kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর ১ নভেম্বর

ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে প্রাণদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে প্রাণদণ্ড

জরিমানা ও সাজা কমানোর প্রস্তাব দিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের আইন সংশোধনের দাবি নাকচ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হচ্ছে। বিধিমালা না হলেও নতুন এ আইনটি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এই আইনে বেপরোয়াভাবে বা অবহেলায় গাড়ি চালানোর ফলে দুর্ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হলে বা কারো প্রাণহানি হলে অপরাধীর সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তদন্তে যদি দেখা যায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চালক বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাহলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সাজা হবে ফাঁসি। তবে এটা তদন্ত সাপেক্ষে এবং তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্ধারণ করবে।

গত বছরের ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভা বৈঠকে সম্পূরক এজেন্ডা হিসেবে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইনটি পাস করা হয়।

তার আগে ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ আইনের খসড়াটির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।

গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনায় গড়ে ওঠা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

জাতীয় সংসদে আইন পাস হলেও বিধিমালা না হওয়ার অজুহাতে এটি কার্যকর করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে আইন পর্যালোচনার কমিটি করা হয়। এই কমিটি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে সংশোধনের প্রস্তাব গ্রহণ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংশোধন ছাড়াই এই আইন কার্যকর করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে গত মঙ্গলবার। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর ধারা ১-এর উপধারা ২-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ১ নভেম্বর তারিখকে উক্ত আইন কার্যকর করার তারিখ নির্ধারণ করলো।’

নতুন আইন কার্যকর হলে গাড়িচালকদের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি বা সমমানের পাস হতে হবে। গাড়িচালকের ভুলের জন্য ১২টি পয়েন্ট রাখা হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে এসব পয়েন্ট কাটা যাবে। পয়েন্ট শূন্য হলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।

বিদ্যমান আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ শাস্তি চার মাসের জেল বা ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড। নতুন আইনে এ জন্য ছয় মাসের জেল ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া গাড়ি চালালে ছয় মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এখন এ অপরাধে সাজা তিন মাসের জেল বা দুই হাজার টাকা জরিমানা। ফিটনেসবিহীন গাড়ির জরিমানা এখন সর্বোচ্চ তিন মাসের জেল বা দুই হাজার টাকা। নতুন আইনে এর শাস্তি ছয় মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

বিদ্যামান আইনে গাড়ির চেসিস পরিবর্তন, জোড়া দেওয়া, বডি পরিবর্তন করার শাস্তি দুই বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নতুন আইনে শাস্তি বাড়িয়ে এক থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে মালিকপক্ষের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ, শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণে ব্যর্থতা, যানবাহন ও যাত্রীর বীমা করতে ব্যর্থতা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা না করা ইত্যাদির ক্ষেত্রে।

বিদ্যামান আইনে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা দুই হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন আইনে এ শাস্তি বাড়িয়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন আইনে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের কেউ আহত হলে তার বা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে গাড়ি মালিক, চালক ও হেলপার, কন্ডাক্টরকে। চিকিৎসার ব্যয় তাদের বহন করতে হবে। তা না করলে এক মাসের জেল বা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা