kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বোরহানউদ্দিনে সংঘর্ষ

৬ দফা দাবিতে কর্মসূচি, মামলা করল পুলিশ

ভোলা প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৬ দফা দাবিতে কর্মসূচি, মামলা করল পুলিশ

সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার ও বোরহানউদ্দিনের ওসি এনামুল হকের অপসারণসহ ছয় দফা দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ। গতকাল সোমবার সকালে ভোলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনের পরপরই দুপুরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানার এসআই আবিদ বাদী হয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখার স্বার্থে সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন চলবে।

তিনি বলেন, আগামীকাল (আজ) মঙ্গলবার বিকেলে ভোলার সাত উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি, বুধবার সকাল ১১টায় জেলা শহরে মানববন্ধন এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শহরে মানববন্ধন। শুক্রবার বাদ জুমা নিহতদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হবে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক তাঁদের দাবিগুলো মৌখিকভাবে মেনে নিয়েছেন।

তবে ছয় দফার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের কথা অস্বীকার করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিকি। তিনি জানান, তাঁদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুসলিম ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান ছয় দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, ‘আল্লাহ এবং নবী-রাসুলদের নিয়ে কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে যদি দেশে কঠিন শাস্তির আইন থাকত, তাহলে রবিবার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের গুলিতে চারজনকে মরতে হতো না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামকে ব্যঙ্গ ও কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে। বিপ্লব চন্দ্র শুভর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বোরহানউদ্দিনে এমন কোনো পরবেশ তৈরি হয়নি যে পুলিশ গুলি ছুড়বে। পুলিশের হাতে কাঁদানে গ্যাস-রাবার বুলেট ছিল, তারা তা না ছুড়ে সরাসরি গুলি করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ইয়াকুব আলী চৌধুরী, মাওলানা মো. ইউসুফ, মাওলানা মো. আতাহার আলী, মাওলানা তৈয়বুর রহমান, মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা মাহাবুুবুর রহমান, সদস্যসচিব মাওলানা তাজুদ্দিন ফারুকী প্রমুখ।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের নেতারা। ভোলা জেলা প্রশাসন সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করলে মুসলিম ঐক্য পরিষদের নেতারা সমাবেশ থেকে পিছু হটেন।

ভোলার সিভিল সার্জন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় গত রবিবার ভোলা সদর হাসপাতালে ৫৬ জন চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ২০ জনকে প্রাথমিক সেবা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশের মামলার ভয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সবাই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়।

এদিকে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শুভ, ইমন ও শাকিলের নামে ডিজিটাল আইনে আরেকটি মামলা হয়েছে। টেকনিক্যাল বিষয়ে ঢাকাতে আইটি এক্সপার্টদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। ভোলা শহর ও বোরহানউদ্দিনে বিজিবি, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা