kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সম্রাট ১০ দিনের রিমান্ডে

পাঁচ দিনের হেফাজতে আরমান ►আদালত এলাকায় সমর্থকদের মিছিল, অবরোধের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সম্রাট ১০ দিনের রিমান্ডে

দুই মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলে সম্রাটকে এভাবেই ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ক্যাসিনো সম্রাট হিসেবে পরিচিত যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। মাদক ও অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিন করে তাঁকে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগে এ দুটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অন্যদিকে মাদক মামলায় সম্রাটের সহযোগী মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জল হোসেন তাঁদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরপর গতকাল বিকেলে সম্রাট ও আরমানকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

অস্ত্র ও মাদক আইনের পৃথক দুই মামলায় সম্রাটের ১০ দিন করে মোট ২০ দিন এবং মাদক মামলায় আরমানের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল গত ৯ অক্টোবর। একই সঙ্গে এসব মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের ওপরও শুনানি ছিল। কিন্তু সম্রাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় সেদিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়নি। ওই দিন আরমানকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে রিমান্ডের আবেদনের ওপর শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। দুজনের রিমান্ডের শুনানির জন্য গতকাল দিন ধার্য করা হয়। রিমান্ড শুনানির আগে সম্রাটকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী।

গত ৭ অক্টোবর রাতে রমনা থানা পুলিশ অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় সম্রাটকে গ্রেপ্তার দেখানো ও ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। আরমানকেও মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ও ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম আলোচনায় আসে। গত ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। আরমান মদ্যপ অবস্থায় থাকায় তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়। সম্রাটকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ওই দিনই সম্রাটের কার্যালয় রাজধানীর কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে ইয়াবা, মদ, গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় র‌্যাব-১-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আবদুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করেন। দুটি মামলায় সম্রাটকে আসামি করা হয়। আর মাদক মামলায় আসামি করা হয় আরমানকে।

শুনানি : গতকাল দুপুর ১২টা ৩৭ মিনিটে সম্রাটকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী জিল্লুর রহমান, আবদুল কাদেরসহ ২৫ জন আইনজীবী আদালতের ভেতরে অবস্থান নেন।

মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে সম্রাটের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পিপি তাপস কুমার পাল, সাজ্জাদুল হক শিহাব ও এপিপি আজাদ রহমান।

শুরুতেই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সম্রাট অসুস্থ জানিয়ে আদালতকে তাঁর হাতকড়া খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। আদালত বলেন, ‘শুনানি শুরু করুন, পরে দেখা যাবে।’

রিমান্ডের বিরোধিতা করে সম্রাটের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, তিনি যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি। একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা। তাঁরা আরো বলেন, সম্রাটকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনার ছয়-সাত ঘণ্টা পর অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে একটি অফিস থেকে। সেখানে হাজার হাজার লোক যাতায়াত করে। ওই অস্ত্র সম্রাটের নয়। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যও সাজানো ঘটনা।

একজন আইনজীবী বলেন, ‘সম্রাটের ওপেনহার্ট সার্জারি হয়েছে। তাঁর হৃিপণ্ডে বাল্ব সংযোজন করা। এর মেয়াদ ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। আবার বাল্ব পরিবর্তন করতে হবে। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁকে জামিন দেওয়া হোক।’

আরেকজন আইনজীবী বলেন, ‘সম্রাট মারা গেলে দায় নেবে কে?’

আরমানের পক্ষের আইনজীবীরাও তাঁর জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত দুজনের জামিনের আবেদনই নাকচ করে দিয়ে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে হট্টগোল, সড়ক অবরোধের চেষ্টা : সম্রাটকে আদালতে নেওয়া হবে—এ খবর শুনে বিপুলসংখ্যক যুবলীগ নেতাকর্মী আদালত এলাকায় ভিড় করেন। সকাল ১১টা থেকে তাঁরা রায় সাহেব বাজার মোড় থেকে আদালতের ফটক পর্যন্ত ভিড় করেন। তাঁরা সম্রাটের মুক্তি চেয়ে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে কিছু সমর্থক সড়ক অবরোধের চেষ্টাও করেন। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁদের রাস্তার পাশে সরিয়ে দেন।

এরপর শুনানির সময় এজলাসের পেছনে দাঁড়িয়ে চিৎকার চেঁচামিচি করেন সম্রাটের সমর্থকরা। আইনজীবীরা তাঁর পক্ষে বক্তব্য দিলে সমস্বরে চিৎকার করে ওঠেন তাঁরা।

ডিবি কার্যালয়ে সম্রাট ও আরমান : গত সোমবার সম্রাট ও আরমানের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত হস্তান্তর করা হয় ডিবির দক্ষিণ বিভাগের কাছে।

ডিবির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গতকাল সম্রাটকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। হেফাজতে নেওয়ার পর থেকে সম্রাট শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে দাবি করেন। তাঁকে বিমর্ষ দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ডিবির কর্মকর্তাদের কিছু সাধারণ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে আরমানকে ক্যাসিনো ও মাদক কারবারের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ডিবির তদন্তকারীরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা