kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি

আবরারের রক্তে সরকারের পতনের বীজ বপিত হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবরারের রক্তে সরকারের পতনের বীজ বপিত হয়েছে

বিএনপি বলেছে, ফেনী নদীর পানি দেওয়া, চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে যৌথ রাডার স্থাপন, আমদানীকৃত এলপিজি রপ্তানি করা—এই চারটি চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধী। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও ভারত তোষণের নীতি হিসেবে সরকার এসব চুক্তি করে এসেছে। উদ্দেশ্য একটাই, গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকা। আর এর সমালোচনা করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরারকে। তাঁর রক্তে এই সরকারের পতনের বীজ বপিত হয়েছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গতকাল শনিবার বিকেলে আয়োজিত জনসভায় বিএনপির নেতারা এসব কথা বলেন। ‘দেশবিরোধী’ চুক্তি বাতিল ও বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। একই দাবিতে সারা দেশে জেলা সদরে আজ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

বেলা আড়াইটায় সমাবেশ শুরু হয়ে চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। সমাবেশে খালেদা জিয়া ও আবরার ফাহাদের ছবির পাশাপাশি ‘দেশবিরোধী’ চুক্তি বাতিলের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন নেতা-কর্মীরা। কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত সড়কে হাজার হাজার নেতা-কর্মী জড়ো হন। সমাবেশের কারণে সড়কের এক পাশের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সমাবেশ চলাকালীন কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেন নেতারা।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকের প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালে বলেছিলেন যে ভারতকে গ্যাস না দেওয়ায় তিনি ক্ষমতায় আসতে পারেননি। জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, দেশের আমদানি করা এলপিজি দিয়ে সেই ২০০১ সালের খেসারত দিলেন কি না। আর এই চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় আবরারকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আবরারের রক্তে আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে বীজ বপিত হয়েছে। কে এম নাজির উদ্দিন জেহাদ হত্যার মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের বীজ রোপণ করা হয়েছিল। আবরারের রক্ত আপনাদের (সরকার) পতন আন্দোলনের সূত্রপাত করে গেছে, বীজ বপন করে গেছে। বাংলাদেশের মানুষ, ছাত্রসমাজ ফুঁসে উঠেছে। জনগণ, ছাত্রসমাজ তার রক্ত বৃথা যেতে দেবে না।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকার ফাঁদে পড়েছে। সেই ফাঁদ থেকে তাদের নিষ্কৃতি নেই। এই সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার। একজন আবরারকে হত্যা করে লাভ হবে না। শত শত আবরার জন্ম নেবে।’ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি বলেছেন যে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ বিক্রি করেননি। কিন্তু দেশের মানুষ জানে আপনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে এসেছেন ভারতে গিয়ে। এই ব্যর্থতা ইতিহাসে এই সরকারের জন্য কালিমা হয়ে থাকবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী দান করতে জানেন। আবার অত্যন্ত লজ্জিত যে ভারতের বিমানবন্দরে লাল কার্পেট নেই। এক প্রতিমন্ত্রী তাঁকে (শেখ হাসিনা) অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। জাতি, দেশ লজ্জা পেয়েছে। যে সরকারের এমন নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থাকে সেই সরকার শুধু দেওয়া ছাড়া, কোনো দাবি আদায় করতে পারবে না।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও উত্তর-দক্ষিণের দুই সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও আহসান উল্লাহর পরিচালনায় সমাবেশে দলের নেতা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, রুহুল কবীর রিজভী, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা