kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশেষজ্ঞ মত

ওরা মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি

ড. মাহফুজা খানম

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওরা মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি

মনোবিশ্লেষণের জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েডের তত্ত্ব অনুসারে মানুষ যখন জন্ম নেয় তখন আসলে পশু প্রবৃত্তিটাই বেশি থাকে। ইড, ইগো, সুপার-ইগোর স্তরবিন্যাস করলে যারা ইড পর্যায়ে রয়ে গেছে তারা যেকোনো সময় যেকোনো অপরাধমূলক কাণ্ড ঘটাতে পারে। কারণ জন্মের পরবর্তী সময়ে মানবিক শিক্ষা, নৈতিকতা—এ জিনিসগুলোর সমন্বয়ে ধীরে ধীরে বিবেকসম্পন্ন মানুষ হয়। যারা শিক্ষা থেকে দূরে থাকে তাদের মধ্যে পশু প্রবৃত্তিটাই বেশি থাকে। তাই আমাকে বলতে হচ্ছে, যারা নিজের সন্তানকে কিংবা নিষ্পাপ শিশুদের নৃশংসভাবে মেরে ফেলার মতো ঘটনা ঘটায় তাদের ভেতরে বিবেকসম্পন্ন মনুষ্যত্ব তৈরি হয়নি। এরা আসলে পশু প্রবৃত্তির ভেতরেই রয়ে গেছে। নৈতিক বা মানবিক গুণাবলি দ্বারা এসব মানুষের মানসিক বৃদ্ধি ঘটেনি।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত অনেকেও মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বুঝতে হবে যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেলেও তারা প্রকৃত শিক্ষিত নয়। মানুষ হিসেবে শিক্ষিত হতে হবে—সে ক্ষেত্রে কারো ডিগ্রি না থাকলেও সে একজন ভালো মানুষ হতে পারে। আমরা এখানে মানবিক, নৈতিক ও বিবেকবোধের শিক্ষাকেই গুরুত্ব দেব। যাতে সব মানুষের মধ্যে শৈশব থেকেই এই বোধ জাগ্রত হয়, সে জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার থেকেই এর গোড়াপত্তন ঘটাতে হবে। যাতে মানুষ আসলেই মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।

সমাজেরও বড় দায় রয়েছে। সামাজিক নানা অবক্ষয়ের প্রভাবেও অনেক ক্ষেত্রে কিছু মানুষের মনোবৃত্তির অবক্ষয় ঘটে। এ জায়গাতেও শুরুটা পরিবার থেকেই করতে হবে। কারণ পরিবার ঘিরেই কিন্তু সমাজ। পরিবার থেকে যদি ভালো শিক্ষা নিয়ে সমাজে বের হয় তাহলে সেই মানুষের মাধ্যমে সমাজেও ভালো প্রভাব পড়বে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি।

রাষ্ট্রকেও এসব ক্ষেত্রে সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে আইনের প্রতিপালনে যদি রাষ্ট্রের কোনো স্তর থেকে ঘাটতি থাকে, সেটার প্রভাবও কিন্তু সমাজ ও মানুষের ওপর পড়ে। বিশেষ করে কোনো অপরাধের সঠিক বিচার যদি না হয় কিংবা বিচার দীর্ঘায়িত হয় অথবা বিচারহীনতার প্রকাশ ঘটে, তা থেকে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। আর অপরাধ করে কেউ পার পেয়ে গেলে সেই সমাজে অপরাধের প্রবণতা বাড়ে। সেই অপরাধের কোনো স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় থাকে না। কে আপন কে পর সেটিও তখন মুখ্য থাকে না। অপরাধ করার চিন্তাটি তখন অবাধ হয়ে ওঠে। আইন অমান্য করার সাহস পায়। কিন্তু আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে মানুষ তখন আইনকে ভয় পায়; অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে সেটা মনের ভেতরে কাজ করে। এ জন্য রাষ্ট্রকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকায় আসতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা