kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

প্রস্তাবিত মডেল সড়কে শতাধিক গর্ত

কুড়িল থেকে মালিবাগ

শাখাওয়াত হোসাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রস্তাবিত মডেল সড়কে শতাধিক গর্ত

সম্প্রতি কুড়িল চৌরাস্তা থেকে মোটরসাইকেলে চেপে রওনা হলাম মালিবাগ অভিমুখে। উদ্দেশ্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রস্তাবিত মডেল সড়কের হালচাল দেখা। প্রথমেই ধাক্কা খেতে হয় এত চওড়া সড়কটি অনেকটা হঠাৎ করেই যেন ছোট হয়ে গেল নর্দ্দা ফুট ওভারব্রিজের কাছে এসে। এখানে কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল নেই এবং পথচারী পারাপারও স্থায়ীভাবে বন্ধ। এর পরও প্রায় নিয়মিতভাবে পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের যানজটের সৃষ্টি হয় এখানে।

এরপর নতুন বাজার মোড় পর্যন্ত ভালোভাবেই চলছিল সব গাড়ি।

শাহজাদপুরের বিএসবি ক্যামব্রিয়ান স্কুল পার হয়ে সামনের দিকে যেতেই চোখে পড়ল এক বিপজ্জনক দৃশ্য। হ-৫৮০১০৩ নম্বরের একটি মোটরসাইকেলের চালক এক যাত্রীসহ ছিটকে গিয়ে পড়লেন সড়ক দ্বীপে। তখন মোটরসাইকেলের সামনের চাকা ধাক্কা খায় পশ্চিম পাশের সড়ক দ্বীপে। আগে-পিছে অনেক যানবহান থাকলেও বহু কষ্টে নিজ দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে নেন চালক। শাহজাদপুর থেকে মধ্য বাড্ডা পর্যন্ত অন্তত ১০টি বিপজ্জনক গর্ত দেখা গেছে সড়কটিতে। এর মধ্যে সুবাস্তু শপিং মলের সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় গর্ত। এ ছাড়া বাড্ডা পূবালী ব্যাংকের সামনে এবং ডিআইটি প্রকল্প এলাকায় রয়েছে ছয়টি গর্ত। মেরুল বাড্ডা থেকে মালিবাগের আবুল হোটেল পর্যন্ত একমুখে ৪৫টি পর্যন্ত গর্ত গোনা গেছে। আবুল হোটেল থেকে কুড়িলে ফেরার পথে রয়েছে ৫৫টির বেশি ছোট-বড় গর্ত।

মালিবাগে দেখা গেছে, ফ্লাইওভার থেকে এবং খিলগাঁও থেকে আসা যানবাহন দ্রুতগতিতে পার হয় আবুল হোটেলের সিগন্যাল। সিগন্যাল পার হয়েই বড় তিনটি গর্তে বাধা পড়ে এসব যানবাহনের চাকা। হঠাৎ গর্ত গাড়ির সামনে পড়ায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয় চালকদের। আবার গর্ত এড়াতে গেলে ডান বা বাঁ পাশের গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা থাকে।

নাজমুল ইসলাম নামের একজন মোটরসাইকেল চালক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গর্তগুলো দূর থেকে দেখা যায় না। বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর পর হঠাৎ চোখে পড়ে গর্ত। ফলে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে বেশি।’

স্থানীয় লোকজন জানায়, গত বছর এই সড়ক মেরামত ও কার্পেটিং করা হয়। ওই সময় সড়ক উঁচু করা হলেও ম্যানহোলের ঢাকনার অংশটি উঁচু করা হয়নি। ফলে ম্যানহোলের ঢাকনার জায়গাগুলোতে গর্তের সৃষ্টি হয়।

আবার অনেকে এ তথ্যও জানায় যে ম্যানহোলের ঢাকনা নিচের দিকে ধসে এবং চারপাশের কংক্রিট সরে গিয়েও কিছু গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আবার ম্যানহোলের ঢাকনা ছাড়াও সৃষ্টি হয়েছে বেশ কয়েকটি গর্ত। বছরখানেক আগে সৃষ্টি হওয়া গর্ত ভরাট না করায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন। এসব গর্ত ভরাট না করলে বৃষ্টিতে আরো বড় গর্ত তৈরি হবে—এমন আশঙ্কা রয়েছে তাদের।

মালিবাগ অগ্রণী ব্যাংকের সামনে একটি দোকানের মালিক আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, ‘মোটরসাইকেল বেশি সমস্যায় পড়ে এসব গর্তে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে। ছোট ছোট গর্তগুলো ভরাট করলে বড় গর্ত তৈরি হতো না।’

কুড়িল-মালিবাগ সড়কে সৃষ্টি হওয়া গর্ত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ডিএনসিসির কর্মকর্তারাও। ডিএনসিসির সব কটি রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া গর্ত ভরাটের জন্য দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কুড়িল থেকে মালিবাগ পর্যন্ত সড়কটিকে মডেল হিসেবে তৈরি করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। মডেল সড়কের রূপরেখা তৈরি করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একজন শিক্ষককে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষকের প্রস্তাব পাওয়ার পর মডেল সড়ক বিনির্মাণের কাজ শুরু হবে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। বছরখানেকের বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে গর্ত তৈরি হলেও ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে অনেকে। বর্ষা মৌসুমের আগেই সব গর্ত ভরাট করে রাস্তাটি বিপদমুক্ত করার ব্যাপারে বলেছিলেন ডিএনসিসির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ যুবায়ের সালেহীন।

সংস্থাটির অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী গত শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গর্ত সৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। গর্ত বন্ধ করতে বেশ কিছু কাজ করা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বিটুমিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অচিরেই বিটুমিন দিয়ে এসব গর্ত স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।’

মডেল সড়কের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মডেল সড়কের বিষয়ে মেয়র মহোদয় ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সড়কটি নিয়ে তিনি কী ভাবছেন সে ব্যাপারে আমি তেমন কিছু জানি না।’

উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ বাসের চাপায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হওয়ার পর কুড়িল থেকে মালিবাগ পর্যন্ত সড়কটিকে মডেল হিসেবে নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম আবরারের সহপাঠীদের সঙ্গে একাধিক মিটিংয়ে মডেল সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা