kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি

আবদুল হাই বাচ্চুর জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবদুল হাই বাচ্চুর জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি দুদক

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর জড়িত থাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এমনটি দাবি করেন তিনি।

দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, ‘বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির বিষয়ে এই কমিশনের সময়ে কোনো মামলা হয়নি। এই কমিশন শপথ ভঙ্গ করেনি। কারো পারসেপশনের ভিত্তিতে আমরা চার্জশিট করতে পারি না। অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণের মতো এখনো কোনো তথ্য-প্রমাণ পায়নি দুদক। তাই কমিশন এ নিয়ে চার্জশিট দেওয়ার মতো নির্দেশনা দিচ্ছে না, সময় নিচ্ছে।’

দুদক সচিব আরো বলেন, ‘আমরা হাফ ডান চার্জশিট করতে চাই না। বাচ্চুর বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

গত সোমবার আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে দুদক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি অভিযোগ করে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস সংস্থার চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দুদক চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইকবাল মাহমুদের সরে যাওয়া উচিত। আর দুদক চেয়ারম্যান যদি বলে থাকেন বা বলতে চান বা মনে করেন যে তিনি কোনো প্রভাবের কারণে ব্যবস্থা নেননি, তাহলে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। সে কারণে তাঁর অবশ্যই পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত।’

ফজলে নূর তাপসের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে গতকাল গণমাধ্যম কর্মীরা দুদক কার্যালয়ে যান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংস্থার সচিব বলেন, ‘আমরা কালকের সংবাদে দেখেছি যে কমিশন শপথ ভঙ্গ করেছে—এমন বক্তব্য এসেছে। আমাদের কোনো কমিশনার বা চেয়ারম্যান শপথ গ্রহণ করে দায়িত্ব গ্রহণ করে নাই। এগুলো আমাদের তদন্ত কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। এর দায়দায়িত্ব কমিশন বা চেয়ারম্যানের ওপর বর্তায় না। সুতরাং এ ক্ষেত্রে পদত্যাগের প্রশ্ন কেন আসছে বুঝতে পারছি না।’

দিলোয়ার বখত আরো বলেন, ‘অর্থের উৎস, অর্থ কোন জায়গায় ব্যবহার হয়েছে, কোথায় সম্পদ হিসেবে কনভার্ট হয়েছে, সেগুলো নিষ্পত্তি শেষে যাকে আইনের আওতায় আনার তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে তাকেই চার্জশিটভুক্ত করা হবে।’

দুদক সচিব বলেন, ‘এ টাকাটা যখন চেকে নিয়েছে, উত্তোলন করার পরে টাকা যদি ব্যাংকে রাখা হতো, তাহলে উৎস পাওয়া যেত। টাকা নিয়ে একেকজন একেক কাজে ব্যবহার করেছে। সেখানে মানি লন্ডারিং হয়েছে। কাজেই অর্থের উৎস খুঁজতে গিয়ে অনেক সময় বিলম্ব হয়ে থাকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার মধ্যে বেশির ভাগ টাকাই নগদে উত্তোলন হয়েছে। এ টাকাগুলি কোথায় ব্যবহার কিংবা জমা হয়েছে আমাদের কর্মকর্তারা বের করতে পারেন নাই। তদন্ত কর্মকর্তারা টাকার লিংক খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।’ যতক্ষণ পর্যন্ত টাকা কোথায় গেছে, কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে বের করা সম্ভব না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না বলে দুদক সচিব দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, বেসিক ব্যাংকে বিপর্যয়ের শুরু হয় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর সময়ে। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই সময়েই ঘটে বড় অঙ্কের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা