kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইএমইডি সচিবের ঘোষণা

সভা-সেমিনারের সম্মানীতে সংস্কার আনব এ বছরই

আরিফুর রহমান   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সভা-সেমিনারের সম্মানীতে সংস্কার আনব এ বছরই

‘এডিপিতে শর্ষেয় ভূত’ শীর্ষক ধারাবাহিক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্বে গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠে ‘বৈধতার মোড়কে টাকা লুটপাট; নীতি আদর্শ থেকে বিচ্যুত আইএমইডি ব্যস্ত আউটসোর্সিং বৈঠকে’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি ছাপা হওয়ার পর এই প্রতিবেদককে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁর কার্যালয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন আইএমইডি সচিব আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ। গতকাল ১২টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে আইএমইডি সচিবের রুমে ঢোকার পর কুশল বিনিময় শেষে সচিব বলেন, ‘আউটসোর্সিংয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশ নেওয়া এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী গ্রহণ এই বিভাগে দীর্ঘদিন ধরেই চালু আছে। এটি আমার সময়ের নয়। আগের ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত আছে। তবে আমি ঘোষণা দিচ্ছি, চলতি অর্থবছর থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈঠক সম্মানী পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে।’

সচিব একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘এ বছর থেকে আমি নিজে আউটসোর্সিং সভা-সেমিনারে বসে কোনো সম্মানী নেব না। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকেও এ বছর থেকে সম্মানী না নেওয়ার কথা আমি সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি। শুধু তা-ই না, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সভা-সেমিনার থেকে যে টাকা নিয়েছি, তা সরকারকে ফেরত দিয়ে দেব।’ সচিব বলেন, ‘গত বছর ডিসেম্বরে যখন আমি এই বিভাগের দায়িত্বভার গ্রহণ করি, তখন আউটসোর্সিংয়ের কোনো কিছু পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। কারণ তখন বাজেট পাস হয়ে গেছে। কিন্তু এ বছর এখনো আউটসোর্সিংয়ের বাজেট পাস হয়নি। তাই সংস্কারের সুযোগ রয়েছে।’

আউটসোর্সিংয়ে কী ধরনের সংস্কার আনা হবে জানতে চাইলে সচিব আবুল মনসুর ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘এ বছর থেকে আমরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী পাওয়ার ক্ষেত্রে যৌক্তিকীকরণ করব। ঢালাওভাবে সবাই সম্মানী পাবে না। সম্মানীর অঙ্কেও পরিবর্তন আসবে।’ তিনি আরো বলেন, অনেকের মনে হতে পারে, ‘আউটসোর্সিং পদ্ধতিটি আমার সময়ে নেওয়া। কিন্তু আমি এই বিভাগে এসে শুধু অতীতের ধারাবাহিকতায় পড়েছি।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আমি এই বিভাগে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর দেখেছি, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অনেক ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। তাদের আমি চিহ্নিত করেছি। এ বছর থেকে কোনো ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে না। আমি আউটসোর্সিংয়ের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চাই। এত দিন যারা প্রকল্প মূল্যায়নের কাজ পেত, তাদের অনেকেই অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতাসম্পন্ন ছিল। এমন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে আমি চিহ্নিত করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠান ভালো এবং সব যোগ্যতা থাকবে, কেবল তারাই কাজ পাবে।’ সচিব বলেন, ‘এত দিন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কোনো প্রকল্প মূল্যায়নের পর প্রতিবেদন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তাতে অনেক সুপারিশই অগ্রাহ্য হতো। আমি এ বছর থেকে আমাদের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ তাগিদ দেব।’ আইএমইডি সচিব বলেন, তিনি এই দপ্তরে আসার পর উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি ঠেকাতে মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রকল্প পরিচালকদের জবাবদিহিতে আনার কাজ শুরু করেন, যেটি আগে এই বিভাগে হয়নি। এ ছাড়া বড় বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিভাবে একসঙ্গে এত প্রকল্পের কাজ পায়, ছোট প্রতিষ্ঠান কেন কাজ পায় না, সরকারি ক্রয়নীতিতে কোথায় ত্রুটি আছে এ সবকিছু জানার জন্য আজ বৃহস্পতিবার ১৫টি সরকারি সংস্থাকে ডেকেছেন তিনি। উদ্দেশ্য হলো, সরকারি ক্রয়নীতিতে কোথায় সমস্যা তা জানা। কিভাবে একটি কম্পানি এত কাজ পায়, সরকারি ক্রয়নীতিতে ত্রুটি কোথায় তা সবার কাছ থেকে শোনা হবে বলে জানান সচিব।

আইএমইডি সচিব বলেন, ‘আউটসোর্সিং বৈঠকের মাধ্যমে যে সম্মানী নেওয়া হয়, তা সরকারি ক্রয়নীতি অনুসরণ করেই নেওয়া হয় এবং তা অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত। ফলে এ সম্মানী বৈধ।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা