kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মোদি-চিনপিং বৈঠক

‘চেন্নাই কানেক্টে’জায়গা পেল না কাশ্মীর ইস্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘চেন্নাই কানেক্টে’জায়গা পেল না কাশ্মীর ইস্যু

ছবিঃ ইন্টারনেট

কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই শেষ হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বৈঠক ‘চেন্নাই কানেক্ট’। কাশ্মীর ইস্যু এড়িয়ে গিয়ে দুই নেতা প্রতিশ্রুতি দিলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে তাঁরা একসঙ্গে লড়াই করবেন। বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের কথাও বলেছেন দুই নেতা।

গত শুক্রবার দুই দিনের সফরে ভারত পৌঁছেন শি চিনপিং। মোদির সঙ্গে দুই দফা বৈঠকে বসেন তিনি। প্রথম বৈঠকটি হয় শুক্রবার রাতে, দ্বিতীয়টি গতকাল শনিবার। দ্বিতীয় বৈঠকটি হয় চেন্নাই থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে মমল্লপুরমে সমুদ্রসৈকতের পাশের একটি রিসোর্টে।

চিনপিংয়ের সঙ্গে এবারের বৈঠককে ‘চেন্নাই কানেক্ট’ বলে অভিহিত করেছেন নরেন্দ্র মোদি। গত বছর চিনপিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘উহানের শীর্ষ সম্মেলন দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্পর্ক জোরদার করতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। আর চেন্নাই কানেক্টে দুই দেশই পারস্পরিক সম্পর্কে একটি নতুন যুগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এদিকে শুক্রবার রাতের বৈঠকের ব্যাপারে গতকাল চিনপিং বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আমার বন্ধুর মতো কথা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে কথা হয়েছে খুবই আন্তরিকভাবে। নতুন যুগ শুরু হলো দুই দেশের সম্পর্কে।’

ভারতের কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, কাশ্মীর নিয়ে কোনো অস্বস্তি যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য বিষয়টি নিয়ে মোদি ও চিনপিংয়ের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। সেই দিক থেকে বৈঠকের বড় সাফল্য হলো, কাশ্মীর নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে চাপ চীন তৈরি করছিল, তা থেকে দুই পক্ষ বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে কাশ্মীর নিয়ে বড় ধরনের কোনো বিরোধিতা বেইজিং করবে না বলেও নয়াদিল্লি প্রত্যাশা করছে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিজয় গোখলে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দুই নেতার মধ্যে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলেছে; যা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি। আর আলোচনা হয়েছে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। দুই নেতাই একে অন্যের সঙ্গে ভালো সময় কাটিয়েছেন।’

অনেকের ধারণা ছিল, মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন। কারণ সম্প্রতি চীন সফরে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেখানে যৌথ বিবৃতিতে চিনপিং বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান যেসব ইস্যুকে মৌলিক মনে করে, সেগুলোর প্রতি চীনের সমর্থন রয়েছে এবং কাশ্মীরের দিকে বেইজিং নজর রেখেছে।’ ওই বিবৃতির পরই পাল্টা বিবৃতি দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়, ‘ভারতের অবস্থান সম্পর্কে চীন ভালোভাবেই জানে এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য কোনো দেশের মন্তব্য করা উচিত নয়।’

এর পরও চিনপিংয়ের সফরে কাশ্মীর ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে বলে প্রত্যাশা ছিল পাকিস্তানের। চিনপিং ভারতে পৌঁছার ঘণ্টাকয়েক আগে কাশ্মীর ইস্যুতে ইমরান খান বলেন, ‘কাশ্মীর নিয়ে ভারত ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম কেন কাশ্মীরের খবর তুলে ধরছে না, তা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, এনডিটিভি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা