kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে বিসিবি

তাঁদের কিছুই বুঝে উঠতে না দিয়ে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে চলে যাওয়ার ব্যাপারটি মোটেও মানতে পারছেন না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান। তবে একই সঙ্গে তিনি এটিও মানছেন যে খেলোয়াড়রা অন্তত একটি দিক থেকে সফল হতে পেরেছেন, ‘আমাকে যেমন বিভিন্ন বোর্ড, আইসিসি, এসিসি থেকে ফোন করে জানতে চাইছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটে তো বিরাট গণ্ডগোল হচ্ছে। এই বার্তাটাই ওরা হয়তো দিতে চেয়েছে এবং আমি স্বীকার করছি এখানটায় ওরা সফল হয়েছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ওরা ক্ষুণ্ন করতে পেরেছে।’ 

ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কথা যখন এসেই গেছে, তখন এর মধ্যে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ আবিষ্কৃত হওয়াই স্বাভাবিক। এবং সেটি হয়েছেও। নাজমুল সরাসরিই এর মধ্যে একটি বিশেষ মহল জড়িত আছে বলে অভিযোগ করেছেন। সেই চক্রান্তে কারা কারা জড়িত, সেটিও বের করার অভিযান শুরু হয়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেও তাঁর আশা, ভারত সফর সামনে রেখে ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের অনুশীলনশিবিরে যোগ দেবেন ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ দল এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে ভারতেও যাবে। যদিও গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই হয়নি ক্রিকেটারদের। ফোন করা হলেও ক্রিকেটাররা হয় ধরছেন না, নয়তো ফোন কেটে দিচ্ছেন বলেও কাল জানানো হয়েছে বিসিবির পরিচালকদের একাংশের জরুরি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে। তাই এখনো ‘নো ম্যানস ল্যান্ডেই’ থাকা চলমান সংকট সমাধানের দিকে এগোনোর কোনো লক্ষণও নেই। যে কারণে নাজমুল আশাবাদের কথা বললেও সব কিছু নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেল।

ক্রিকেটারদের দাবিদাওয়ার অনেক কিছুই এরই মধ্যে পূরণ করা হয়েছে কিংবা করার প্রক্রিয়া চলছে দাবি করে নাজমুল এটিকে ‘পরিকল্পিত’ কর্মসূচি আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত ওরা আমাদের কাছে আসেনি। চিন্তা করে দেখুন। আমরা যে যোগাযোগ করতে চাইছি, ওরা ফোন কেটে দেয়, নইলে ফোন ধরে না। বুঝতে হবে তাই, এটি পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত। আমাদের কাছে না এসে মিডিয়ার কাছে যে সরাসরি গিয়েছে, সেটি বিশেষ কারণে করেছে; তাতে এখন পর্যন্ত ওরা সফল। আমাদের সুযোগ না দিয়ে ওরা যে বয়কট করল, এসব একটি পরিকল্পনার অংশ।’ এই পরিকল্পনায় ‘তৃতীয়’ কোনো ব্যক্তির সূত্রধর হিসেবে কাজ করার ব্যাপারেও যেন নিশ্চিত নাজমুল, ‘এটি পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। একজন লোকই আছেন, যিনি বারবার এসব করছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে। এই ষড়যন্ত্রের কথা সরকার থেকে শুরু করে সবাই জানে। সব ক্রিকেটার এটির সঙ্গে জেনে-শুনে জড়িয়েছে বলে মনে হয় না। এক-দুজন ক্রিকেটার আসল পরিকল্পনাটি জানতে পারে। এই মুহূর্তে বের করা দরকার, কারা এই কাজ করছে। কিছুদিন সময় চাচ্ছি আপনাদের কাছে। সব বের করে ফেলব।’

বের করার কাজ কারা করছেন, সেটিও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি, ‘এটি নিয়ে বাইরের কয়েকজন কাজ করছেন। আমাদের ভেতরেরও (বিসিবির) আছেন। ক্রিকেটারদের মধ্যেও দুয়েকজন থাকতে পারে।’ তবে কি ক্রিকেটারদের ঐক্যেও ভাঙন ধরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে? শিগগিরই সব প্রকাশ করে দেওয়ার নিশ্চয়তাও যেন দিলেন নাজমুল, ‘অটো বের হবে সব, অটো। এটুকু গ্যারান্টি দিলাম, অটো বের হবে সব কিছু।’ একই সঙ্গে বারবারই তাঁর কথায় এসেছে ষড়যন্ত্রের কথা, ‘এটি একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। আমি ভুল প্রমাণিত হলে খুশিই হব। কিন্তু সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।’

সন্দেহের মূল আবিষ্কার করতে হলেও সময় তো কিছুটা লাগবেই। এর আগে ২৪ অক্টোবর থেকে জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ড শুরু হওয়ার কথা। এর পরদিন থেকে অনুশীলনশিবির জাতীয় দলের। এ অবস্থায় কঠোর অবস্থান নিলেও নাজমুল এখনো ক্রিকেটারদের জন্য তাঁর দরজা খোলাই রাখছেন, ‘খেলোয়াড়রা না খেললে খেলবে না। আমাদের কিছু করার নেই। ওরা অনুশীলনশিবিরে গেলে ভালো, না গেলে যাবে না। ক্রিকেটারদের ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা নিজেরাও জানে না। দু-একজন জানতে পারে। আমার দুয়ার ওদের জন্য খোলা। ওরা যদি আমার কাছে আসে, অবশ্যই কথা বলব। আমি তো কথা বলতেই চাই। তবে আমি অবশ্যই আশা করি, অনুশীলনশিবিরও চলবে এবং ভারত সফরও হবে। আমার বিশ্বাস বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই খেলতে চায় এবং ওরা ক্রিকেটের উন্নয়ন চায়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা