kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধারাবাহিক অভিযান

বন্ড চোরাকারবারি মাতিনকে গ্রেপ্তার নিয়ে ধূম্রজাল

সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্ড চোরাকারবারি মাতিনকে গ্রেপ্তার নিয়ে ধূম্রজাল

বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা কাপড় ও কাগজ পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করা চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিয়ে বন্ড কমিশনারেট এই অভিযান চালাচ্ছে। এতে উঠে আসছে চোরাকারবারিদের সম্পর্কে নানা তথ্য। হচ্ছে একের পর এক মামলা।

সর্বশেষ গত বুধবার কোতোয়ালি থানায় বন্ড কমিশনারেট কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে ইসলামপুরের অন্যতম বন্ড চোরাকারবারি দোলোয়ার হোসেন মাতিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ মামলায় মাতিনকে গ্রেপ্তারের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দায়িত্বশীল কেউ তা স্বীকার করেনি। বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হওয়ায় একাধিক সূত্র বলছে, মাতিন গোয়েন্দাদের কাছে আছেন। তাঁকে ছাড়াতে তদবির চলছে। এই মাতিন ইসলামপুরে বন্ডের চোরাই কাপড় মজুদ ও বিক্রির অন্যতম হোতা। তাঁর নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে গোপন গুদামে বন্ডের কাপড়  রাখেন। এরপর বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বন্ডের রাখেন। এরপর বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বন্ডের চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বন্ড কমিশনারেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মানিক বাদী হয়ে গত বুধবার কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর রাত থেকে ৬ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত ইসলামপুরের বাদশা হাজি আহমেদ কমপ্লেক্সের পঞ্চম তলায় একটি এবং আইটিসি টাওয়ারের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় দুই গুদামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সেখানে থাকা লোকজন পালিয়ে যায়। জব্দ করা মজুদপণ্যের মালিক দেলোয়ার হোসেন মাতিন। তিনি ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি। তাঁর গুদাম থেকে ৯১ হাজার ৫০৯ কেজি কাপড়পণ্য বা ফেব্রিক্স জব্দ করা হয়। এ কাপড়ের মূল্য পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। এসব পণ্য কাস্টম আইন অনুযায়ী বন্ড সুবিধায় আমদানি করা হয়। মামলার এজাহারে দেলোয়ার হোসেন মাতিন ছাড়াও তাঁর সহযোগী গোলাপ খান খোকন, আব্দুর রউফ খোকা, আওলাদ চেয়ারম্যান, বকুল, রনি ও আয়নাল নামে সাতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

আসামিদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানান কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান। দেলোয়ার হোসেন মাতিন গ্রেপ্তারের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বুধবার মামলা দায়েরের পর থেকে আমরা আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। দেলোয়ার হোসেন মাতিনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারিনি। তবে শুনেছি তাঁকে ডিবি ধরেছে।’

বন্ড কমিশনারেটের সহকারী কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) আল আমিন বলেন, ‘দোলোয়ার হোসেন গ্রেপ্তারের কথা আমাদের জানানো হয়নি। তবে আমরাও শুনেছি তিনি নাকি গ্রেপ্তার হয়েছেন।’

মামলার বাদী ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘অফিশিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী আমি মামলার বাদী হই। তবে আসামি গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আমাকে কিছু জানানো হয়নি।’

এদিকে গতকাল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সম্ভাব্য তদন্তকারীদের কাছে খোঁজ নিয়েও মাতিন গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে নিয়ে এক ধরনের ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। একটি সূত্র দাবি করছে, বন্ড কমিশনারেটের সহায়তায় ডিবি পুলিশ মাতিনকে আটক করেছে। তাঁকে নিয়ে অভিযান অব্যাহত আছে। আরেকটি সূত্র বলছে, মাতিনকে আটকের পর ছাড়ানোর তদবির শুরু হয়েছে। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। মাতিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ইসলামপুরে চোরাকারবারিদের অনেক তথ্য উঠে আসবে বলে সূত্র জানায়।

ডিবির দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হাসান আরাফাতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোতোয়ালি থানা এলাকাটি তাঁর আওতাধীন। তবে সেখানে বন্ড কাপড় কালোবাজারির আসামি দোলোয়ার হোসেন নামে কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

বন্ড কমিশনারেট সূত্র জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর এবং গত ৫ অক্টোবর ইসলামপুরে দুটি অভিযানে ১৮৪ টন চোরাই বন্ডেড ফেব্রিকস আটক করা হয়। এসব পণ্য বিভিন্ন বন্ডেড প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধায় আমদানি করে রপ্তানিতে ব্যবহারের পরিবর্তে অবৈধভাবে চোরাই মার্কেটে বিক্রি করে দিয়েছে। এ ঘটনায় কাস্টম আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহায়তায় কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক মওদুদ হাওলাদার ৭ অক্টোবর সেগুনবাগিচায় অভিযান চালিয়ে মোরছালিন (২৬) ও সাজ্জাদ (৩০) নামে দুই চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করেন। এসব অভিযানের সূত্রেই সাত চোরাকারবারির তথ্য মেলে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরান ঢাকার ইসলামপুর ও নয়াবাজারে বন্ড চোরাকারবারিদের কারণে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। তাঁরা বন্ডেড হাউসের সুবিধায় আমদানি করা কাপড় ও কাগজ পণ্য কম দামে বাজারে ছেড়ে দেওয়ার কারণে দেশীয় শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রন্ত হচ্ছে। এতে সাধারণ রপ্তানিকারকরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা