kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

রাস্তায় চলাচলে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রাস্তায় চলাচলে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে

ছবি: কালের কণ্ঠ

সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য যানবাহন চালক, পথচারীসহ সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাস্তায় চলাচলে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘অহেতুক একটি প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। যানবাহন চালকদেরও একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। তা না হলে দুর্ঘটনা ঘটবে।’

গতকাল বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় চার লেনবিশিষ্ট ফ্লাইওভার, সেতু, বাইপাসসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

পরে একই স্থান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম- ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে নতুন আন্ত নগর ট্রেন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের র‌্যাকে নতুন কোচ প্রতিস্থাপনেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের রেল বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল দেশের জন্য আত্মঘাতী।

সরকার সড়ক উন্নয়ন করছে, তবে সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোন সড়ক কত বড় বা ভারী যানবাহন চলতে পারে সে বিষয়টা একটু খেয়াল রাখা দরকার। কারণ অনেক সময় অনেকে এই বিষয়টি মানতে চান না।’ তিনি বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের কথা আমরা বলছি। ইতিমধ্যে আমরা নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়ন করেছি। কাজেই যাঁরা রাস্তায় চলাচল করেন, তাঁরা যখন রাস্তা পার হবেন তখন ডান এবং বাম এই দুই দিকে দেখে সচেতনভাবে পার হতে হবে। আবার রাস্তায় যাঁরা যানবাহন, গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালাবেন তাঁদেরও সচেতন হতে হবে। বাস, ট্রাকচালকদেরও সচেতন হতে হবে।’

উদ্বোধন করা অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে ময়মনসিংহ-গফরগাঁও-টোক সড়কের ৭২তম কিলোমিটারে বানার নদীর ওপর ২৮২ দশমিক ৫৫৮ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের ইন্দ্রপুল থেকে চক্রশালা পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ, ভোমরা স্থলবন্দর সংযোগসহ সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক এবং মুন্সীগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো (১৩টি সেতু) স্থায়ী কংক্রিট সেতু দ্বারা প্রতিস্থাপন।

স্কুল পর্যায় থেকেই সড়কে চলাচলের আইন প্রশিক্ষণ দেওয়ায় তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তার কোন দিক থেকে হাঁটতে হবে, সেটাও একটি শিক্ষণীয় বিষয়। কখন পার হতে হবে সেটাও শিক্ষণীয় বিষয়। আমি মনে করি, আমাদের প্রতিটি স্কুলে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই স্কুলজীবন থেকেই এই শিক্ষাটা প্রদান করা একান্তভাবে দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর উদ্বোধন করা সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার ও বাইপাস ব্যবহারে সবাইকে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি তৈরি করে দিচ্ছি, কিন্তু এটা দেখভালের দায়িত্ব এবং এটা যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য যাঁরা ব্যবহার করবেন এবং স্থানীয় জনগণ সকলেরই এ ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে। সে দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন বলেই আশা করি।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণভবন প্রান্তে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানে বত্তৃদ্ধতা করেন।

পাক-ভারত যুদ্ধের পর বন্ধ হওয়া রেললাইনগুলো চালু হবে : ট্রেনসংক্রান্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো এক আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনা ছিল যে যেটা লাভজনক নয় তা বন্ধ করে দেওয়ার। সেই নির্দেশনায় বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে রেল যোগাযোগটাকেই সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য অনেকগুলো রেললাইন এবং রেলস্টেশন বন্ধ করে দেয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরই সিলেট ও চট্টগ্রামে দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুসহ রেলকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর যেসব রেলপথ বা লিংক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেসবও তাঁর সরকার নতুনভাবে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি, যেসব স্থানে রেল যোগাযোগ ছিল না সেখানেও রেল যোগাযোগ চালু করা হচ্ছে। ফলে সাধারণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বল্প খরচে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এ সময় চিলমারী বন্দর আবার চালুকরণসহ উত্তরাঞ্চলের ভাওয়াইয়া গানের প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণেও তাঁর সরকার এগিয়ে আসবে বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এবং লালমনিরহাটে একটি এরোস্পেস অ্যান্ড এরোনটিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে তাঁর সরকার সেখানে প্লেন তৈরি করার স্বপ্ন দেখছে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নতিটাও প্রয়োজন। আর যেন উত্তরবঙ্গবাসীকে মঙ্গা শব্দটা শুনতে না হয় সে ব্যবস্থা আমরা করেছি।’

বক্তব্য শেষ করে বাঁশি ফুঁকে ও সবুজ পতাকা উড়িয়ে নতুন ট্রেনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রংপুর ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের র‌্যাকে নতুন কোচ প্রতিস্থাপন করেন শেখ হাসিনা।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী মো. নুরুজ্জামান আহেমদ গণভবন প্রান্তের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে বত্তৃদ্ধতা করেন। সূত্র : বাসস।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা