kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গণভবনে যুবলীগ নেতাদের বৈঠকে শেখ হাসিনা

ভোলার ঘটনা মিথ্যাচার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভোলার ঘটনা মিথ্যাচার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি হিন্দু ছেলের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে সেখানে তার নাম দিয়ে কতগুলো মিথ্যাচার করা হয়েছে। যার ফেসবুক হ্যাক করেছে তাকে আবার ফোন করে ২০ হাজার টাকা চেয়েছে। টাকা না দিলে তার ফেসবুক আইডিতে এমন সব কথা লিখবে, সেটা তার জন্য ক্ষতিকর হবে। এই কথাটা পাওয়ার পরপরই ওই হিন্দু ছেলেটা পুলিশ স্টেশনে গেছে। সে একটা জিডিও করেছে। জিডি করা সত্ত্বেও তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে রেখেছে। সঙ্গে সঙ্গে যে টেলিফোনটা করেছিল তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফেসবুক আইডি হ্যাকিং হলে ফেসবুক অপারেটর যারা তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তাদের কাছ থেকে সব তথ্য জোগাড় করতে পারব।’

গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। ফেসবুকে হিন্দু ছেলেটির আইডি হ্যাক করে তার কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে তার নাম করে যে কথাগুলো লিখেছে, সে তো একজন মুসলমান ছেলে। একজন মুসলমান হয়ে কিভাবে নবী করিম (সা.)-কে নিয়ে এ ধরনের বাজে কথা লেখে এবং আরেকজনকে জড়ানোর চেষ্টা করতে পারে? সেই কথা ধরে সেখানকার এক পীর সাহেব বেশ কিছু লোককে জড়ো করেন। যখন পুলিশ তাদের বোঝাচ্ছে আপনারা এগুলো করবেন না, আমরা গ্রেপ্তার করেছি এবং আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি তখন তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের ওপর চড়াও হলে পুলিশ নিজেদের বাঁচাতে একটি ঘরে আশ্রয় নেয়। সেখানেও তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। একজন এসআইয়ের গায়ে গুলি পর্যন্ত লাগে। সে সময় সেখানে এসপি, ডিসি সবাই পৌঁছে যায়। পুলিশকে রক্ষা করা এবং অন্য সাধারণ মানুষ যারা ছিল সেখানে, যারা তাদের বোঝাতে গিয়েছিল তাদের রক্ষার জন্য গুলি ছোড়ে। ফলে অনেকে আহত হয়। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত বলা হয়েছে, আরেকজনের অবস্থা গুরুতর।

তিনি বলেন, সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো, যে আইডিটা হ্যাক করে এ ধরনের ঘটনা ঘটাল আর সেটাকে কেন্দ্র করে কারা কী উদ্দেশ্যে সমবেত হলো এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ করল সেটাই বড় কথা। এর পর থেকে দেখা যাচ্ছে, ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য। এরা কারা? এদের উদ্দেশ্যটা কী? 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ যদি সত্যিকারভাবে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে এবং নবী করিম (সা.)-এর প্রতি এতটুকু সম্মান থাকে তাহলে আরেকজনের ক্ষতি করার জন্য এই ধরনের জঘন্য কথাটা কিভাবে লেখে? এটাও আমার একটা প্রশ্ন। কাজেই আমি এ ব্যাপারে দেশবাসীকে বলব, সবাইকে ধৈর্য ধরতে। আর যারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, আমরা অন্তত তাদের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য এসব ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। যখনই দেখা যায় দেশটা একটু ভালোভাবে চলছে, অগ্রগতি হচ্ছে। তখনই একটা শ্রেণি নানাভাবে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। এটা যেন কোনোভাবে করতে না পারে সে জন্য আমি সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই। দেশবাসীর কাছে আমার একটাই আহ্বান থাকবে, সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। কেউ যদি আমাদের নবী করিম (সা.)-এর বিরুদ্ধে কিছু লিখে থাকে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যের ক্ষতি করার জন্য যারা এ ধরনের কথা লিখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যবস্থা নেব। টেকনোলজি মানুষ যেমন ব্যবহার করতে পারে আবার কেউ অপকর্ম করলে সেটা ধরার টেকনোলজিও আছে। এটা ধরা পড়বে। কারণ এই ছেলে যদি টেলিফোন করে টাকাটা না চাইত তাহলে তাকে খুঁজে বের করা মুশকিল হতো। এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে। আরো যারা আছে তাদেরও গ্রেপ্তার করব। আমরা ফেসবুক অথরিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের তথ্য দেবে বলে জানিয়েছে।  আরো তথ্য আমরা বের করতে পারব।’

এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা