kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পরিসংখ্যান কোনো রসিকতা নয়

► বিবিএসে সংস্কার আনা জরুরি
► আমলাতন্ত্র দিয়ে আইএমইডি চলবে না
► পিডিদের প্রকল্প এলাকায় থাকতে হবে

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পরিসংখ্যান কোনো রসিকতা নয়

ছিলেন সিএসপি কর্মকর্তা। ২০০৩ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ২০০৫ সালে। দশম জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে হন পূর্ণ মন্ত্রী। তিনি হলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

সরকারের উন্নয়ন বাজেট প্রণীত হয় তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে। সরকারের একমাত্র প্রকল্প নজরদারি সংস্থা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েরই আওতাধীন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোও (বিবিএস) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতায়। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মসংক্রান্ত আমাদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যগুলো নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মুখোমুখি হই গত ২২ আগস্ট। রাজধানীর শেরেবাংলানগরে মন্ত্রীর দপ্তরে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে সাক্ষাত্কালে বিবিএস, আইএমইডি ও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আরিফুর রহমান কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শুমারি ও জরিপের তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিবিএসের প্রকল্পগুলোতেও অনিয়ম উঠে এসেছে। বিবিএসের তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা নিয়ে কী করছেন?

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান : দেখুন, পরিসংখ্যান কিন্তু অন্য আট-দশটা মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগের মতো নয়। এখানে কাজটা ভিন্ন। পুরোটা কারিগরি। পরিসংখ্যান একটি বিজ্ঞান। পরিসংখ্যান নিয়ে যারা পড়াশোনা করেছেন, তাঁদেরই সেখানে থাকা উচিত। বিবিএস অনেক জরিপ ও শুমারি করছে। কিন্তু কোন কাজটা আগে করা উচিত, তারা সেটা নির্ধারণ করতে পারছে না। আমার সামনে দশটা কাজ আসছে। আমাকে ঠিক করতে হবে, কোনটা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন জনশুমারি, কৃষিশুমারি, শ্রমশক্তি জরিপ, খানা আয়-ব্যয় জরিপ—সরকারের যেকোনো নীতিকৌশল প্রণয়নের জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিবিএস এমন কিছু কাজ করে, যেটা আমি হলে করতাম না। তাদের বাছাইপ্রক্রিয়াটা বেশ দুর্বল। বিবিএস এমন কিছু কাজ করে, যেগুলো অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ। সেসব আমাদের দরকার আছে ঠিকই; কিন্তু আমাদের তো আরো জরুরি কাজ আছে। এখানে প্রশিক্ষিত মানুষ দরকার। এটা কারিগরি সংস্থা। এখানে সংস্কার আনা জরুরি। সেটি আমি ধীরে ধীরে করব। তবে এক লাফে করব না। এতে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। আমি পরিসংখ্যানের গুরুত্ব বাড়াব। কারণ পরিসংখ্যান কোনো রসিকতা নয়। দিন দিন এর গুরুত্ব বাড়ছে। পরিসংখ্যান ছাড়া কোনো কাজই করতে পারব না। পরিসংখ্যান এমন এক জিনিস, যেখানে বাসি জিনিসের কোনো মূল্যই নেই। বাসি ভাত যেমন শরীরের জন্য খারাপ, তেমনি খারাপ পরিসংখ্যান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য বিপজ্জনক। আমি যদি বাসি পরিসংখ্যান ব্যবহার করি, তাহলে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাও ভুল হবে। এখানে যত বিনিয়োগ দরকার, তা-ই করব। আমি বিবিএসে প্রযুক্তি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমাহার ঘটাব। বিবিএসের তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা অবশ্যই নিশ্চিত করব। এটা আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি।

কালের কণ্ঠ : আমরা বেশ কয়েকটি প্রকল্পকাজ অনুসন্ধান করে দেখেছি, সেগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। এ বিষয়ে আপনার মন্ত্রণালয় কী করতে পারে?

পরিকল্পনামন্ত্রী : প্রকল্পগুলোর ধীরগতির বিষয়ে আমি বলব, স্রেফ দায়িত্বজ্ঞানহীন। কর্মকর্তাদের গাফিলতি। দেখা গেল, প্রকল্পের কাজ রংপুরে চলছে। কিন্তু আপনি দেখবেন প্রকল্প পরিচালক ঢাকায় অবস্থান করছেন। ওই প্রকল্প পরিচালকের ওপরে যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরাও তাঁদের সঠিক দায়িত্বটা পালন করছেন না। এতে মাঠে যারা কাজ করে, তারা সুযোগ পায়। এ ছাড়া তারা নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনাও পায় না। আমাদের দেশে এটাই প্রধান সমস্যা। আমি এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনি। কাউকে ছোট করা আমার উদ্দেশ্য নয়। জনগণেরও জানার অধিকার আছে। আপনারা যাঁরা গণমাধ্যমে আছেন, আপনারা প্রকল্পের ধীরগতির বিষয়গুলো তুলে ধরুন। আমি মনে করি, প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) অবশ্যই তাঁর প্রকল্প এলাকায় থাকা উচিত। এ বিষয়ে আমি বিভাগীয় সফরে গিয়ে পিডিদের নির্দেশনা দিচ্ছি। প্রকল্প পরিচালক মাঠে না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই প্রকল্পের গতি কমে যায়। এতে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় না।

আমরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় দুইবারের বেশি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াই না। আমার কাছে দুইবারের বেশি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব এলে আমি তা একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাই। প্রকল্প পরিচালক যে কাজ করছেন না, সেটা প্রধানমন্ত্রী জানুক; মানুষও জানুক। অবশ্য অনেক সময় প্রকল্পের মেয়াদ তৃতীয়বারের মতো বাড়ানোর শক্ত কারণ থাকে। কিন্তু অনেক প্রকল্প আছে, কোনো কারণ ছাড়াই মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব আসে। তখন দেখা যায়, কাজের গাফিলতি থাকে। প্রকল্পের কাজ সঠিক সময়েই শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে আমি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। 

কালের কণ্ঠ : সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প নজরদারি ও মূল্যায়ন করার দায়িত্ব আইএমইডির। কিন্তু সংস্থাটি মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প নজরদারিতে না গিয়ে এখন আউটসোর্সিংয়ের কাজে ব্যস্ত। এতে সংস্থাটির কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলে মনে করেন কি?

পরিকল্পনামন্ত্রী : দেখুন, আইএমইডির বিশাল কাজ। এটি পুরোপুরি কারিগরি সংস্থা। তার নাম দেখেন—বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন। সারা দেশে যত প্রকল্প আছে, সব নজরদারি করা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু বিশাল কাজ করার মতো তাদের পর্যাপ্ত জনবল নেই। আবার জনবল থাকলেই হয় না। কাজের মতো লোক থাকতে হয়। আমলাতন্ত্র দিয়ে সেখানে হবে না। আইএমইডিকে আলাদাভাবে দেখতে হবে। তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা দিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা সেটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আমরা আইএমইডির কাজে গতি আনার চেষ্টা করছি। আমরা বিভাগীয় শহরগুলোতে যাচ্ছি প্রকল্প নজরদারির জন্য। বিভাগীয় শহরে গিয়ে প্রকল্প পরিচালকদের জবাবদিহির আওতায় আনছি। পরবর্তী সময়ে আমরা জেলা শহরেও প্রকল্প নজরদারিতে যাব। আইএমইডিকে অবশ্যই সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় রূপ দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা