kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হ্যাঙ্গার সরাতেই চার বছর!

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
► আড়াই বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১৮%
► খোঁড়া অজুহাতে দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলো এক বছর

মাসুদ রুমী   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হ্যাঙ্গার সরাতেই চার বছর!

চীন ২০২০ সাল নাগাদ আরো ৭৪টি বিমানবন্দর নির্মাণে কাজ করছে। দেশটি বছরে আটটির বেশি বিমানবন্দর নির্মাণ করছে। দুই বছরে অনেক দেশ একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর বানিয়ে ফেললেও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার স্থানান্তরেই সময় নেবে প্রায় চার বছর। এর মধ্যে আড়াই বছর কেটে গেলেও কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। ভিভিআইপি মুভমেন্ট, বর্ষা মৌসুম, সিকিউরিটি অডিট, প্রকল্পের ড্রয়িং ডিজাইন প্রণয়ন, বর্ধিত কাজসহ নানা অজুহাতে দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ানো হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পের মেয়াদ। এর ফলে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজও বছরখানেক পিছিয়ে যাচ্ছে।  

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের প্রধান বিমানবন্দরের ‘জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার, হ্যাঙ্গার অ্যাপ্রোন এবং ফায়ার স্টেশনের উত্তর দিকে অ্যাপ্রোন নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর মেয়াদ গড়িয়েছে ২০২০ সাল পর্যন্ত। ৪৩০ কোটি ৮০ লাখ টাকার এই প্রকল্পের অগ্রগতিও সন্তোষজনক নয়। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৮.৩৩ শতাংশ।

বেসামরিক বিমান চলাচক কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, শাহজালালের মেগা প্রকল্প থার্ড টার্মিনালের জন্য জেনারেল হ্যাঙ্গার নির্মাণপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত এ টার্মিনালের জন্য যে জমি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে বর্তমানে ভিভিআইপি লাউঞ্জ ও জেনারেল এভিয়েশনের হ্যাঙ্গার আছে। এগুলো বিমানবন্দরের উত্তর সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানান্তর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। হ্যাঙ্গার নির্মাণ শেষ হলেই শুরু হবে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের কাজ।

গত ১ অক্টোবর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হকের সভাপতিত্বে প্রল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, বেবিচকের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ১ মার্চ ৪৩০ কোটি ১৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুন ২০১৯ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়। ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয়। কিন্তু এই মেয়াদে প্রকল্পটি শেষ হবে না বলে ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াও এর মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। যদিও চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত বাস্তব অগ্রগতি ১৮.৩৩ শতাংশ।

দ্বিতীয়বারের মতো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী সুবিধা বাড়াতে জাইকার অর্থায়নে তৃতীয় টার্মিনাল ভবন নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মূল নির্মাণস্থান থেকে আগের সব স্থাপনা প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই সরানো দরকার। কিন্তু সেখানে ১২টি এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স হ্যাঙ্গার আছে। এটি সরিয়ে উত্তর-পূর্ব প্রান্তে নতুন হ্যাঙ্গার অ্যাপ্রোণ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্পের আওতায় শুধু হ্যাঙ্গার নয়, এয়ারক্রাফট পার্কিং অ্যাপ্রোণ নির্মাণ এবং বিমানবন্দরের ড্রেনেজ সিস্টেম নির্মাণের মতো জটিল বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত আছে। আইকাওয়ের (ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন) সব রেগুলেশন মেনে প্রকল্পের ড্রয়িং ডিজাইন প্রণয়ন, বর্ধিত কাজ, বর্ষা মৌসুম, ভিভিআইপি মুভমেন্ট, সিকিউরিটি অডিটসহ নানা কারণে কাজের অগ্রগতি হ্রাস পাওয়ায় প্রকল্পে বাস্তব কাজ ২০২০ সালের ডিসেম্বর সময়ে শেষ করা সম্ভব হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পের ব্যয় না বাড়িয়েই এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। যখন ডিপিপি হাতে নেওয়া হয়, তখন বেবিচক ভুল করে সময় কম রেখেছিল। এটা তো ৯ মাসের প্রকল্প নয়। শুধু সময় এক বছর বাড়ানো হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যেই এ কাজ শেষ হবে।’

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাইট প্রস্তুত ও মবিলাইজেশনের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ফায়ার স্টেশনের উত্তর দিকে অ্যাপ্রোন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে মাটি খননকাজ শেষে স্যান্ড ফিলিং এবং স্যান্ড কম্প্যাকশন কাজ চলছে। জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে পানি নিষ্কাশনের কাজ শেষ হয়েছে। একটি অংশের পাইলিং ও বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, এটি এ প্রকল্পের দ্বিতীয়বার মেয়াদ বৃদ্ধি। ভবিষ্যতে আর মেয়াদ যাতে বাড়ানোর প্রয়োজন না হয় সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘থার্ড টার্মিনালের জন্য আমাদের জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার, হ্যাঙ্গার অ্যাপ্রোন সরিয়ে নিতে হচ্ছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে। এটার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আমাদের থার্ড টার্মিনালের কাজ। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আমাদের এই সময়ের মধ্যে কাজ করে দেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।’

এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সাধারণ সম্পাদক ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে দেশের হেলিকপ্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমাদের পরিচালনার জন্য নির্ধারিত স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রয়োজন। যেখান থেকে জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার সরানো হচ্ছে সেখান থেকে আমরা হেলিকপ্টার সার্ভিস পরিচালনা করে থাকি। শুরু থেকেই আমরা বলছি, বিকল্প ব্যবস্থা না করে এটা সরালে আমাদের সমস্যা হবে। এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা আমাদের জন্য ভোগান্তির বিষয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা