kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশেষজ্ঞ মত
সড়ক নিরাপত্তা

ভয়াবহতা লুকিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছা যায় না

ড. সামছুল হক

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভয়াবহতা লুকিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছা যায় না

কোন সমস্যা কতটুকু ভয়াবহ তা চিহ্নিত করতে পারলে তা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে নেওয়া যায়। বিজ্ঞানসম্মতভাবে জানতে হয় ভয়াবহ অবস্থাটি। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার বাস্তব অবস্থা ভয়াবহ। পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমছে। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র থেকে বেসরকারি সংস্থাগুলো যে তথ্য পাচ্ছে তাতে দেখা যায়, দুর্ঘটনা বাড়ছে। সরকারের কাছে পুলিশ তথ্য দিচ্ছে, বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। পুলিশ একসময় বলেছে, ১৭০০ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার মানে কি তা সত্য? মোটেও না। ঘটনা হলো মামলা না হলে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করেই না। কারণ পুলিশের ভিআইপিদের নিয়ে, মামলা নিয়ে কাজ থাকে। কাজের ভারে তারা ৬৭টি পয়েন্টসংবলিত সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যপত্র পূরণ করতে পারে না মাঠে গিয়ে। কোনো রকমে তথ্য দিয়ে তা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাপে পড়ে পুলিশ প্রতিবেদন তৈরি করেছে অতীতে। ১৯৯৮ সালে ব্রিটিশ সংস্থা এসে ২০০৫ সাল পর্যন্ত একটি প্রকল্পের অধীনে ৬৭টি বিষয়ে তথ্যপত্র পূরণ করা শিখিয়েছিল পুলিশকে। এই প্রকল্প এখন নেই, পুলিশ আর আগ্রহবোধও করে না তথ্যপত্র পূরণে।

সরকার মনে করছে, দুর্ঘটনা কমছে। আসলে তা নয়। সড়কে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে, অসংগতি বাড়ছে—এ অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনা কমবে কিভাবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে জরিপ করে থাকে। সংস্থাটির হিসাবে বাংলাদেশে ২০১২ সালে ২১ হাজার প্রাণহানি ঘটেছে। তবে সরকার এ তথ্য স্বীকার করেনি। আবার বিশ্বব্যাংক বলছিল, বছরে ১২ হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে।

পাল্টাপাল্টি প্রতিযোগিতা করে বাস চালানো হচ্ছে। চালকদের বিরামহীনভাবে গাড়ি চালাতে বাধ্য করা হচ্ছে। ২২টি জাতীয় মহাসড়কে হালকা যান চলছে। তা সরকার নিষিদ্ধ করলেও বাস্তবায়ন হয়নি শতভাগ। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সুপারিশ করে নির্দেশনা তৈরি হয়। কিন্তু সমস্যার অবস্থা না জেনে সিদ্ধান্ত নিলে তো কোনো লক্ষ্য অর্জন হবে না। বিশৃঙ্খলা কমাতে হলে বিজ্ঞানসম্মত পরিবহনব্যবস্থা থাকতে হবে। গণপরিবহনব্যবস্থা থাকতে হবে। দ্রুত গণপরিবহনব্যবস্থা থাকতে হবে। সব ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। কোন সংস্থার কী কাজ, তা চিহ্নিত করে নিবিড় তদারকি করে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য গবেষণায় বিনিয়োগ করতে হবে। সরকার বিভিন্ন মহাসড়ক চার লেন করছে। এটা ভালো উদ্যোগ। এক্সপ্রেসওয়েও হচ্ছে। তাতে হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা লেন থাকবে। এতে দুর্ঘটনা কমানোর একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এভাবে কাজ করতে হবে। তবে সমস্যা কতটুকু ও কিভাবে হচ্ছে তা চিহ্নিত না হলে কর্মসুচি হবে লক্ষ্যহীন। 

ড. সামছুল হক : অধ্যাপক, বুয়েট

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা