kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

ঘাতকদের ফাঁসি ও ভিসির পদত্যাগের জোর দাবি

ছাত্রদের আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষক ও বিভিন্ন সংগঠনের একাত্মতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



ঘাতকদের ফাঁসি ও ভিসির পদত্যাগের জোর দাবি

আবরার হত্যার প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মোমবাতি হাতে মৌন মিছিল করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

আবরার ফাহাদের ঘাতকদের ফাঁসি ও বুয়েটের ‘অকার্যকর’ ভিসির পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে আওয়াজ তুঙ্গে উঠেছে। শুধু বুয়েট নয়, রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক থেকে শুরু করে দেশজুড়ে ধ্বনিত হচ্ছে—ঘাতকদের ফাঁসি চাই। দেশে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সেরা বিদ্যাপীঠগুলোর অন্যতম একটি হিসেবে বিবেচিত বুয়েটে এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড কিভাবে ঘটে—এমন প্রশ্ন, বিস্ময়-শোক আন্দোলনকারীদের চোখে-মুখে। দেশের সর্বত্র এখন আলোচনার অন্যতম বিষয় নিরপরাধ এ শিক্ষার্থীকে টানা ছয় ঘণ্টা পিটিয়ে হত্যার লোমহর্ষক কাহিনি। আবরারের মা-বাবার শোকাতুর মুখচ্ছবি দেখে কেঁদে উঠেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। খোদ ছাত্রলীগও অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গতকাল বুধবার বিকেলে গণভবনে নিজের যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একপর্যায়ে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘কিসের ছাত্রলীগ, সে বিবেচনা করব না। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবেই। অপরাধী অপরাধীই। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, নিশ্চিত করা হবে সর্বোচ্চ শাস্তি।’

এদিকে জাতিসংঘ এ হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্ত চেয়েছে। যুক্তরাজ্যও এ হত্যার নিন্দা জানিয়েছে। উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়েছে বুয়েট অ্যালামনাই। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে। দুপুরে বুয়েট ক্যাম্পাসে আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বুয়েট অ্যালামনাইয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী সাত দফার লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন। ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছেন বুয়েটের শিক্ষকরাও।

আন্দোলনের মুখে গতকাল বুয়েটের শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট ড. মো. জাফর ইকবাল খান পদত্যাগ করেছেন। চাপে পড়ে ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম নিহত আবরারের কুষ্টিয়ার বাড়িতে পৌঁছান শোকগ্রস্ত পরিবার-পরিজনকে সমবেদনা জানাতে। যদিও হত্যাকাণ্ড ঘটার ৩৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ভিসি ক্যাম্পাসে উপস্থিত হননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত ভিসির এ আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন তোলেন। উপাচার্য আবরারের গ্রামে গিয়ে তাঁর কবর জিয়ারতের সুযোগ পেলেও এলাকাবাসী তাঁকে আবরারের বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। তাদের তোপের মুখে তিনি একরকম পালিয়ে আসতে বাধ্য হন।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ১১ বিশিষ্ট নাগরিকের যৌথ বিবৃতিতে গতকাল ফুটে উঠেছে উদ্বেগ চিত্র। তাতে বলা হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ছাত্র, যুব ও দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। আদর্শের ভিত্তিতে দল পরিচালনা না করে পেশিশক্তিনির্ভর দল গঠন ও পরিচালনা কী ভয়াবহ পরিণতি আনতে পারে, তা সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গতকাল বুয়েট অ্যালামনাইয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী সাতটি দাবি তুলে ধরেন বুয়েট ক্যাম্পাসে। দাবিগুলোর মধ্যে এ পর্যবেক্ষণও তুলে ধরা হয়—এই নির্মম হত্যাকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নির্লিপ্ততা, অব্যবস্থাপনা ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ব্যর্থতার ফল। অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রমের তদন্ত, বিচার ও শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে উপাচার্যসহ বুয়েট প্রশাসনের ধারাবাহিক অবহেলা ও ব্যর্থতা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মদদ জুগিয়েছে উল্লেখ করে অবিলম্বে উপাচার্যের অপসারণসহ প্রশাসনের আমূল পরিবর্তন করে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির মান অতীতের মতো সমুন্নত রাখতে সুযোগ্য, নির্ভীক ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের পদায়ন করার দাবি জানানো হয়।

নিহত আবরারের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর রায়ডাঙ্গায় গিয়ে গতকাল তোপের মুখে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তিনি ওই এলাকা ত্যাগ করেন জেলা প্রশাসকের গাড়িতে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সাড়ে ৪টায় কুমারখালী উপজেলায় রায়ডাঙ্গায় যান উপাচার্য। তিনি আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ ও ভাই আবরার ফায়াজসহ আবরারের কবর জিয়ারত করেন। পরে আবরারের ভাই ও বাবার একের পর এক প্রশ্নে বিদ্ধ হন ভিসি। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর এখন কেন এসেছেন প্রশ্ন ছিল তাঁদের। একপর্যায়ে আবরারের মা রোকেয়া খাতুনের সঙ্গে দেখা করার জন্য রওনা দেন ভিসি। তখন এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষ আবরারের বাড়ির সামনের সড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা উপাচার্যকে ঘিরে রক্ষা করেন। আবরারের মায়ের সঙ্গে দেখা না করেই ভিসি পুলিশ পাহারায় জেলা প্রশাসকের গাড়িতে রায়ডাঙ্গা থেকে পালিয়ে আসেন। আবরারের বাড়িতে যাওয়ার পথে ভিসির গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েছিল নারীরা।

বুয়েটে দিনভর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : মাইকে উচ্চৈঃস্বরে স্লোগান হচ্ছে—‘খুনিদের ঠিকানা, বুয়েটে হবে না।’ কখনো ভেসে আসছে—‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, আবরার খুনের ফাঁসি চাই।’ কেউ বলছিলেন—‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই।’ সকাল গড়িয়ে দুপুর, তবু চলছিল স্লোগান। চলছিল সভা। পিচঢালা রাস্তায় বসে সবাই একসঙ্গে আবরার খুনের বিচার চাইছিল। ছাত্রলীগের নেতাদের মারধরে প্রাণ হারানো আবরার ফাহাদের বন্ধু, সহপাঠী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রজরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনের চতুর্মুখী রাস্তায় অবস্থান নেন। চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ হলেও তৃতীয় দিনেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কোনো ভাটা পড়েনি।

গতকাল শিক্ষার্থীরা বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে একাট্টা তাঁরা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের পর একটু বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় তাঁরা মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেন।

বুয়েটের ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছেন বুয়েটের শিক্ষকরাও। বুয়েটের চার শতাধিক শিক্ষকের মধ্যে ৩০০ শিক্ষকের জরুরি সভায় সার্বিক বিষয়ে আলোচনার পর আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন তাঁরা। পরে বুয়েট প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও চলে প্রতিবাদ কর্মসূচি। আবরার হত্যায় নিপীড়নবিরোধী অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সমাবেশ করেন দুপুরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালিত হয়।

১০ দফা দাবি, আন্দোলন চলবে : গতকাল শিক্ষার্থীদের আরো দুটি দাবি বেড়ে দাবির সংখ্যা হয়েছে ১০। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ দাবি-দাওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁদের ১০ দফার মধ্যে আছে—এখন পর্যন্ত চিহ্নিত খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যানুসারে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে চিহ্নিতদের ১১ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যেই আজীবন বহিষ্কার, মামলা চলাকালে সব খরচ ও আবরারের পরিবারের সব ক্ষতিপূরণ বহন করা হবে মর্মে ১১ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে বুয়েট কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল নোটিশ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীন স্বল্প সময়ে মামলা নিষ্পত্তি, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ছাত্রদের হালনাগাদ তথ্য জানানো, অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিশিয়াল নোটিশ প্রদান, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা।

গতকাল দুপুর ২টার মধ্যে ভিসিকে জবাবদিহি করার দাবিও জানানো হয়েছিল। তবে ভিসি ছিলেন অনুপস্থিত। তিনি আবরারের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার পথে ছিলেন ওই সময়।

শিক্ষার্থীদের দাবিনামার মধ্যে আরো আছে, আবাসিক হলগুলোয় র‌্যাগের নামে এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন বন্ধ ও জড়িত সন্ত্রাসীদের ছাত্রত্ব আগামী ১১ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে বাতিল করা, আগের সব ঘটনা জানার জন্য একটা কমন প্ল্যাটফর্ম (কোনো সাইট বা ফর্ম) গড়া, প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রুততম সময়ে বিচারের ব্যবস্থা করা ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উত্খাতের ব্যাপারে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরেবাংলা হল প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করা।

১৫তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বন্ু্লকে মেরে ফেলা হয়েছে, আবার হয়তো আরেকজনকে মারা হবে। এভাবে আর কত মায়ের বুক খালি হবে? আমরা এটা চাই না।’

ভিসির পদত্যাগ চান বুয়েটের শিক্ষকরাও : শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বুয়েটের শিক্ষকরা। গতকাল শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সভা শেষে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে ভিসির পদত্যাগসহ দাবি তুলে ধরে সমিতি। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে দাবিগুলো তুলে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ শিক্ষকের মধ্যে তিন শতাধিক শিক্ষক সভায় উপস্থিত হয়ে হলের পরিবেশ, টর্চার সেল, লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দাবি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আবরার হত্যার ঘটনায় আমরা শিক্ষকরাও দায়ী। আগের ঘটনাগুলোর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে হয়তো আবরারকে প্রাণ দিতে হতো না। আবরারের পিতা-মাতার কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।’

শিক্ষক সমিতির দাবির মধ্যে আছে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আবরার হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, হত্যাকারীদের বুয়েট থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ শাস্তির ব্যবস্থা, হল থেকে বহিরাগতদের সরিয়ে হলের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরোক্ষ রাজনীতি নিষিদ্ধ করা (এ ক্ষেত্রে সরকার ও রাজনীতিবিদদের সহায়তা প্রয়োজন বলেছেন তাঁরা), র‌্যাগিং ও নির্যাতন বন্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তির ব্যবস্থা, বুয়েটের ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করার ব্যবস্থা এবং অদক্ষতা ও নির্লিপ্ততায় ভিসির পদত্যাগ। শিক্ষক সমিতি বলেছে, ‘আবরার হত্যার দায় নিয়ে ভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তাঁকে অপসারণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।’

ভর্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম মাসুদ বলেন, বর্তমানে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তবে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় একাডেমিক কমিটিতে। পরিবর্তন করতে হলেও একাডেমিক কমিটির সভায়ই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দ্রুতই কমিটির সভা হলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মোমবাতি জ্বালিয়ে আবরারকে স্মরণ : সন্ধ্যায় বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মোমবাতি হাতে মৌন মিছিল শুরু করেন কয়েক শ শিক্ষার্থী। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।  সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মোমবাতি রেখে আবরার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর এ দিনের মতো কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সকালেও একটি মৌন মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে ১০ দফা দাবি জানান তাঁরা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা