kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আবরারকে পিটিয়ে হত্যা

অমিত-তানভীর ফের তিন দিনের রিমান্ডে তোহা কারাগারে

এখনো এজাহারভুক্ত তিন আসামি অধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অমিত-তানভীর ফের তিন দিনের রিমান্ডে তোহা কারাগারে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অমিত সাহা ও তাবাখখারুল ইসলাম তানভীরকে আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তাঁদের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন। একই মামলায় গ্রেপ্তার তোহাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা ও সদস্য তানভীরকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। মহানগর হাকিম আবু সাঈদ শুনানি শেষে তাঁদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অমিত সাহাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে তানভীরকে কারাগার থেকে দুপুরের আগে আদালতে হাজির করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, অমিত ও তানভীর হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও তাঁদের নাম এসেছে। তাঁদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা প্রয়োজন।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর অমিতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গতকাল তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো রিমান্ডে নেওয়া হলো। অন্যদিকে গত ৮ অক্টোবর তানভীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গত ১৩ অক্টোবর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ১৫ অক্টোবর আবার তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত গতকাল শুনানির দিন ধার্য করেন।

তোহা কারাগারে : পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তোহাকে আদালতে হাজির করে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তোহাকে গত ১১ অক্টোবর পাঁচ দিনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ১৯ আসামির মধ্যে ১৬ জন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচজনসহ মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁরা হলেন ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, অনিক সরকার, মো. মোজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন ও মনিরুজ্জামান মনির।

এজাহারভুক্ত তিন আসামি এখনো অধরা : মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আবরার হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. জিসান, মো. মোর্শেদ ও মো. তানিমকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

ডিবি সূত্র জানিয়েছে, পলাতকদের ব্যাপারে এরই মধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের সঠিক অবস্থান জেনে অভিযান চালানো হবে। শিগগিরই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে। ডিবির অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আবরার হত্যাকাণ্ডে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। কারণ এ হত্যাকাণ্ডের বেশির ভাগ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। বেশ কয়েকজন ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। জবানবন্দিতে এখন পর্যন্ত ঘুরে-ফিরে যাঁদের নাম এসেছে তাঁদের অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া মামলার আলামত, তদন্ত, ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষীদের বক্তব্য ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে যাঁদের নাম পাওয়া যাবে অভিযোগপত্রে তাঁদের নামও আসবে। সে ক্ষেত্রে ২৪ থেকে ২৫ জন বুয়েট ছাত্রকে আসামি করা হতে পারে। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই অভিযোগপত্র দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেরি হলেও ১৩ নভেম্বরের মধ্যেই অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা