kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামি জিওনের জবানবন্দি

অন্যদের সঙ্গে আমিও ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পেটাই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্যদের সঙ্গে আমিও ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পেটাই

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মেফতাহুল ইসলাম জিওন নামের আরেক আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি নিজেও আবরারকে কিল-ঘুষি মেরেছেন এবং ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে হাঁটুতে পিটিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার সিলেট ও সাতক্ষীরা থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। তাঁরা দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। এ ছাড়া আসামি অমিত সাহা ও মোহাম্মদ তোহাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি।

যা বললেন জিওন : গতকাল শুক্রবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। আগের দিন বৃহস্পতিবার জবানবন্দি দেন বুয়েট ছাত্রলীগের উপসমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল।

গতকাল জবানবন্দিতে জিওন আদালতকে জানিয়েছেন, বুয়েট শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিনের নির্দেশে আবরারকে ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে কয়েকজন ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনেন।

কক্ষটি ছিল ইফতির, মোস্তফা রাফিদ ও তানভীরের। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল শিবির শনাক্ত করা। প্রথম দিকে আবরার নামগুলো বলছিলেন না। এরপর আবরারের রুম থেকে দুটি মোবাইল ফোনসেট ও তাঁর ব্যবহার করা ল্যাপটপ নিয়ে আসা হয়। ওই সময় তিনি এবং মেহেদি হাসান রবিন ওই রুমে যান। শিবির কারা করে তা জানতে তাঁরা আবরারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এর পরও আবরার মুখ খোলেননি। একপর্যায়ে সামসুল আরেফিন ক্রিকেট স্টাম্প নিয়ে আসেন। তিনি ও মেহেদি হাসান তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। পরে ইফতি স্টাম্প দিয়ে মারধর শুরু করেন। তিনি অনেকগুলো বাড়ি মারেন। এ সময় অনিক সরকার স্টাম্প দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। পায়ের পাতা, হাঁটু, হাতেও পেটান।

জিওন বলেন, ‘আমিও কিছু কিল-ঘুষি মারি। পরে স্টাম্প দিয়ে হাঁটুতে পেটাই। এরপর ধাপে ধাপে অন্যরা ভেতরে এসে তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়ে। কয়েকবার বমি করে। এরপর কোলে করে সিঁড়িঘরের পাশে নিয়ে যাই। তারপর পুলিশ ও চিকিৎসকদের খবর দেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

আরো দুজন গ্রেপ্তার : এদিকে আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরো দুজন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁরা হলেন বুয়েটের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র শামীম বিল্লাহ (২০)। গতকাল বিকেলে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাবার নাম আমিনুর রহমান, গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার ইছাপুরে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, সাতক্ষীরা হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল তাঁর। এর আগে গতকাল সকালে সিলেট থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আরেক আসামি মাজদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। তাঁর বাবার নাম আমিনুর রহমান। গ্রামের বাড়ি শ্যামনগর থানার ইছাপুরে।

অমিত-তোহা পাঁচ দিনের রিমান্ডে : আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা ও বুয়েটের শিক্ষার্থী হোসেন মোহাম্মদ তোহার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল তাঁদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী পাঁচ দিন মঞ্জুর করেন। এ দুজনসহ আবরার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জন এখন ডিবির রিমান্ডে রয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা