kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাজের শুরুতেই বিল পরিশোধ

আরিফুর রহমান   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কাজের শুরুতেই বিল পরিশোধ

পৃষ্ঠার দুই দিকে অনেকখানি খালি, মাঝখানে ছোট হরফে ছাপা

খানা আয়-ব্যয় জরিপের এক হাজার বই ছাপাতে শাহজাদপুর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে গত ২৪ ডিসেম্বর ২৫ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেয় বিবিএস। ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় ৩১ ডিসেম্বর ঠিকাদারকে সমুদয় বিল পরিশোধ করে দেওয়া হয়। কালের কণ্ঠ’র কাছে থাকা বিল পরিশোধের মঞ্জুরিপত্রে দেখা যায়, সেখানে স্বাক্ষরকারী প্রকল্প পরিচালক দিপংকর রায় লিখেছেন, ‘শাহজাদপুর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কর্তৃক ১,০০০ চূড়ান্ত রিপোর্ট মুদ্রণপূর্বক (বাঁধাইসহ) সরবরাহ করা হয়েছে।’ কিন্তু গত ৪ সেপ্টেম্বরও বিবিএসে খোঁজ করে ওই বইয়ের সন্ধান মেলেনি। ঠিক সকাল ১১টায় বিবিএসের জাতীয় হিসাব শাখার পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদকে ফোন করে খানা আয়-ব্যয় জরিপের বইটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বইটি এখনো হাতে পাইনি।’ বিল পরিশোধের ৯ মাস পর জানা গেল, বইটি ছাপানোর প্রক্রিয়া চলছে।

কাজ বুঝে পাওয়ার আগে প্রকল্প পরিচালক ঠিকাদারকে বিল দিতে পারে কি না—প্রশ্নটি মাথায় নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর গেলাম সরকারের কেনাকাটা প্রক্রিয়া দেখভালের দায়িত্ব পালনকারী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে (সিপিটিইউ)। সংস্থাটির পরামর্শক ও সাবেক মহাপরিচালক ফজলুল করীমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি ক্রয় নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, স্থানীয় দরপত্রের ক্ষেত্রে কাজ বুঝে পাওয়ার পরই কেবল ঠিকাদারকে বিল দেওয়া যাবে; তার আগে নয়। কেউ যদি এই অসদাচরণ ও গর্হিত অপরাধ করে থাকে, তখন সরকারি ক্রয় বিধিমালার ১২৭ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা আছে। এ ক্ষেত্রেও সেটা হতে পারে।

একপর্যায়ে ফজলুল করীম বলেন, জনগণের টাকা নিয়ে কেউ খেলাধুলা করতে পারে না। যারা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বই না ছাপিয়েই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে প্রকল্প পরিচালক ড. দিপংকর রায় বলেন, ‘প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছিল বলেই বই ছাপানোর আগেই বিল দিয়েছি।’

অবশেষে ২১ সেপ্টেম্বর পিডি জানান, বই এসেছে, এখন বিতরণ চলছে।

সেই বইয়ের কপি জোগাড় করে দেখা যায়, নিম্নমানের কাগজে যাচ্ছেতাই ছাপা। ৬০৯ পৃষ্ঠার বইয়ের ১৬৩ থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত জরিপের তথ্য এতই ছোট হরফে যে খালি চোখে পড়তে কষ্টই হয়। আবার পৃষ্ঠার দুই দিকে অনেকখানি খালি, মাঝখানে ছোট হরফে ছাপা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা