kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডিবি থেকে র‌্যাব হেফাজতে

সম্রাট ও আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সম্রাট ও আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তাঁর সহযোগী এনামুল হক আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজত থেকে র‌্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁদের র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নেওয়ার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, অবৈধ ক্যাসিনো-জুয়া ও চাঁদাবাজি নিয়ে হোতাদের ব্যাপারে সম্রাট ও আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ কারবারের টাকা কোথায় কিভাবে পাচার করা হয়েছে, সে বিষয়েও জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এর আগে গত বুধবার ডিবি থেকে অস্ত্র ও মাদক মামলার তদন্তভার র‌্যাবের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ও র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম গতকাল বিকেলে বলেন, ‘ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও এনামুল হক আরমানকে র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে করা মামলা দুটির তদন্ত করবে র‌্যাব। সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তাঁদের ডিবি থেকে র‌্যাবের আওতায় আনা হয়েছে।’

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত গত মঙ্গলবার দুই মামলায় সম্রাটের পাঁচ দিন করে ১০ দিন এবং আরমানের এক মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই দিন বিকেলেই দুজনকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। গত বুধবার মামলা র‌্যাবের আওতায় চলে যাওয়ার পর গতকাল নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করেন। এরপর আদালতের নির্দেশনা নিয়ে দুপুরেই মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে দুই আসামিকে গ্রহণ করে র‌্যাব। এরপর তাঁদের কুর্মিটোলায় র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সূত্র জানায়, ডিবি হেফাজতে সম্রাট নিজেকে অসুস্থ বলে দাবি করেন। র‌্যাবের হেফাজতে আনার পরও তিনি একই তথ্য জানান। এ কারণে স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে অবৈধ ক্যাসিনো কারবার এবং চাঁদাবাজিতে সম্রাট কিভাবে সুবিধা পেয়েছেন, তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি কোথায় কিভাবে পাচার করেছেন, তা-ও জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। রিমান্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর সম্পর্কে পাওয়া তথ্যগুলোও যাচাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। শুরু হয় নানামুখী গুঞ্জন। এরই এক পর্যায়ে গত ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সহযোগী আরমানসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারের সময় আরমান মদ্যপ অবস্থায় থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর সম্রাটকে নিয়ে রাজধানীর কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে এক হাজার ১৬০ পিস ইয়াবা, ১৯ বোতল মদ, পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ৭ অক্টোবর র‌্যাব-১-এর ডিএডি আবদুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। এই দুই মামলায় সম্রাট আসামি। আরমান শুধু মাদকের মামলার আসামি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা