kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কানেক্টিভিটির অপেক্ষায়

মেহেদী হাসান, সাব্রুম (ত্রিপুরা) থেকে ফিরে   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কানেক্টিভিটির অপেক্ষায়

ফেনী নদী থেকে পানি তোলার চেয়েও চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে ‘কানেক্টিভিটি’কে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমের বাসিন্দারা। তাদের মতে, পানি উত্তোলনের সুযোগটি মানবিক। তবে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে কানেক্টিভিটির সুযোগ পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে দেবে।

গত ৫ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে দুই দেশ চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)’ সই করেছে। বন্দর দুটি ব্যবহারের বিষয়ে ২০১৫ সালে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং গত বছর সই হওয়া চুক্তির ধারাবাহিকতায় ওই এসওপি সই হয়েছে। এর ফলে ভারত চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে চারটি রুটে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য আনা-নেওয়া করতে পারবে। এ ব্যবস্থার আওতায় চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা ও শ্রীমন্তপুর; আসামের সুতারকান্দি এবং মেঘালয়ের ডাউকি বন্দর।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এই কানেক্টিভিটির ফলে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশই লাভবান হবে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য আনা-নেওয়া করার ক্ষেত্রে ভারতের দূরত্ব, পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে। অন্যদিকে পণ্য পরিবহন, মাসুল, বীমা থেকে লাভবান হবে বাংলাদেশ।

গত সপ্তাহে সাব্রুম গিয়ে দেখা যায়, ফেনী নদীর ওপর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ চলছিল। ওই সেতু চালু হলে সাব্রুমের সঙ্গে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সংযোগ স্থাপিত হবে। এতে দুই দেশের মানুষে মানুষে যোগাযোগ আরো বাড়বে। সাব্রুম সীমান্ত থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৭২ কিলোমিটার। সাব্রুম তথা পুরো ত্রিপুরা রাজ্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর প্রবেশদ্বার হতে চলেছে।

আগরতলা থেকে সাব্রুম শহর পর্যন্ত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার যাত্রাপথে দেখা যায়, বাংলাদেশের সঙ্গে কানেক্টিভিটির জন্য বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রস্তুতি নিয়েছে ভারত। আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত পাহাড়ি রাস্তায় মহাসড়ক নির্মাণকাজ শেষ। এই মহাসড়কটির শুরু আসাম রাজ্যে। সাব্রুমের নির্মাণাধীন মৈত্রী সেতুর মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হবে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের ভারত সফরের প্রথম দিনই নয়াদিল্লিতে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। সে সময় তিনি ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশে বন্দরে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, বাংলাদেশে চা রপ্তানি, রামগড়ে স্থল কাস্টম স্টেশন চালু, সীমান্ত হাট চালু, মুহুরীঘাটে ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মাণ, মনুঘাটে স্থল কাস্টম স্টেশন থেকে সীমান্ত বেড়া সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রিপুরায় বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার অনুরোধ জানান।

ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ জানিয়েছে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ জলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা, বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান-নেপালের (বিবিআইএন) মোটরযান চলাচল চুক্তি বাস্তবায়ন, আগরতলা-আখাউড়া রেলপথের নিশ্চিন্তপুর থেকে গঙ্গানগর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ, আগরতলায় মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের

বিষয়েও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী আগরতলা ও ঢাকার মধ্যে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি তুললে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখান।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, আগরতলায় মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতা চেয়েছে ভারত। ফ্লাইট ওঠা-নামার জন্য ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় ‘ক্যাটআই’ বসাতে চায়। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের অনেক যাত্রী এখন আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে আগরতলায় গিয়ে ওই বিমানবন্দর ব্যবহার করে ভারতের অন্যত্র যাতায়াত করে থাকেন। ভৌগোলিক অবস্থানগত নৈকট্য আর তুলনামূলক কম টাকায় ফ্লাইট টিকিট পাওয়ার কারণে ওই রুটটি অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। একইভাবে আগামী দিনে বাংলাদেশ যদি প্রতিযোগিতামূলক দামে ফ্লাইট টিকিট দিতে পারে তাহলে সাব্রুমের জনগণও আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতের জন্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। তা ছাড়া সাব্রুমে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে রামগড়-সাব্রুম রুটে যোগাযোগের গুরুত্ব আরো বাড়বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা