতি’ এবং তাঁকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন সংগীত পরিবেশনা করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘আমরা বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের দাবি তুলেছি। যেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে তদন্ত চেয়েছি, সেগুলো অবশ্যই আমরা দেব। সুনির্দিষ্ট তথ্য আমরা আগামীকাল (আজ) শুক্রবার জমা দেব; যার ভিত্তিতে নিশ্চয়ই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।’ তিনি বলেন, ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা ‘আর্থিক দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্ত করার জন্য তথ্য রয়েছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে অভিযোগকারীদের শাস্তি পেতে হবে। মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনের কারণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা তো বিষয়টি প্রমাণ করতে আসিনি, আমরা অভিযোগ তুলেছি। এখন তদন্ত করে এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের। তদন্তে যদি উপাচার্য নির্দোষ হন তখন কোনো কথা হবে না। কিন্তু এটা প্রমাণ করার দায়িত্ব যখন কেউ নিচ্ছেন না তখনই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।’

রাতে কনসার্ট শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাকিবুল হক রনি লিখিত বক্তব্যে আজকের কর্মসূচি জানানোর পাশাপাশি বলেন, সরকার যদি অভিযোগ তদন্ত করে, তবে তদন্তের স্বার্থে উপাচার্যকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দিতে হবে। তবে তদন্তের পর্যায়েও আন্দোলন চলবে।  

বিশ্ববিদ্যালয় আগেই বন্ধ ঘোষণা এবং বুধবার হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের জোর করে বের করে দেওয়ার পরও গতকাল সকাল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হতে থাকেন। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে সকাল থেকেই উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে তাঁদের কাউকেই ভবনে প্রবেশের জন্য চেষ্টা করতে দেখা যায়নি। তাঁরা বাইরে অপেক্ষা করে ফিরে গেছেন। আন্দোলনকারীরাও সেখানে অবস্থান করেননি কিংবা তালা দেননি।

দুপুর ১টার দিকে পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে আবার পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এর আগে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবন সংলগ্ন সড়কে ১৫ মিনিটের মতো অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন। সেখানে পুলিশকে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থানে দেখা যায়। ওই বিক্ষোভে শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা উপাচার্যবিরোধী এবং ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির, ছাত্রদলকে সন্ত্রাসী অভিহিত করে স্লোগান দেন।

আগের রাত ৮টায় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের ভেতরে সভা-সমাবেশ বন্ধ করার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বলা হয়, ‘এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে দোকানপাট বন্ধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে এই সময় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কোনো শিক্ষার্থীর অবস্থান সমীচীন নয়। ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানরত কোনো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এসে সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা কোনো অফিস বা আবাসিক এলাকায় অবস্থান করতে পারবে না।’ আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আদেশকে প্রত্যাখ্যান করে গতকালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) আ স ম  ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। এখন কেউ যদি পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে, তবে তা শৃঙ্খলাবিরোধী বলে বিবেচিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশ অমান্য করে কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা নেই। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ধৈর্য ধারণ করছে প্রশাসন।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে তাঁর বাসভবন অবরোধ করে রাখেন। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ব্যানারবাহী একটি মিছিল সেখানে আসে। ওই মিছিলে দুই শতাধিক নেতাকর্মী ছিলেন। মিছিল থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করা হয়। হামলায় শিক্ষক, সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন। হামলার ঘটনার পর এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা