kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বিশেষ মন্তব্য

আবরার হত্যা কি ষড়যন্ত্র?

নাদীম কাদির

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবরার হত্যা কি ষড়যন্ত্র?

রাজনৈতিক ঘটনার জের ধরে সতীর্থদের নির্মম প্রহারে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের প্রাণ হারানোর ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত এবং এহেন ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। আবরার হত্যা কি শুধুই একটি ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি দেশ অস্থিতিশীলকারীদের নির্দেশে ঘটানো হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিহতের কান্না এবং বাঁচার আকুতির পরও কয়েক ঘণ্টা ধরে বিরতি নিয়ে পিটিয়ে কাউকে হত্যা বিবেকবান কোনো মানুষ ঘটাতে বা সমর্থন করতে পারে না। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া দেশপ্রেমমূলক নিষ্পাপ একটি স্ট্যাটাসের জেরে ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের ‘একদল বিপথগামী ও মদ্যপ’ কর্মীর বিরুদ্ধে আবরার হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ অক্টোবর আবরার হত্যার পর মূলত বুয়েটসহ সারা দেশে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের গ্রেপ্তার করে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থাও নিয়েছে। আবরারের হত্যাকারী এবং ইন্ধনদাতাদের পারিবারিক বা রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার একটি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণাও দিয়েছেন।

আবরার হত্যাকাণ্ড নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গভীর ষড়যন্ত্র। এর আগে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সহিংসতার ঘি ঢেলেছে বিরোধী দল বিএনপি। বিষয়টি গোয়েন্দারা প্রমাণও করেছেন। যেহেতু বিএনপি অতীতে এই কাজ করেছে, এটা সন্দেহ করা অমূলক নয় যে আবরার হত্যায় দলটির হাত থাকতে পারে। বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া জেলে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানও লন্ডনে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে রয়েছেন। ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এরই মধ্যে বুঝে গেছে যে নির্বাচনের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই ক্ষমতায় থাকা ১৪ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগকে গদিচ্যুত করতে ষড়যন্ত্রের প্রতিটি সুযোগ ব্যবহার করে বিএনপি। প্রথমত, আবরার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের পরও সারা দেশে ছাত্রদের আন্দোলন ছড়িয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে ক্যাম্পাস দ্রুত শান্ত হয়, কিন্তু বুয়েটে আন্দোলন এখনো অব্যাহত রয়েছে। তৃতীয়ত, বিরতি নিয়ে তিন-তিনবার নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে আবরারকে। কেন? জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যু করতে আবরারকে কি কেউ হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল? চতুর্থত, পুলিশকে ফোন না করে বা দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে এত বড় একটি ঘটনাকে কেন এড়িয়ে গেলেন শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট? পঞ্চমত, রহস্যজনকভাবে বুয়েটের উপাচার্য রাতভর নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে কেন পরদিন জনসমক্ষে হাজির হলেন? একজন ‘মা’ হিসেবে আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের ঘোষণার পরও কেন আন্দোলন ছড়িয়েছে সারা দেশে? এসব ঘটনার কারণে মনে হচ্ছে, আবরার হত্যার পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আবেগকে ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সারা দেশে সহিংসতা ছড়ানো খুব সহজ।

নাদীম কাদির : ডেইলি সানের উপদেষ্টা সম্পাদক এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক প্রেস মিনিস্টার।

অনুলিখন : শাখাওয়াত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা