kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বুয়েটে শিক্ষার্থী নির্যাতন

অভিযোগ জানানোর ওয়েব সার্ভার বন্ধ

বিকল্প ওয়েব সার্ভার খুলেছেন শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিযোগ জানানোর ওয়েব সার্ভার বন্ধ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ জানানোর ওয়েব সার্ভার ‘ইউ রিপোর্টার’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার রাত ৮টায় এই প্রতিবেদক ওই ওয়েব সার্ভারে ঢুকতে পেরেছিলেন। কিন্তু রাত ১২টায় আবার চেষ্টা করে ওয়েব সার্ভারটিতে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। বুধবার বাংলাদেশের ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অপারেটর এবং ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বরাবর চিঠি লিখে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ওই ওয়েব পেজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয় বলে বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে। মূলত ‘নিরাপত্তার’ কারণে ‘ইউ রিপোর্টার’ নামক সার্ভারটি বন্ধ করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহুরুল হক।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর ওই ওয়েব সার্ভার বন্ধ করা মূলত শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশে বাধা দেওয়া বলে মনে করছেন অনেকে। শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে এরই মধ্যে ‘ইউ রিপোর্টার’-এর বিকল্প একটি ওয়েব সার্ভার  (https://gitreports.com/issue/BUET-Reports/anonymous-report) খুলেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

মূলত একটি গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের শেষে ওয়ানস্টপ অনলাইন রিপোর্টিং সিস্টেম ‘ইউ রিপোর্টার’  (https://cse.buet.ac.bd/ureporter) নামে একটি সার্ভার গড়ে তোলেন বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এতে নির্যাতনের শিকার যেকোনো শিক্ষার্থী তাঁর নাম প্রকাশ না করে অভিযোগ জানাতে পারতেন। ওয়েব সার্ভারটি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত শতাধিক অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পরের দুই দিনে জমা পড়ে ৮৩টি অভিযোগ। এই অভিযোগগুলোর অধিকাংশই ছিল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নির্যাতনের ঘটনার বিবরণ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তাঁরা তাঁদের সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি যারা ওই নির্যাতনের সাথে জড়িত ছিল তাদের বিচার দাবি করেছেন। এখানে বিনা কারণে বা নির্দোষ কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত শুনিনি। তাহলে ঠিক কী কারণে ওই সার্ভার বন্ধ করা হলো সেটি বোধগম্য নয়। আমরা কেউই আর ভিন্নমতকে ভালোভাবে নিতে পারি না।’

ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (ইইই) ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাকিল আনোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, “ইতিমধ্যে আমরা আমাদের দাবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইউ রিপোর্টার’-এর মতো এমন একটি কমন প্ল্যাটফর্মের দাবি জানিয়েছি, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাঁদের (বুয়েট প্রদত্ত) নিজস্ব আইডি ব্যবহার করে নির্যাতনের অভিযোগ দিতে পারবেন এবং তাঁর পরিচয় সেখানে গোপন থাকবে। তাহলে এখানে যে অভিযোগ করছেন তাঁর আইডেন্টিটি নিশ্চিত হতে পারবে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কেউ মিথ্যা অভিযোগ দিতেও পারবে না।”

এদিকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে উল্টো ওয়েব সার্ভার বন্ধ করাকে মত প্রকাশে বাধা প্রদান উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেছেন অনেকে। গতকাল সন্ধ্যায় মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, “মানবাধিকারের অন্যতম বড় একটি অংশ হলো মানুষের বিচার চাওয়ার অধিকার। আর বিচার চাওয়ার প্রথম অংশ হলো অভিযোগ জানানো। বুয়েটে শিক্ষার্থীদের সেই পথটিও বন্ধ করে দেওয়া হলো, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা