kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজশাহী পলিটেকনিক

অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলে দিলেন ছাত্রলীগ নেতা

সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলে দিলেন ছাত্রলীগ নেতা

রাজশাহী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার পর পানিতে ফেলে দিলেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটান সপ্তম পর্বের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা কামাল হোসেন সৌরভ। সৌরভ রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান গ্রুপের নেতা। গতকাল শনিবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিনকে পলিটেকনিকের ভেতরেই পুকুরের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এর আগে তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গিয়ে অধ্যক্ষকে পুকুর থেকে টেনে তোলেন। তবে পুকুরের পানিতে ভিজে তাঁর মোবাইল ফোনটি নষ্ট হয়ে যায়।

এই ঘটনায় অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে গত রাতে মূল অভিযুক্ত রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। রাতে আরএমপি মুখপাত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানান।

এ ছাড়া রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই শাখা ছাত্রলীগের সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। রাতে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে হামলার ঘটনার কথা স্বীকার করে অধ্যক্ষ ফরিদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। তাদের এই ন্যক্কারজনক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।’

অধ্যক্ষ বলেন, ‘সৌরভের তিন বিষয়ে রেফার্ড (অকৃতকার্য) আছে। এর পরও সে আবার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সকালে (গতকাল সকাল) দলবল নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু তাকে জানানো হয়, এ বিষয়ে ডিপার্টমেন্টের কো-অর্ডিনেটরের সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এতে সৌরভ আমাকে হুমকি দিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চলে যায়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষার্থী কালের কণ্ঠকে জানান, হুমকি দেওয়ার কিছুক্ষণ পর অধ্যক্ষ বের হলে তাঁর সঙ্গে প্রথমে কথা-কাটাকাটিতে লিপ্ত হন সৌরভসহ আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী। এরপর তাঁরা অধ্যক্ষের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে লাঞ্ছিত করে ধাক্কা দিয়ে পুকুরের পানির মধ্যে ফেলে দেন। ওই শিক্ষার্থীরা আরো জানান, অধ্যক্ষ তাঁর কার্যালয় থেকে বের হয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে পুকুরপার দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন পলিটেকনিকের ভেতরে মসজিদ থেকে জোহরের নামাজ পড়ে বের হয়ে তাঁর কার্যালয়ের দিকে পুকুরপার দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগকর্মীরা সৌরভের নেতৃত্বে তাঁর গতি রোধ করেন। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দেন। পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমি ভিডিও ফুটেজে দেখেছি। তবে একমাত্র সৌরভকে চিনতে পেরেছি। অন্যদের চিনতে পারিনি। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ বলেন, ‘বিষয়টি আমিও শুনেছি। তবে এর সঙ্গে জড়িত যে-ই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা