kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চুরির অভিযোগ তুলে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

পুলিশ কর্মকর্তাসহ আটক ২
এসআই রায়হানের বোনের মোবাইল চুরি হলে সন্দেহজনকভাবে এজাহারকে ধরে এনে পেটানো হয়

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুরির অভিযোগ তুলে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ তুলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এজাহার মিয়া (২৭) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে উপজেলার ভাটিয়ারী কলেজপাড়ায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল ভোরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক ইকবাল পারভেজ রায়হান ও তাঁর ভগ্নিপতি মিজানুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছে এলাকাবাসী।

নিহত এজাহার উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বালুর রাস্তা এলাকার মফিজুর রহমানের ছেলে। এজাহার সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। লামিয়া নামে তাঁর দেড় বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। একই এলাকায় পুলিশের এসআই ইকবাল পারভেজ রায়হানের বাড়ি।

পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ কর্মকর্তা রায়হান খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা থানায় কর্মরত থাকলেও সম্প্রতি প্রেষণে তাঁকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে (আরআরএফ) পদায়ন করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরে। সীতাকুণ্ডের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) তাঁর বাবা চাকরি করতেন। সেই সুবাদে তাঁরা সীতাকুণ্ডে বসবাস করেন।

এজাহারের স্বজনদের ভাষ্য, তিন দিন আগে বাসা থেকে রায়হানের বোনের মোবাইল ফোন চুরি হয়। রায়হান এই চুরির জন্য এজাহারকে সন্দেহ করেন। তিনি নিজে এজাহারের ঘরে গিয়ে মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়ার কথা বলেন।

এজাহারের স্ত্রী পপি আক্তার জানিয়েছেন, এসআই রায়হান ঘরে তল্লাশি করে তাঁর মা-বাবার (এজাহারের শ্বশুর-শ্বাশুড়ি) জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যান। এ সময় এজাহারকে তাঁর হাতে তুলে দিতে অথবা মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়ার কথা বলেন রায়হান। পপি বিলাপ করে বলেন, ‘আমার স্বামীকে তারা মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদে নির্মম প্রহার করে হত্যা করেছে। সে যদি সত্যিকারের অপরাধী হয়, তাহলে তাকে পুলিশে দিতে পারত।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১২টার দিকে এজাহার ঘরে ফিরলে তাঁর শ্বশুর এসআই রায়হানকে খবর দেন। এ সময় রায়হান এসে এজাহারকে তুলে নিয়ে যান। ভোরে একটি গাড়িতে করে এজাহারকে তাঁর স্বজনদের কাছে নিয়ে যান রায়হান। স্বজনরা তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এজাহারের শরীরে আঘাত ও জখমের চিহ্ন আছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশের সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রাণী সাহা ও সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম শেখ।

ওসি (তদন্ত) শামীম শেখ জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রায়হান ও তাঁর ভগ্নিপতি মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নুরে আলম মিনা বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি, এসআই রায়হানের বোনের মোবাইল চুরি করেছে মর্মে এজাহার নামের এক যুবককে সন্দেহ করা হয়। এ সন্দেহের ভিত্তিতে এসআই রায়হান গত (সোমবার) রাতে এজাহারকে তুলে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে সে ও তার বোনের স্বামী মিলে এজাহারকে মারধর করে। ভোরের দিকে অসুস্থ অবস্থায় এজাহার হাসপাতালে মারা গেছে। ঘটনা জানার পর আমরা প্রথমে রায়হানের বোনের স্বামীকে আটক করেছি। রায়হান প্রথমে পালিয়ে গিয়েছিল। বিভিন্নভাবে যোগাযোগের পর তাকেও আমরা হেফাজতে নিয়েছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা