kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বুয়েটে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা রুখে দিতে গণশপথ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বুয়েটে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা রুখে দিতে গণশপথ

আবরার হত্যার প্রেক্ষাপটে সব ধরনের সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দেওয়ার শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে বুয়েট মিলনায়তন থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সব ধরনের সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দেওয়ার গণশপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা।

গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বুয়েট মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এই গণশপথে অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও কয়েকজন শিক্ষকও শপথ নেন। তবে দর্শক সারিতে উপস্থিত অন্য শিক্ষকরা শপথে অংশ নেননি।

আবরার ফাহাদ হত্যার প্রেক্ষাপটে সব ধরনের সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দিতে এই গণশপথের আয়োজন করেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে আবরার হত্যাকাণ্ডের পর মাঠের আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক ইতি টানলেন তাঁরা।

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে  প্রথমে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরে বুয়েট মিলনায়তনে একত্র হয়ে শিক্ষার্থীরা গণশপথ নেন। শপথবাক্য পাঠ করান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিয়া রিজওয়ানা।

শপথবাক্যে বলা হয়, ‘এই মুহূর্ত থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে সকলের কল্যাণ ও নিরাপত্তার নিমিত্তে আমার ওপর অর্পিত ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক, নৈতিক ও মানবিক সকল প্রকার দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় আমার জ্ঞাতসারে হওয়া প্রত্যেক অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকব।’

শপথবাক্যে আরো বলা হয়, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে আমরা সম্মিলিতিভাবে রুখে দেব। নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সমূলে উৎপাটিত করব। এই আঙিনায় যেন আর কোনো নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে না যায়, আর কোনো নিরপরাধ কেউ অত্যাচারের শিকার না হয়, তা আমরা সবাই মিলে নিশ্চিত করব।’

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শপথগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আবরার হত্যায় জড়িতদের বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। আপনারা অধৈর্য হবেন না, কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।’

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। পরদিন থেকে এই হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার হন বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তদের আজীবন বহিষ্কার, বুয়েটে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে ফুঁসে ওঠেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেন। পরে মাঠের আন্দোলন স্থগিত করে হত্যাকারীদের আজীবন বহিষ্কার না করা পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন তাঁরা। এমতাবস্থায় গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখে দিতে গণশপথ নেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা