kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খুলনায় ‘হিংসা’র মাটিচাপা আট বছরের শিশুকে

‘আল্লাহ! কী কষ্ট দিয়ে বুকের ধনকে শেষ করে দিল’

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুলনায় ‘হিংসা’র মাটিচাপা আট বছরের শিশুকে

‘আল্লাহ! কী কষ্ট দিয়েই না (ওরা) আমার বুকের ধনকে শেষ করে দিয়েছে।’ খুলনার রূপসা উপজেলায় পিটিয়ে ও ঘাড় ভেঙে দিয়ে মাটিচাপা দেওয়া আট বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধারের পর তার মা বারবার একই কথা বলে বিলাপ করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে মাটি খুঁড়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশুটির নাম আদনান বাবু। সে রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের বাদাল গ্রামের দিনমজুর জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। আদনান স্থানীয় নুরানি তালিমুল কোরআন মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে তার মা-বাবার একমাত্র ছেলে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, শিশু আদনান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ পড়তে মসজিদে যায়। পরে ফিরে না আসায় তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। রাত ১০টার দিকে তাঁর সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আদনানের বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে একটি মাছের ঘেরের পারে নতুন মাটি খোঁড়া দেখতে পায় এলাকাবাসী। সন্দেহবশত তারা সেখানে দুই ফুট মাটি খুঁড়ে আদনানের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। তখন শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং তার ঘাড় ভাঙা দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশ ও এলাকাবাসীর ধারণা, বাবুর পরিবারের সঙ্গে শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

একমাত্র ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা জেনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আদনান বাবুর মা সেলিনা বেগম। গতকাল শুক্রবার দিনভর থেমে থেমে আহাজারি করছিলেন তিনি। দুপুরে সাংবাদিকরা তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ছেলে তো কারো ক্ষতি করেনি। ক্যান তাকে এমনভাবে শেষ করা হলো। তোমরা আমার বাবুকে এনে দাও। আমি কিছু চাই না। ওকে ছাড়া কিভাবে বাঁচব? যারা আমার বাবুকে বাঁচতে দেয়নি, ওদেরও কঠিন শাস্তি চাই। আল্লাহ! কী কষ্ট দিয়েই না আমার বুকের ধনকে (খুনিরা) শেষ করে দিয়েছে।’

পুত্রহারা এই মায়ের কান্নায় চোখ ভিজে আসে উপস্থিত সাংবাদিক, প্রতিবেশী ও আশপাশের লোকজনের। ওই মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা ছিল না কারো মুখে। এলাকাবাসী এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

নিহত বাবুর ফুফাতো ভাই এস এম বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘বাবুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই বিষয়টি মানতে পারছি না। একমাত্র পুত্রকে হারিয়ে আমার মামা-মামিসহ অন্যরা খুব ভেঙে পড়েছে। কারা কিভাবে ওকে হত্যা করেছে, বুঝতে পারছি না। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

রূপসা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, ওই শিশুকে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই এলাকার আশপাশের পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় ওসি জানান, শিশুটির মরদেহের ময়নাতদন্ত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। রাতেই তার দাফন সম্পন্ন হবে।’

মোল্লা জাকির বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ জড়িতদের শনাক্তের কাজ অব্যাহত রেখেছে। শত্রুতার জেরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা