kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশেষজ্ঞ মত

বিবিএসকে ক্ষমতাসীনদের হাতিয়ার হলে চলবে না

আরিফুর রহমান   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিবিএসকে ক্ষমতাসীনদের হাতিয়ার হলে চলবে না

তৌফিকুল ইসলাম খান, আহসান হাবিব মনসুর

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানের কাছে সার্বিক বিষয় তুলে ধরলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএস সব সময় ক্ষমতাসীনদের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। রাজনৈতিক দল যেভাবে তথ্য চায়, বিবিএস সেভাবেই ব্যবস্থা করে। ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশের মতো বিবিএস হওয়া উচিত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, যাদের পেশাদারিত্ব থাকবে অনেক উঁচুতে। বিবিএসকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে না রেখে সরকার এটিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

তৌফিকুল ইসলাম খান আরো বলেন, শুধু স্বাধীন হলেই হবে না, বিবিএসের জনবলকেও দক্ষ করে তুলতে হবে। তাঁর মতে, ২০১৩ সালে অনুমোদিত পরিসংখ্যান আইন বাস্তবায়নের মতো সক্ষমতা এখনো বিবিএসের হয়ে ওঠেনি। এখনো সেখানে তথ্যের সহজলভ্যতা গড়ে ওঠেনি। জরিপ কিংবা শুমারির গুণগতমানও তেমন ভালো নয়। জরিপের ফল সঠিক সময়ে আসছে না এবং জরিপের ফল সবার জন্য উন্মুক্তও নয়। এ সবকিছু নিশ্চিত করতে হবে বিবিএসকে।

এই গবেষক বলেন, ‘বিবিএসের তথ্যের মধ্যে অনেক অসামঞ্জস্য আমরা লক্ষ করি। তাই এদের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। খানা আয়-ব্যয় জরিপের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই জরিপের প্রাথমিক ফল দেওয়া হয়েছিল ২০১৭ সালে। কিন্তু আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বইটি হাতে আসেনি। এত দেরি করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিবিএস চলে আমলাতন্ত্র দিয়ে। সচিব ও মহাপরিচালক দুজনই আসেন প্রশাসন ক্যাডার থেকে। সরকার যেভাবে চায়, সেভাবেই হয়। এটি একটি বিশেষায়িত ক্যাডার। এখানে প্রশাসন ক্যাডার দিয়ে চলবে না। পরিসংখ্যান ক্যাডারের কর্মকর্তারা হতাশ। কারণ তাঁদের পদোন্নতি নিয়ে অনেক বঞ্চনা আছে। সে কারণে অনেকে এই ক্যাডার ছেড়ে প্রশাসন ক্যাডারে চলে যান। এটি অত্যন্ত বাজে একটি সংকেত। তাই বিবিএসকে চালাতে হলে নিজস্ব লোকবল দিয়েই চালাতে হবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব মনসুর গত ৩১ আগস্ট কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহের জন্য আমাদের হাতে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই সরকারের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ, দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিবিএসের যথাযথ দায়িত্ব পালন করা উচিত। জরিপের তথ্য নির্মোহভাবে তুলে আনা উচিত। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে সেটি হয়ে ওঠে না।’ ভারতসহ কয়েকটি দেশের উদাহরণ টেনে আহসান মনসুরও বলেন, নির্ভুল ও সঠিক তথ্য তুলে আনতে বিবিএসের স্বতন্ত্র কাঠামো দরকার, যেখানে সরকার কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। পাশাপাশি দক্ষ জনবল থাকতে হবে। সেটি নিশ্চিত করতে পারলেই নির্ভুল তথ্য তুলে আনা সম্ভব হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা