kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

সাহিত্যে নোবেল

পোল্যান্ডের ওলগা অস্ট্রিয়ার পিটার

সাব্বির খান, সুইডেন থেকে   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পোল্যান্ডের ওলগা অস্ট্রিয়ার পিটার

২০১৮ এবং ২০১৯ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন পোল্যান্ডের লেখক ওলগা তোকারচুক (৫৭) এবং অস্ট্রিয়ার পিটার হ্যান্ডকে (৭৬)।  

গত বছর ম্যান বুকার পাওয়া পোল্যান্ডের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক তোকারচুক সম্পর্কে রয়াল সুইডিশ একাডেমি বলেছে, তোকারচুক সীমারেখা ভেঙেচুরে চলা মানবজীবনের চিত্র গভীর মমতায়, কল্পনায় ও আগ্রহে তাঁর লেখায় তুলে ধরেছেন। গতিময় বহুবর্ণের বিশ্বের কথা নিখুঁত ও গীতিময় ভাষায় উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। পিটার হ্যান্ডকে সম্পর্কে বলা হয়েছে, ভাষার কুশলতায় তিনি মানুষের অভিজ্ঞতার সীমানা ও নির্দিষ্টতা ছুঁয়ে গেছেন। হ্যান্ডকে গত শতকের নব্বই দশকে যুগোস্লাভিয়ার যুদ্ধে সার্বদের সমর্থন করায় তাঁর নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিতে পারে। তিনি এমনকি গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সাবেক সার্ব নেতা স্লোবোদান মিলোসেভিচের শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি ২০১৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার দাবি তুলে বিতর্কে জড়ান। তখন তিনি বলেছিলেন সাহিত্যে নোবেলপ্রাপ্তদের অহেতুক উচ্চাসনে বসানো হয়।   

বাংলাদেশ সময় গতকাল ৫টায় স্টকহোমের রয়াল একাডেমির প্রেসরুম থেকে দ্য রয়াল সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সেক্রেটারি মাটস মাল্ম এই দুই লেখকের নাম ঘোষণা করেন। ১৯০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১০ জন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, যাঁর মধ্যে তোকারচুকসহ ১৫ জন নারী। চারজন যৌথভাবে সাহিত্যের পুরস্কার ভাগাভাগি করে বিজয়ী হয়েছেন।

তোকারচুক ১৯৬২ সালে পোল্যান্ডের সোলেচওতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। ছোটবেলায় বই পড়ার নেশা পেয়ে বসেছিল তাঁকে। ১৯৮০ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তোকারচুক সাহিত্যের জগতে পা রাখেন কবিতার হাত ধরে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সিটিজ অব মিররস।’ ১৯৯৩ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দ্য জার্নি অব দ্য বুক পিপল’ প্রকাশিত হয়। ১৭ শতকের প্রেক্ষাপটে লেখা এই উপন্যাসের আখ্যান এক প্রেমিক দম্পতির একটি হারিয়ে যাওয়া বই অন্বেষণ নিয়ে গড়ে ওঠে। উপন্যাসটি পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং এটি পোল্যান্ড পাবলিশার্স পুরস্কার পায়। তাঁর তৃতীয় উপন্যাস, ‘প্রিমিভাল অ্যান্ড আদার টাইমস’ আরো পাঠকপ্রিয় হয়।

পিটার হ্যান্ডকে ১৯৪২ সালে দক্ষিণ অস্ট্রিয়ার গ্রিফেন নামের এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন জার্মান সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক, যেটা তিনি বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত জানতে পারেননি। হ্যান্ডকে ও তাঁর ভাই-বোনেরা মা এবং তাঁর দ্বিতীয় স্বামী ব্রুনো হ্যান্ডকের সঙ্গেই বাস করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্লিন ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে পরিবারের সঙ্গে তিনি গ্রিফেনে ফেরেন। ১৯৬১ সালে তিনি গ্রাজ ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেন, যোগ দেন আভা গার্দ আন্দোলনে। শুরু করেন চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখা। ১৯৭৮ সালে তাঁর নির্দেশনায় তৈরি চলচ্চিত্র ‘দ্য লেফট হ্যান্ডেড ওম্যান’ সে বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয়। বিতর্ক তাঁর চিরসঙ্গী হয়ে থেকেছে। ১৯৯০ সাল থেকে তিনি ফ্রান্সে বসবাস করছেন।

গতবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি। সুইডিশ একাডেমি তখন জানিয়েছিল, ‘মাত্রাতিরিক্ত দুর্বল একাডেমি এবং বহির্বিশ্বে একাডেমির পক্ষে অতিমাত্রায় বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর কারণে নোবেল কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। জানা যায়, পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজনের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ, সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম ফাঁস ও কয়েকটি অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল। তখন জানানো হয়েছিল, পরের বছর একসঙ্গে দুই বছরের পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী এই দুই লেখককে একটি করে সোনার মেডেল, নোবেল ডিপ্লোমা এবং ৯ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার প্রাইজমানি হিসেবে দেওয়া হবে। আজ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় নরওয়ের অসলো থেকে ঘোষণা করা হবে শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা