kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

পাকিস্তানে ট্রেনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ৭৪ জন নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাকিস্তানে ট্রেনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ৭৪ জন নিহত

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে গতকাল ট্রেনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত অগ্নিকাণ্ডে এরই মধ্যে ৭৪ জন নিহত হয়েছে। আহত অনেকের অবস্থা গুরুতর। করাচি থেকে রাওয়ালপিন্ডিগামী ওই ট্রেনে যাত্রীদের সঙ্গে আনা সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি : এএফপি

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে একটি চলন্ত ট্রেনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনের ঘটনায় অন্তত ৭৪ জন নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে পাঞ্জাবের দক্ষিণাঞ্চলে রহিম ইয়ার খান জেলার লিয়াকতপুর শহরের কাছে তেজগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ জানিয়েছেন, এক দল যাত্রী সকালের খাবার রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটলে ট্রেনে আগুন ধরে যায়। ওই বগিতে তাবলিগ জামাতের লোকজন ছিল এবং গ্যাস সিলিন্ডারটি তারাই বহন করছিল। এই যাত্রীরা লাহোরের রাইভিন্দে বার্ষিক ইজতেমায় যোগ দিতে যাচ্ছিল।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। নিহতদের বেশির ভাগই ট্রেন থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে মারা যায়। পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

বিবিসি জানায়, তেজগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি করাচি থেকে রাওয়ালপিন্ডি যাচ্ছিল। তবে ট্রেনটির বেশির ভাগ যাত্রীই লাহোরের রাইভিন্দে তাবলিগ জামাত আয়োজিত ইজতেমায় যোগ দিতে যাচ্ছিল, যা পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে স্বীকৃত। জানা গেছে, ইজতেমাগামী যাত্রীদের সহযোগিতার জন্য ট্রেনটি রাইভিন্দে যাওয়ার জন্য ভিন্ন পথে যাচ্ছিল।

কর্মকর্তারা জানান, ট্রেনটির ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর বগিতে আগুন ধরে যায়। এর মধ্যে ১১ নম্বর বগিতে ছিল ৫৪ জন যাত্রী। বাকি দুটিতে ৭৪ জন করে যাত্রী ছিল। তাদের বেশির ভাগই মিরপুর খাস থেকে রাইভিন্দে ইজতেমায় যাচ্ছিল।

যে বগিতে আগুন লাগে, এর এক যাত্রী মোহাম্মদ রমজান বিবিসি উর্দুকে বলেন, কয়েকজন ইজতেমাযাত্রী সকালে গ্যাস সিলিন্ডার চালু করে চা বানাচ্ছিল। তখন তাদের গ্যাস সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। তিনি তখন জীবন রক্ষায় ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়েন। জামসেদ পাঠান নামের বেঁচে যাওয়া আরেক যাত্রী বিবিসি উর্দুকে বলন, তিনি ১১ নম্বর বগিতে ছিলেন। ফজরের নামাজের পরপরই তাঁরা বুঝতে পারেন ট্রেনে আগুন ধরে গেছে।

তখন সর্বত্র হৈচৈ শুরু হয়। তখন নিজেদের ট্রেন থেকে বের হওয়া এবং নিজেদের রক্ষা একটা কঠিন ব্যাপার ছিল। রমজান ও জামসেদ দুজনই ইজতেমায় যাচ্ছিলেন বলে জানান।

গফফার নামের এক যাত্রী বলেন, তিনি রাতেই কিছু একটার গন্ধ পাচ্ছিলেন; কিন্তু কেউই তাতে কর্ণপাত করেনি। তিনি  বলেন, ‘আমরা কী চোখে দেখেছি, তা ভাষায় বর্ণনা করতে পারব না।’ উদ্ধারকারী দল অনেক দেরিতে তাদের কাছে পৌঁছে।

রহিম ইয়ার খান জেলার ডিসি (ডেপুটি কমিশন) জামিল আহমেদ বলেন, আগুনে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা এত বেশি পুড়েছে যে তাদের শনাক্ত করা যায়নি। তাদের পরিচয় জানার জন্য ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন হবে।

পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী বলেন, ট্রেনে দুটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর লাফিয়ে পড়ে অনেক যাত্রী জীবন রক্ষা করে। তিনি জানান, পাকিস্তানের ট্রেনযাত্রায় অভিন্ন সমস্যা হলো, যাত্রীরা দীর্ঘ যাত্রাপথে খাবার রান্না করার জন্য সঙ্গে গ্যাস স্টোভ ব্যবহার করে। ট্রেনে গ্যাস সিলিন্ডার নিষিদ্ধ হলেও ট্রেনে খাবার বহন করায়ও সমস্যা রয়েছে। তিনি জানান, রেলে খাবার সরবরাহের বিষয়টি পুনরায় চালু করা হবে।

মন্ত্রী জানান, যে তিনটি বগিতে আগুন লাগে এর মধ্যে দুটি বগি তাবলিগ জামাতের আমির হুসাইনের নামে বুক করা ছিল। তিনি বলেন, ট্রেনে যাত্রীদের গ্যাস সিলিন্ডার বহন ও ব্যবহার বন্ধে প্যাসেঞ্জার লাগেজ পরীক্ষা করার প্রয়োজন হলেও তা করতে না পারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা।

পাকিস্তানে ট্রেনভ্রমণ সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবহনের অন্যতম। বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নবিত্তের লোকজন ট্রেন ব্যবহার করে বেশি। নিষিদ্ধ থাকার পরও যথাযথভাবে পরিদর্শন করা হয় না বলে ট্রেনে সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়।

মন্তব্য