kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

ডিআইজি প্রিজনস বজলুর রশীদ জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডিআইজি প্রিজনস বজলুর রশীদ জেলে

দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেপ্তার কারা অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) বজলুর রশীদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আল মামুন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে বজলুর রশীদ ও তাঁর স্ত্রী রাজ্জাকুন নাহার রেবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর বিকেলে বজলুর রশীদকে আদালতে হাজির করেন দুদকের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন। তিনি মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বজলুর রশীদকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। অন্যদিকে তাঁর পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানান। আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।

বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে দুদকের ঢাকা সম্মিলিত জেলা কার্যালয়-১-এ একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহীদুজ্জামান বলেন, ‘কারা সদর দপ্তরের ডিআইজি বজলুর রশীদের ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি তদন্ত চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় দুদক তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দুদকের কাছ থেকে কাগজপত্র পেলে আমরা বিধি অনুযায়ী বরখাস্ত করব।’

জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তারের ব্যাপারে দুদক পরিচালক মুহাম্মদ ইউসুফ হোসেন বলেন, কারা অধিদপ্তর নিয়ে দুদকের যে অনুসন্ধান চলছে তাতে বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সব তথ্য-উপাত্তের আলোকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সম্প্রতি ডিআইজি প্রিজনস বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দুদক পরিচালক মুহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বে একটি দল অনুসন্ধান করছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন ও সালাউদ্দিন আহমেদ।

মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ সম্পদের অর্থ থেকে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর রূপায়ণ বিল্ডার্সে তিন কোটি আট লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট আছে বজলুর রশীদের নামে। ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের সঙ্গে তিনি চুক্তি করেছিলেন। এরপর ২০১৮ সালের ৭ জুন পর্যন্ত ৫৪ হাজার টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে চেকে পরিশোধ করেন। আর বাকি তিন কোটি সাত লাখ ৪৬ হাজার টাকা নগদে পরিশোধ করেন। আয়কর নথিতে এই তথ্য গোপন রাখা হয়।

সূত্র মতে, বিপুল পরিমাণ ঘুষের টাকা স্থানান্তর করতে বজলুর রশীদ অভিনব এক পন্থা বেছে নিয়েছেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে শতাধিক ধাপে তিনি তাঁর স্ত্রী রাজ্জাকুন নাহারের কাছে পাঠিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। এ জন্য প্রকৃত ঠিকানা গোপন করে স্ত্রীর নামে সিম তোলা হয়েছে এবং সরাসরি নিজে টাকা না পাঠিয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে ওই টাকা পাঠানো হয়। এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের ২৪টি রসিদে টাকার যোগফল দাঁড়ায় প্রায় কোটি টাকা। সম্প্রতি একটি জাতীয় সংবাদপত্রে তাঁর এ দুর্নীতির তথ্য প্রকাশিত হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর কাছে লেনদেনের বিষয়ে তথ্য জানতে চায়।

কারাগার ও দুদক সূত্র জানায়, কারা ক্যাডারের ১৯৯৩ ব্যাচের কর্মকর্তা বজলুর রশীদ এখন ঢাকায় কারা সদর দপ্তরে ডিআইজি (প্রিজনস) দায়িত্ব পালন করছেন। ডিআইজি হিসেবে এর আগে রাজশাহীতে ছিলেন তিনি। জেল সুপার পদে বরগুনায় কর্মজীবন শুরু করে সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ি এবং জ্যেষ্ঠ জেল সুপার হিসেবে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত ছিলেন তিনি।

কারা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারের পরই নিয়ম অনুয়ায়ী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে গেছেন বজলুর রশীদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আদেশের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা জানানো হবে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা