kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

গত বছর জাতিসংঘ সাড়া দিয়েছিল মাত্র

বৈঠকের জন্য অনুরোধ ছিল বিএনপির

সম্পৃক্ততা কম ছিল গত নির্বাচনে

মেহেদী হাসান   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৈঠকের জন্য অনুরোধ ছিল বিএনপির

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠক ওই দলটির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকে যোগদানের জন্য মির্জা ফখরুলের নিউ ইয়র্ক যাওয়াকে ‘বিএনপির মহাসচিব বা বিএনপিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণ’ বলে যেভাবে প্রচার করা হয়েছিল, তা সে সময় সংশ্লিষ্ট অনেক কূটনীতিককেই বিস্মিত করেছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মির্জা ফখরুলের নিউ ইয়র্ক সফরের সময় জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব প্রয়াত কফি আনানের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পূর্বনির্ধারিত সফরে ঘানায় গিয়েছিলেন। মির্জা ফখরুল নিউ ইয়র্কে বৈঠক করেছিলেন রাজনৈতিক ও শান্তিবিনির্মাণ বিভাগের ইউরোপ, মধ্য এশিয়া ও আমেরিকা বিষয়ক সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পোর কাছে গত বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠ’র প্রশ্ন ছিল, ‘আমরা জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ২০১৩ সালে জাতিসংঘ, বিশেষ করে জাতিসংঘ মহাসচিবের ভূমিকা দেখেছিলাম। সে সময় জাতিসংঘের মহাসচিব অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা ২০১৮ সালে এ ধরনের কোনো ভূমিকা দেখিনি। তবে আমরা জাতিসংঘের মহাসচিবকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমন্ত্রণ জানাতে দেখেছি। এর নেপথ্যে কী ছিল?’

জবাবে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক বলেন, ‘জাতিসংঘ তখনই নির্বাচনসংক্রান্ত সহায়তা দিয়ে থাকে যখন সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র তার জন্য অনুরোধ করে। ২০১৩ সালের নির্বাচন ঘিরে জাতিসংঘের সহায়তা ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময়ের সহায়তার চেয়ে অনেক বড় ছিল। ২০১৮ সালে আমরা (জাতিসংঘ) নির্বাচন কমিশনকে কিছু কারিগরি সহায়তা দিয়েছিলাম, যা ২০১৩ সালের মতো সমন্বিত ছিল না। মহাসচিব ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার অন্যান্য অংশ আলোচনায় সম্পৃক্ত ছিল।’ তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন (২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন) নিয়েও জাতিসংঘের মহাসচিব ও তাঁর মুখপাত্র কথা বলেছেন। এই নির্বাচনে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা ২০১৩ সালের তুলনায় কিছুটা কম। তবে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা ছিল।’

মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্যান্য দেশেও সব অংশীদারের সঙ্গেই জাতিসংঘ কথা বলে। বৈঠক ও সংলাপের আহ্বান বা অনুরোধে জাতিসংঘ সাড়া দেয়। তাই বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের বিরোধী দলগুলোর কারো সঙ্গে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ বা বৈঠক অস্বাভাবিক কিছু নয়।’

ঢাকা ও নিউ ইয়র্কের কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতিসংঘের তত্কালীন মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ ভূমিকা ছিল। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরকালে তিনি এ দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে ২০১৩ সালে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় উৎসাহিত করতে তাঁর বিশেষ দূত হিসেবে সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকোকে পাঠিয়েছিলেন। তারানকোর সেই সফরকে বাংলাদেশ সরকারও স্বাগত জানিয়েছিল।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের তুলনায় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগের প্রেক্ষাপট বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে অনেকটাই ভিন্ন ছিল। তাদের কাছে নির্বাচনের চেয়েও বড় ইস্যু ছিল রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনা। কারণ নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্যদিকে রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক সংকট। এ ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকার দিকেও নিবিড় দৃষ্টি পশ্চিমা দেশগুলোর।

নির্বাচনের ছয় মাস আগে গত জুলাই মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বব্যাংকের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিংকে নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এলেও তাঁদের মূল ও কার্যত একমাত্র দৃষ্টি ছিল রোহিঙ্গা সংকট। ওই সফরে এ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি এবং বিরোধী দলের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকেও বসেননি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা