kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সেই ভারতকে হারিয়েই ‘প্রায়শ্চিত্ত’ মুশফিকের

মাসুদ পারভেজ   

৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই ভারতকে হারিয়েই ‘প্রায়শ্চিত্ত’ মুশফিকের

ছবি : মীর ফরিদ

দূষণের শহরেই শেষ পর্যন্ত পরিশুদ্ধ হলেন মুশফিকুর রহিম। দিওয়ালির আতশবাজিতে আরো দূষিত হওয়া দিল্লির বাতাসে প্রায়শ্চিত্তে জ্বালালেন জয়ের মশালও।

যে মশাল কতবার যে জ্বলতে জ্বলতেও জ্বলেনি! বহুবার না পাওয়ার সে দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়েছে গোটা বাংলাদেশ। জয়ের খুব কাছে গিয়েও বারবার ভারতকে হারাতে না পারার ব্যাপারটি যেন নিয়তিই হয়ে উঠছিল। তবে এর মধ্যেও হৃদয়ভাঙার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে থেকেছে ২০১৬-র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই বেঙ্গালুরু ম্যাচ। ২৩ মার্চের সেই রাত বেদনার রঙে আর সবার চেয়ে বেশিই বিলীন করেছিল মুশফিককে।

নিজেকেই ক্ষমা করতে না পারা ভুলের দায় নিয়ে পার করেছেন পরের ৩ বছর ৭ মাস ১০ দিন। শেষ ওভারে জেতার জন্য দরকার ছিল ১১ রানের। প্রথম বলে সঙ্গী মাহমুদ উল্লাহ সিঙ্গেল নিয়ে দেওয়ার পর মুশফিকের ব্যাটে জয় নামের সোনার চামচ বাংলাদেশের ঠোঁটেও উঠে গিয়েছিল প্রায়। হার্দিক পান্ডিয়াকে মারা টানা দুই বাউন্ডারিতে জয়ের সমীকরণ গিয়ে ঠেকে ৩ বলে ২ রানে। শূন্যে মুষ্টিবদ্ধ হাত ছুড়ে মুশফিকও সেরে নিয়েছিলেন আগাম উৎসব। তখন কে জানত যে এর পরের তিন বলেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিরকালীন দুর্ঘটনার শীর্ষেই চলে যাবে ম্যাচটি। চতুর্থ বলে মিড উইকেট বাউন্ডারিতে মুশফিক ক্যাচ দেওয়ার পরও তো মনে হয়নি যে ম্যাচটি ১ রানে হেরে বসবে টাইগাররা। বল আকাশে থাকতে থাকতেই প্রান্ত বদলে ফেলা মাহমুদ স্ট্রাইকে কিন্তু তিনিও পরের বলে ফুলটসে ক্যাচ দিয়ে বসেন ওই একই জায়গায়। শেষ বলে শুভাগত হোম ব্যাট ছোঁয়াতে না পারলেও নন-স্ট্রাইকিং প্রান্ত থেকে মুস্তাফিজুর রহমান তবু দৌড় দেন। কিন্তু এর আগেই গ্লাভসে বল জমিয়ে দৌড়ে আসা মহেন্দ্র সিং ধোনি বেলস ফেলে দেওয়ায় বাংলাদেশের হৃদয়ে না শুকানো এক ক্ষতই যেন তৈরি হয়ে যায়।

সেই ক্ষত আরো অনেক জয়েও শুকাচ্ছিল না। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মুশফিকও এরপর কত ম্যাচ জিতিয়েছেন, তবু সেই ভারত ম্যাচ প্রসঙ্গ উঠলেই অনন্ত আক্ষেপে ডুবে যেতেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। পুরনো সেই ক্ষতে প্রলেপ ছড়ানো বাকি ছিল বলেই ভুলতে পারছিলেন না। প্রায়শ্চিত্তে নিজেকে পুরোপুরি পরিশুদ্ধ বলেও ভাবতে পারছিলেন না হয়তো। তাই এবার যখন জয়ের সুযোগ সামনে, তখন অদ্ভুত স্থিরতার এক প্রতীকই হয়ে গেলেন যেন। শেষ ২ ওভারে জেতার জন্য ২২ রান লাগে যখন, তখনই মুশফিকের ব্যাটে মেলতে শুরু করল জয়ের পাপড়ি। সেই সৌরভে বাংলাদেশও সুরভিত হতে শুরু করল কিন্তু তিনি থাকলেন নির্বিকার। ১৯-তম ওভারে খলিল আহমেদকে মারা টানা চার বাউন্ডারিতে জয়ের সমীকরণ নামিয়ে আনলেন ৬ বলে ৪ রানে। এর মধ্যে দ্বিতীয় বাউন্ডারি মারতেই হয়ে যায় তাঁর ফিফটি কিন্তু মুশফিক ব্যাট তোলেন না। শুধু মাথাটা একটু তুলে আকাশের দিকে তাকান। ধর্মপ্রাণ এই ব্যাটসম্যান হয়তো সেই সময়ে স্রষ্টার কৃপাই চান। এবার আর বিমুখও হতে হয় না তাঁকে। ৪৩ বলে ৮ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংস খেলে শেষ ওভারে তিনি নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে। কী আশ্চর্য! এবারও জয়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে অন্য প্রান্তে সেই মাহমুদই। বেঙ্গালুরু কাণ্ডের আরেক খলনায়ক। তবে এবার আর কোনো ভুল নয়। জয়ের ক্যানভাসে তুলির শেষ আঁচড়ও তাঁর ব্যাটেই। ডিপ মিডউইকেট দিয়ে মারা ছক্কায়।

তাতেই নতুন ইতিহাস গড়া জয়, ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম। দূষণের শহরে পরিশুদ্ধ মুশফিকের প্রায়শ্চিত্তেই!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা