kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রধানমন্ত্রী বললেন

সব দাবি মানার পরও বুয়েটে আন্দোলনের যৌক্তিকতা কী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



সব দাবি মানার পরও বুয়েটে আন্দোলনের যৌক্তিকতা কী

ছাত্রলীগের হাতে আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি আবরার হত্যার বিচারে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি গতকাল শনিবার সকালে মহিলা শ্রমিক লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলন অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

বুয়েটের আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাধারণ ছাত্ররা যারা, তাদের ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছে ভিসি। তার পরও না কি তারা আন্দোলন করবে। কেন করবে, জানি না। এরপর আন্দোলন করার কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে?’

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনের মুখে বুয়েট কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি আবরার হত্যার বিচারে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি গতকাল সকালে মহিলা শ্রমিক লীগের কাউন্সিল-২০১৯ এর উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ ছাত্রদের ১০ দফা দাবিই তো মেনে নিয়েছেন ভিসি। তার পরও তারা কেন আন্দোলন করবে, আন্দোলনের কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে।’ শিক্ষাঙ্গনে অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অন্যায়কারী যে কারো বিরুদ্ধেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে করা বিভিন্ন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, লাভ-ক্ষতির হিসাব করলে এখানে বাংলাদেশেরই লাভ বেশি। এ ব্যাপারে জ্ঞানপাপীরা জেনেশুনেই মানুষের মাঝে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে গত রবিবার রাতে শেরেবাংলা আবাসিক হলে একদল ছাত্র পিটিয়ে হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি মেনে নেন। এর মধ্যে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ১৯ ছাত্রকে বুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কারের দাবি রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত কয়েক দিন আগে বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে। আমরা তো পিছিয়ে থাকিনি। কোন দল করে, সেটা না দেখে, খুনিকে খুনি হিসেবে দেখি। অন্যায়কারীকে অন্যায়কারী হিসেবে দেখি। অত্যাচারীকে অত্যাচারী হিসেবে দেখি। খবরটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারও আন্দোলনের অপেক্ষা করিনি, কারও নির্দেশের অপেক্ষা করিনি, সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি যে এদের গ্রেপ্তার করা এবং ভিডিও ফুটেজ থেকে সব তথ্য সংগ্রহ করতে। এই ভিডিও ফুটেজ যখন সংগ্রহ করছে তখন তারা (শিক্ষার্থীরা) বাধা দিয়েছিল, কেন বাধা দিয়েছিল, আমি জানি না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে পুলিশের আইজিপি ছুটে এলো—কী করব। বললাম, তারা কী চায়? বলল, কপি চায়। বললাম কপি করে তাদের দিয়ে দাও। তোমরা তাড়াতাড়ি ফুটেজটা নাও, এটা নিলেই তো আমরা আসামি চিহ্নিত করতে পারব, ধরতে পারব, দেখতে পারব এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারব। এই তিন-চার ঘণ্টা সময় যদি নষ্ট না করত, তাহলে তার আগেই হয়তো অনেকে পালাতে পারত না, তারা ধরা পড়তে পারত। এখানে সন্দিহান হওয়ার কিছু ছিল না। বিষয়টা কী আমি জানি না। সন্দিহান, নাকি যারা জড়িত তারা বাধা...কোত্থেকে কী করেছে, বুঝতে পারি না। মনে হলো যেন আসামিদের চলে যাওয়ার একটা সুযোগই করে দেওয়ার...না কী ছিল...ওই আন্দোলন যারা করেছে তারা বলতে পারবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় গিয়ে জাতির পিতার খুনিদের পুরস্কৃত করল, একেকটা হত্যাকারী, যুদ্ধাপরাধীদের যারা ছেড়ে দিল, সাত খুনের আসামিকে যখন নেতা বানাল, কে তখন প্রতিবাদ করেছে? তখন মানবাধিকারের চিন্তা কোথায় ছিল? তখন ন্যায়নীতি বোধ কোথায় ছিল? আমি খালি জিজ্ঞেস করতে চাই, এত ছাত্র হত্যা হয়েছে কয়টার বিচার কে করেছে? সেই ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে করেছে, আর যখনই আমরা সরকারে এসেছি তখন আমরা সঙ্গে সঙ্গে বিচার করেছি। এর বাইরে কি আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারবে কোনো বিচার হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন আমাদের বুয়েটের যারা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, তারা তো নামে নাই। তাদের তো তখন নামতে দেখিনি। তখন তো প্রতিবাদ করতে দেখিনি তাদের। তখন তো তারা কোনো কথা বলেনি। হ্যাঁ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সবার কথা বলার অধিকার আছে। বলতে পারে অন্তত, এই সুযোগটা আছে।’

‘জ্ঞানপাপীরা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে’

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে সমালোচনাকারীদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষের মাঝে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য জেনে-শুনে জ্ঞানপাপীরা কথা বলে যাচ্ছে। ভারতের একটা জায়গা সাবরং। সেখানে থাকা মানুষের পান করা পানির অভাব। এত দীর্ঘ নদীটা যার বেশির ভাগ বর্ডার এলাকায়। সেখানকার নদী মানে নদীতে সমান অংশীদার। ভারত এবং বাংলাদেশের। সেখান থেকে তারা একটু খাবার পানি নেবে।  সেইটা নিয়েই নদী বেচে দিলাম, নদী বেচে দিলাম ইত্যাদি ইত্যাদি খুব আন্দোলন স্লোগান বক্তৃতা। একটা মানুষ যদি পান করার জন্য পানি চায়, তো দুশমন হলেও মানুষ দেয়। মাত্র ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি নেবে তারা। সেটার জন্য এত কান্নাকাটি করার কী আছে?’

এলপিজি রপ্তানি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চিৎকার করছে গ্যাস বিক্রি, গ্যাস বিক্রি। এলপিজি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। সেটা আমাদের দেশের কিন্তু না। বিদেশ থেকে আমদানি করি। এখানে সিলিন্ডারে ভরা হয়। তারপরে সেটা সব জায়গায় আমরা দিয়ে দিই, যাতে গ্যাসে সবাই রান্না করতে পারে। সেখান থেকে কিছু গ্যাস যাবে আমাদের ত্রিপুরায়। এটা তো আমরা আমদানি করে বোতলজাত করে রপ্তানি করছি। আরেকটা রপ্তানিপণ্য বাড়ছে। বাংলাদেশের যেসব ব্যবসায়ীরা (রপ্তানি) করবে, লাভবান তারাই হবে। আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেখান থেকে আমরা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। তাদের প্রাকৃতিক গ্যাসে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আমরা নিয়ে আসছি। বিনিময়ে আমরা এলপিজি তাদের দিচ্ছি। লাভ-লোকসান হিসাব করলে বাংলাদেশেরই লাভ বেশি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা