kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রধানমন্ত্রী বললেন

সমবায়ে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সমবায়ে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করুন

সমবায়ের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে যুগোপযোগী সমবায় ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে সমবায়ের মাধ্যমেই আমাদের দেশের উন্নয়ন করতে পারব।’ আর এ জন্য দক্ষ সমবায়ীদের প্রশিক্ষণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪৮তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০১৯ উদ্যাপন এবং জাতীয় সমবায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমবায়ের কাজে যারা দক্ষ তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং সত্ভাবে তারা যেন কাজ করে সে বিষয়ে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। ইনশাআল্লাহ, তবেই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

তাঁর সরকার ‘উন্নত জাতের গাভি পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে মহিলাদের সুদবিহীন, জামানতবিহীন, দীর্ঘমেয়াদি এক লাখ ২০ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।’

সমবায় ভবন নির্মাণ এবং সমবায় অধিদপ্তরের সদর কার্যালয় থেকে উপজেলা পর্যন্ত সব কার্যালয়কে আইসিটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে অনলাইনে কেনাবেচার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের বিদ্যমান সমবায় আইনকে যুগোপযোগীকরণ এবং সমবায় ব্যাংককে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্তৃক পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পে গ্রামের দরিদ্র ও বিত্তহীন জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে প্রশিক্ষণ, উপকরণ সরবরাহ ও ঋণ সহায়তা প্রদান করে স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের উন্নয়নে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বর্তমানে ১৭৪টি উপজেলায় বিস্তৃত হয়েছে।

সেই সঙ্গে পল্লী অবকাঠামো সুবিধা ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) মাধ্যমে সরকার ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ফলে গ্রামে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং গ্রামের রাস্তায় সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেখানে বিদ্যুতের গ্রিড লাইন নেই সেখানে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দেশের শতকরা ৯৩ জন মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া নৌপথ, সড়কপথ, রেলপথ চালু ও উন্নত করা এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার ফলে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে।

তাঁর সরকার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লার গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনার জন্য দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘ভিক্ষুক জাতির কোনো ইজ্জত থাকে না’, জাতির পিতার বক্তব্যের এ উদ্ধৃতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে সেই স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি। কাজেই এ দেশের মানুষ আর কোনো দিন কারো কাছে হাত পেতে চলবে না, মাথা উঁচু করে চলবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াবে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার কৌশল ছিল সমবায়।’

‘জাতির পিতা এ দেশে কৃষি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, শিল্প উদ্যোগ, কৃষিঋণসহ সব ক্ষেত্রে সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতাই সংবিধানের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে মালিকানার দ্বিতীয় খাত হিসেবে সমবায়কে স্থান দিয়ে যান। তিনি (বঙ্গবন্ধু) নিরন্ন মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিতে গঠন করেছিলেন কৃষি সমবায় সমিতি, পুষ্টির চাহিদা পূরণে গঠন করেছিলেন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, দরিদ্র তাঁতিদের নিয়ে তাঁতি সমবায় সমিতি, শিল্প সম্প্রসারণে শিল্প সমবায় সমিতি এবং দেশের অন্যতম সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’

জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে তৃণমূল পর্যন্ত উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সব নাগরিকের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব কামাল উদ্দিন তালুকদার, বাংলাদেশের জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি শেখ নাদির হোসেন লিপু অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক এবং মহাপরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সিনিয়র সচিব, সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং সারা দেশ থেকে আগত সমবায়ীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ২০১৮ সালের জাতীয় সমবায় পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা