kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বঙ্গবন্ধু ও চার নেতা হত্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

একদিন মূল ষড়যন্ত্রকারীরাও ধরা পড়বে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



একদিন মূল ষড়যন্ত্রকারীরাও ধরা পড়বে

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং ৩রা নভেম্বর জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল ষড়যন্ত্রকারীরাও একদিন ধরা পড়বে এবং বিচারের মুখোমুখি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল রবিবার বিকেলে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো এই ষড়যন্ত্রকারীদের ধরতে সক্ষম নাও হতে পারি, তবে আমরা চেষ্টা করব। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। অদূর ভবিষ্যতে কেউ একজন অবশ্যই ষড়যন্ত্রকারীদের ধরবে।’

জাতির পিতা এবং জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের জন্য স্বাধীনতাবিরোধীদের অভিযুক্ত করে শেখ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মাটিতে রাজাকার, খুনি এবং তাদের দোসরদের কোনো স্থান হবে না। তিনি বলেন, ‘রাজাকার, খুনি, আলবদর এবং আলশামস এবং ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্ট এবং ৩রা নভেম্বরের খুনিদের যারা দোসর, খুনিদের মদদদাতা তাদের কারো স্থান বাংলার মাটিতে ভবিষ্যতে কোনো দিন ইনশাল্লাহ হবে না।’

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় মাসের মাথায় ৩রা নভেম্বর হত্যাকারীরা চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে নির্মমভাবে হত্যা করে। ওই চার নেতা কারাবন্দি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যায় ও অবিচার বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করা হবে। দেশের মানুষ উন্নত আর্থ-সামাজিক অবস্থান অর্জন করবে এবং তারা সুন্দরভাবে জীবন যাপন করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। এটি বৃথা যায়নি, ভবিষ্যতেও কেউ এটিকে ব্যর্থ করতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘রাজাকার, খুনি, আলবদর, আলশামস, ১৯৭৫ সালের খুনি এবং তাদের সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকরা বাংলাদেশকে আবারও তাদের ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে না। এ জন্য বাংলাদেশের জনগণকে সেভাবে ভাবতে হবে, এই দেশে আর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে দেওয়া হবে না। উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের গতি অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের অবশ্যই সোনার বাংলাদেশ গড়তে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতার হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, পাকিস্তানি সহযোগীদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং ১৯৭৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারের নানা পদে বসিয়েছে।

১৯৭৫-এর নৃশংসতার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নাশকতায় ক্ষতিগ্রস্তদের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। দশম সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপি জোটের টানা তিন মাসের অবরোধ-হরতালে নাশকতায় প্রাণহানির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) নিজের বাসা গুলশান, অফিসও গুলশানে। গুলশানে বসে থেকে খালেদা জিয়ার অসহযোগ আন্দোলন আর হরতাল। সেই অসহযোগ আন্দোলন কিন্তু এখনো তোলে নাই তারা। তাদের অবরোধও কিন্তু ওঠেনি। তাদের অবরোধ-হরতাল আর অগ্নিসন্ত্রাস।’

তিনি বলেন, ‘জীবন্ত মানুষগুলো, যার কোনো অপরাধ নাই তাদের পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করল। লঞ্চে আগুন, গাড়িতে আগুন, ট্রাকে আগুন, বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন। কোন জায়গাটায় নাই আগুন? গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে, থামিয়ে ড্রাইভারকে টান দিয়ে নামিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন, সে জীবন ভিক্ষা চাচ্ছে তাকে ছাড়েনি। সিএনজি যাচ্ছে সিএনজিতে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে দিল ড্রাইভারকে বের হতেই দিল না। এই রকম বীভৎস ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। এত অন্যায় এ তো আল্লাহও সহ্য করেন না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে। তার জন্য দেখি অনেকের মায়াকান্না। এই যে আগুনে পোড়া মানুষগুলো, এই যে ২০০১-এর পর আমাদের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর ওপর অত্যাচার, নির্যাতন যারা এখনো পঙ্গু। গ্রেনেড হামলার স্প্লিন্টার নিয়ে যারা বেঁচে আছে। অনেকে মারা গিয়েছে। অনেকে অসহায় জীবন যাপন করছে, সেই ৭৫ সাল থেকে যদি আপনারা ধরেন, যারা আমরা স্বজনহারা, বেদনা নিয়ে বেঁচে আছি তাদের কথা কি কারো মনে পড়ে না? তাদের ব্যথা কি ব্যথা বলে মনে হয় না?’

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্মুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সভা সঞ্চালনা করেন। অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. নাসিম, আব্দুল মতিন খসরু, সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

এর আগে সকালে ধানমণ্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর এই মহান নেতা এবং চার জাতীয় নেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদিতে আরেকটি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। সূত্র : বাসস ও ইউএনবি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা