kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

১৫০০ দখলবাজের কবজায় পার্বতীপুরের রেলের জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৫০০ দখলবাজের কবজায় পার্বতীপুরের রেলের জমি

পার্বতীপুরে রেলের জমিতে নির্মাণাধীন পেট্রল পাম্প। ছবি : কালের কণ্ঠ

কোথাও গড়ে তোলা হয়েছে রেস্টুরেন্ট, কোথাও দোকানঘর, কোথাও আবার বড় ভবন তোলা হয়েছে। এভাবেই দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর রেলস্টেশন ও আশপাশে রেলের জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন প্রায় দেড় হাজার ব্যক্তি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের প্রভাবশালী নেতা, রেল কর্মকর্তাদের ছত্রচ্ছায়ায় এই অবৈধ দখলবাজি টিকে আছে। গত মাসে উচ্ছেদ অভিযানের পর এক মাস সময় চেয়েছিলেন দখলবাজরা। এই সময় আজ শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ দখলবাজরা এক মাসে চার হাজার আবেদন করেছেন রেলের জমি বৈধভাবে ইজারা নেওয়ার জন্য।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুরে ৮০০ একর রেলের জমি আছে। তার মধ্যে ১৯০ একর অপদখলে আছে। এখানে দখলদার প্রায় দেড় হাজার।

মো. মোসলেম দেড় বছর ধরে পার্বতীপুরে ৩৫০২০ বর্গফুট জমি দখল করে এর একটি অংশে পেট্রল পাম্প গড়ে তুলেছেন। মো. সারোয়ার হোসেন ৫৯৬৬ বর্গফুট রেলের জমি দখল করে বগুড়া ট্রেডার্স নামে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। মো. মশিউর রাহমান ৮০৪৬ বর্গফুট রেলের জমি দখল করে দোতলা মার্কেট গড়েছেন। একই ব্যক্তি ১৫০০ বর্গফুট দখল করে সেমিপাকা অবকাঠামো গড়ে তুলেছেন। বসতবাড়ি গড়েছেন। মো. সাজেদুল ইসলাম ৪০৬০ বর্গফুট জমি দখল করে মুড়ির মিল গড়েছেন। মোছাম্মৎ দিলরুবা খাতুন ৪১০০ বর্গফুট রেলের জমি বেদখল করে রজনীগন্ধ্যা হোটেল পরিচালনা করছেন ভবন তৈরি করে। এভাবেই রেলের জমি দখল করে বাণিজ্য চলছে।

পার্বতীপুর রেলওয়ে কোয়ার্টারে ১৩০০ ঘরের মধ্যে ৮৫ শতাংশই অপদখল করে বসবাস করছে দখলকারীরা। তার বাইরে পার্বতীপুরে ইজারা নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৭০০ ঘরবাড়ি তোলা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূমি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ব্রিটিশ আমলে রেলপথ স্থাপনের পর থেকে নানা বাহানায় অবৈধ ব্যবসা-বসতি গড়ে উঠেছে সেখানে। রেলওয়ের তথ্যানুসারে, সেখানে অবৈধ স্থাপনা আছে চার হাজার ৬০০টি। এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে ১৯০ একর রেলের জমি দখল করে। রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের পক্ষ থেকে ১৭ বার এসব স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সফল হওয়া যায়নি। দখলকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়া রেল কর্মকর্তাকে জলাশয়ে চুবিয়েও নির্যাতন করেছে। ১৯৯২ সালে তখনকার ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রমজান আলীকে (বর্তমানে ফুলতলা-মোংলা রেলপথ স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক) উচ্ছেদ অভিযানকালে অবৈধ দখলকারীরা নাজেহাল করেছিল। এরপর আরো ১১ বার উচ্ছেদ অভিযানের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর রেলের পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান দেড় শতাধিক র‌্যাব-পুলিশ-জিআরপি-আরএনবি সদস্যের উপস্থিতিতে চারটি এক্সকাভেটরের সাহায্যে উচ্ছেদ  অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে এক হাজার ২০০ অবৈধ স্থাপনা ও বসতি উচ্ছেদ করা হয়। উদ্ধার করা হয় ৮২ একর জমি। এর মধ্যে মো. মশিউর রহমান নামে এক ব্যক্তি পার্বতীপুর গোডাউন এলাকায় ৬২ শতক কৃষিজমি ইজারা নেন ছয় বছর আগে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে পাঁচ হাজার ৬০০ বর্গফুট আয়তনের সার গোডাউন তৈরি করেন। সেখানে তিন হাজার বস্তা সার ছিল। এটি উচ্ছেদ করা হয় বলে জানান নির্বাহী হাকিম মো. নুরুজ্জামান।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, উচ্ছেদ করা রেলের জমি নতুন বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পর প্রতি বর্গফুট বাণিজ্যিক জমির ইজারা হার কমানোর দাবি জানাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, হার কমালে বৈধভাবেই ইজারা নেবেন জমি। উচ্ছেদ অভিযানের পর প্রায় চার হাজার ব্যক্তি ইজারার জন্য আবেদন করেছেন বলে পাকশী রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা